Bangladesh Pratidin

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৭ অক্টোবর, ২০১৭

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৭ অক্টোবর, ২০১৭
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২৮ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ২৭ জুন, ২০১৬ ২৩:২৬
মাকে রক্ষায় খুনিদের পা ধরে শিশু মাহির
মুহাম্মদ সেলিম, চট্টগ্রাম
মাকে রক্ষায় খুনিদের পা ধরে শিশু মাহির
মাহমুদা খানম মিতু - বাবুল আক্তার

এসপি বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতুকে খুনের সময় মাকে রক্ষা করতে খুনিদের পা ধরে কান্নাকাটি করেছিল মিতুর শিশুপুত্র আক্তার মাহমুদ মাহির। এই শিশুর কান্নায়ও মন গলেনি খুনিদের।

তারা ছুরিকাঘাত ও গুলি করে মিতুর মৃত্যু নিশ্চিত করেই ঘটনাস্থল ছাড়ে। রবিবার চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম হারুনুর রশিদের আদালতে দেওয়া ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এসব কথা উল্লেখ করেন খুনের অভিযোগে গ্রেফতার আনোয়ার হোসেন ও মো. ওয়াসিম। আদালতে আনোয়ারের ১০ পৃষ্ঠার ও ওয়াসিমের ১৪ পৃষ্ঠার জবানবন্দিতে খুনের আদ্যোপান্ত বর্ণনা রয়েছে। আদালতে একটি সূত্র জবানবন্দিতে দেওয়া তথ্যগুলোর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। সূত্র জানায়, জবানবন্দিতে আনোয়ার ও ওয়াসিম বলেছেন, আবদুল নবী যখন মিতুকে ছুরিকাঘাত করেন তখন বাবুল আক্তারের ছেলে মাহির তার পা ধরে মাকে রক্ষা করতে কান্নাকাটি করে। তখন মুছা মাহিরকে টেনে নিয়ে যান। পরে তারা ছুরিকাঘাত ও গুলি করে হত্যা করেন মিতুকে। মিতুকে খুনের জন্য আবু মুছা সিকদার তাদের ভাড়া করেছেন দাবি করে দুজন জবানবন্দিতে বলেন, মুছা টাকার বিনিময়ে এ হত্যাকাণ্ডটির জন্য তাদের ভাড়া করেন। খুনের আগে তারা জানতেন না টাগের্ট ওই নারী কে। তাই তারা এ খুন করতে আগ্রহী হন। কিন্তু খুনের পর বিভিন্ন গণমাধ্যমের সংবাদ দেখে তারা নিশ্চিত হন খুন করা ওই নারী আলোচিত এসপি বাবুল আক্তারের স্ত্রী। পরে বিষয়টি জানতে মুছার কাছে ফোন করা হলে তিনি তাদের চুপ থাকতে বলেন। বেশি বাড়াবাড়ি করলে তাদের খুনের মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়া হবে বলে ধমকে দেন। পরে তারা আত্মগোপনে চলে যান। জবানবন্দিতে তারা আরও বলেছেন, খুনের আগে তারা সাতজনে বসে খুনের পরিকল্পনা করেন। সাতজন কিলিং মিশনে অংশ নেন। এরা হলেন— আবু মুছা সিকদার, আনোয়ার হোসেন, মো. ওয়াসিম, মো. রাশেদ ওরফে ভাগ্নে রাশেদ, আবদুল নবী, মোহাম্মদ শাহজাহান ও কালু। তাদের মধ্যে মুছা, নবী ও ওয়াসিম সরাসরি খুনে অংশগ্রহণ করেন। বাকিরা ব্যাকআপ টিম হিসেবে ছিলেন। ওয়াসিম জবাবন্দিতে বলেন, মুছা গুলি করেন এবং নবী ছুরিকাঘাত করেন। তিনি নিজে ফাঁকা গুলি ছোড়েন। তবে জবানবন্দিতে আরেকজন বলেন, আবদুল নবী মিতুকে ছুরিকাঘাত করেন এবং ওয়াসিম গুলি করে মিতুকে হত্যা করেন। এ হত্যাকাণ্ডে ব্যবহূত দুটি গুলি সরবরাহ করেন পুলিশের কথিত সোর্স এহতেশাম হক ওরফে হানিফুল হক ওরফে ভোলা।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow