Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৩ মার্চ, ২০১৭

প্রকাশ : সোমবার, ২৭ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ২৬ জুন, ২০১৬ ২২:৩৫
যাবজ্জীবন অর্থ মৃত্যু পর্যন্ত কারাদণ্ড
—প্রধান বিচারপতি
গাজীপুর প্রতিনিধি
যাবজ্জীবন অর্থ মৃত্যু পর্যন্ত কারাদণ্ড

বাংলাদেশে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের ব্যাখ্যা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে জানিয়ে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা বলেছেন, যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি বলতে আপনারা মনে করেন ৩০ বছর। প্রকৃতপক্ষে এর অপব্যাখ্যা হচ্ছে। যাবজ্জীবন অর্থ হলো একেবারে যাবজ্জীবন, রেস্ট অব দ্য লাইফ। এই দণ্ডের অর্থ দণ্ডিত ব্যক্তিকে মৃত্যু পর্যন্ত কারাগারে থাকতে হবে। গতকাল গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার পরিদর্শনে গিয়ে এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। প্রধান বিচারপতি বলেন, তবে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি জেল খাটার সময় রেয়াত  পেলেও সেটা কোনোমতেই ৩০ বছরের কম হয় না। ব্রিটিশ আমলে কারাগারগুলোতে যাবজ্জীবনের প্রশ্ন ছিল না উল্লেখ করে তিনি বলেন, তখন একেবারে দ্বীপান্তর করা হতো। আমাদের জেলকোড অনেক পুরনো। এটা নিয়ে ব্রিটিশ আমলে অনেক জগাখিচুড়ি হয়েছে। বিচারিক জীবনে নানা রায়ের কথা বলতে গিয়ে বঙ্গবন্ধু হত্যা,  জেলহত্যা, যুদ্ধাপরাধের বিচারের রায়ের কথা বলেন প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় কিছু ত্রুটি ছিল। সেগুলো আমি সংশোধন করতে পেরেছি।   জেলহত্যা মামলায় দুঃখজনক হলেও সত্যি, আমি একাই ডিসেনটিং রায় দিয়েছিলাম। সেখানে ষড়যন্ত্র ছিল প্রমাণিত হলো। কিন্তু ষড়যন্ত্রের জন্য তাদের শাস্তি হলো না, আমি স্তম্ভিত হলাম। পরিকল্পিতভাবে হত্যার জন্য যারা পরিকল্পনা করেছে, তাদের প্রত্যেকের শাস্তি হওয়া উচিত। এ সময় কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ ইফতেখার উদ্দীন, গাজীপুরের জেলা প্রশাসক এস এম আলম, হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো. মিজানুর রহমান, কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-১-এর সিনিয়র  জেল সুপার সুব্রত কুমার বালা, কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২-এর সিনিয়র জেল সুপার প্রশান্ত কুমার বণিকসহ কারাগারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে প্রধান বিচারপতি কারাগারে পৌঁছলে তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা এবং গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। পরে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২ এর অফিস কক্ষে কারাগারের ওপর নির্মিত দুটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। এ সময় প্রধান বিচারপতিকে সম্মাননা স্মারক দেওয়া হয়। প্রধান বিচারপতি পরে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২ এর অভ্যন্তরে কারা লাইব্রেরি, পাওয়ার লুম  সেকশন, কারাবন্দী পুনর্বাসন স্কুল, কারা বেকারি, প্রশিক্ষণ কক্ষ, আসবাবপত্র তৈরি স্কুল, কারা ডিজিটাল প্রিন্টিং প্রেস, গার্মেন্ট প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, দরজি প্রশিক্ষণ, সূচি শিক্ষা, হস্তশিল্প, রন্ধনশালা এবং ২০০ শয্যাবিশিষ্ট কারা হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। এরপর তিনি মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগার এবং কারা প্রদর্শনী কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। প্রধান বিচারপতি কারা অভ্যন্তরে বন্দীদের মামলাসংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যার কথা শোনেন এবং তা নিরসনের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow