Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৩০ মার্চ, ২০১৭

প্রকাশ : রবিবার, ২৬ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ২৫ জুন, ২০১৬ ২২:৫৮
এসপি বাবুলকে নিয়ে ধূম্রজাল
দিনভর নাটক, মধ্যরাতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক, দুপুরে মুক্তি, স্ত্রী হত্যা নিয়ে রহস্য
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা ও চট্টগ্রাম
এসপি বাবুলকে নিয়ে ধূম্রজাল

পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারকে গ্রেফতার নিয়ে ধূম্রজালের সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার দিবাগত মধ্যরাত থেকে গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে খবর আসে, স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু হত্যায় জড়িত সন্দেহে এসপি বাবুলকে আটক করা হয়েছে। কঠোর গোপনীয়তার মধ্য দিয়ে বাবুল আক্তারকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করার পর বিকালে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাকে তার বাসায় পৌঁছে দেন। এ নিয়ে গতকাল দিনভরই চলে নানা নাটক। সকালে অবশ্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল গণমাধ্যমকর্মীদের বলেছেন, হত্যার ঘটনায় বাবুলকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। অন্যদিকে বিকাল ৪টার দিকে বাবুল আক্তার বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেছেন, কে বলল আমি গ্রেফতার হয়েছি? মামলার অগ্রগতি জানানোর জন্যই আমাকে ডেকে নেওয়া হয়েছিল। এখন বাসায় ফিরেছি। তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মিতু হত্যাকাণ্ডে অংশ নেওয়া কিলার ও পরিকল্পনাকারীকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে সরাসরি কিলিং মিশনে অংশ নেওয়া তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। ইতিমধ্যে তাদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে জানা গেছে, তাদের সমন্বয়কারী ছিলেন আবু মুসা। তার সহযোগী ছিলেন নবী ও ওয়াসিম। ছেলে নিয়ে হেঁটে জিইসি মোড়ে যাওয়ার সময়ই মোটরসাইকেলে করে আসা নবী প্রথমে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করেন মিতুকে। সর্বশেষ ওয়াসিম গুলি করে মৃত্যু নিশ্চিত করে মোটরসাইকেলে দ্রুত পালিয়ে যান। কন্ট্রাক্ট কিলিংয়ের জন্য মুসা দুই লাখ টাকা পেয়েছেন। এই তিনজনই এসপি বাবুলের সোর্স হিসেবে কাজ করতেন। পরিকল্পনার পেছনে একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি ও তার এক আত্মীয়ের অংশগ্রহণও রয়েছে। তবে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি উদ্ধারের পরই রহস্য উন্মোচন হতে থাকে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা চট্টগ্রাম মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী কমিশনার মো. কামরুজ্জামান বলেন, ‘খুনিদের বিষয়ে অনেক তথ্য পেয়েছি। আশা করছি দ্রুত সুসংবাদ দিতে পারব। ’ মামলার তদন্ত-সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা বলেন, এক সপ্তাহ ধরে চট্টগ্রাম ও বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে মিতু হত্যাকাণ্ডে অংশ নেওয়া খুনিসহ মোট নয়জনকে আটক করা হয়েছে। তবে    মূল পরিকল্পনাকারীকে এখনো আটক করা যায়নি। আটকদের মধ্যে অনেকেই বাবুল আক্তারের সোর্স। আটকের পর তাদের প্রত্যেককে আলাদাভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। প্রত্যেকের কাছ থেকে আলাদা আলাদা জবানবন্দিও নেওয়া হয়। জবানবন্দিতে প্রত্যেকেই অভিন্ন তথ্য দেন। জিজ্ঞাসাবাদে হত্যায় নিজেদের সম্পৃক্ততা স্বীকার করেন তারা। প্রত্যেকেই খুনের নির্দেশদাতা হিসেবে একজনের নামই উল্লেখ করেছেন। আটক হওয়া প্রত্যেকেরই হত্যাকাণ্ডের সময় অবস্থান ছিল জিইসি এলাকায়। মোবাইল নেটওয়ার্ক ও অন্যান্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে তাদের অবস্থান নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ। পুলিশ সদর দফতরের একটি সূত্র জানিয়েছে, বাবুল আক্তারকে রাতে পুলিশ সদর দফতরে ও ডিবি কার্যালয়ে রাখা হয়েছিল। সেখানে রাতভর পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এ সময় মিতু হত্যাকারীদের জবানবন্দির ভিডিও দেখানো হয় বাবুল আক্তারকে। পরে মিতু হত্যা মামলার অগ্রগতি নিয়ে বাবুল আক্তারের সঙ্গে কথা বলেন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। সেখানে কয়েকজন সন্দেহভাজন আসামির সঙ্গে তাকে মুখোমুখি করা হয়। প্রায় ১৫ ঘণ্টা পর বাবুল আক্তারকে ঢাকার বাসায় ফিরিয়ে দেওয়া হয়। গতকাল সকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইজিপি এ বিষয়টি নিয়ে বৈঠক করেন। বৈঠকে চট্টগ্রাম পুলিশের কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল সকালে গতকাল গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, এসপি বাবুলকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তবে হঠাৎ গভীর রাতে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের কারণ সম্পর্কে তিনি কিছু বলেননি। বাবুল আক্তারের এক ঘনিষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা জানান, বাবুল আক্তার ও মিতুর মধ্যে দূরত্ব থাকতে পারে। কিন্তু এ দূরত্বের কারণে খুন করতে হবে এটি বিশ্বাসযোগ্য নয়। এদিকে বাবুল আক্তারের শ্বশুর বলেন, শুক্রবার রাতে বাবুল আক্তারকে তার শ্বশুরের বনশ্রীর বাসা থেকে আইজিপির কথা বলে ডেকে নিয়ে আসেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মতিঝিল বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) আনোয়ার হোসেন ও খিলগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মঈনুল হোসেন। ৫ জুন চট্টগ্রামে স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু খুন হওয়ার পর থেকে দুই সন্তানকে নিয়ে ঢাকায় শ্বশুরবাড়িতেই থাকছেন এসপি বাবুল। তার শ্বশুর মোশাররফ হোসেন অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ পরিদর্শক।

প্রসঙ্গত, ৫ জুন চট্টগ্রাম নগরীর জিইসির মোড় এলাকায় ছেলেকে স্কুলবাসে তুলে দিতে যাওয়ার পথে দুর্বৃত্তদের হাতে খুন হন এসপি বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু। এ ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন ও আসামিদের গ্রেফতার করছে ডিবি, র?্যাব, সিআইডি, পিবিআই ও সিটিআইসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অন্য সংস্থাগুলো।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow