Bangladesh Pratidin

ঢাকা, রবিবার, ২২ জানুয়ারি, ২০১৭

প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২৮ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ২৭ জুন, ২০১৬ ২৩:৩০
সীমারেখা অতিক্রম করেনি মিডিয়া
--------নাঈমুল ইসলাম খান
নিজস্ব প্রতিবেদক
সীমারেখা অতিক্রম করেনি মিডিয়া

এসপি বাবুলের বিষয়ে মিডিয়া সীমারেখা অতিক্রম করেনি, মিডিয়ার ভুলও হয়নি বলে মনে করছেন সিনিয়র সাংবাদিক নাঈমুল ইসলাম খান। তিনি বলেছেন, এসপি বাবুলের বিষয়ে প্রকাশিত সংবাদ কারও কারও কাছে ভালো নাও লাগতে পারে, অপছন্দ হতে পারে, কারও ক্ষতিও হতে পারে। সব মিলে বাবুলের বিষয়ে সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে সাংবাদিকরা অনেক ধর্যৈর পরিচয় দিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন এই মিডিয়া ব্যক্তিত্ব। গতকাল বাংলাদেশ প্রতিদিনের সঙ্গে একান্ত আলাপকালে তিনি এসব কথ বলেন। নাঈমুল ইসলাম খান বলেন, একজন পুলিশ অফিসারের স্ত্রীকে জড়িয়ে এ রকম তথ্য পরিবেশন করা হলো অথচ কাউকে তো সুস্পষ্ট করে বলতে শোনা গেল না যে, তার স্ত্রীকে জড়িয়ে যে তথ্যটা পরিবেশন করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। তিনি আরও বলেন, অনলাইন পোর্টালে বাবুল আক্তার ও তার স্ত্রীকে জড়িয়ে করা সংবাদ সম্পর্কে একটি জাতীয় দৈনিক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মতামত জানতে চাইলে তিনি বলেন, হতেও পারে। নাঈমুল ইসলাম খান বলেন, পুলিশের সোর্চ আন্ডারওয়ার্ল্ভ্রের লোকের মতোই হয়। বিশ্বস্ত হয়ে তারা কাজ করেন। কিন্তু সেই বিশ্বস্ত সোর্স অফিসারের স্ত্রীকে কোপাতে পারে? কার হুকুমে হলো? এসব কিছু পরিষ্কার করতে হবে। তিনি বলেন, সাংবাদিকদের ওপর দোষ চাপানো হচ্ছে। সাংবাদিকরা অনেক ধর্যৈর পরিচয় দিয়েছেন। তিনি বলেন, তেমনি এসপি বাবুলের স্ত্রীর পরকীয়ার বিষয়টি সাংবাদিক নিজে নিজেই লেখেননি। তার মাথায় কেউ ঢুকিয়ে দিয়েছেন। এটা হতে পারে তাকে সোর্স জানিয়েছেন। তিনি বলেন, সাংবাদিকের চ্যালেঞ্জ হলো তাকে অনেক বিপরীত জিনিসের মুখোমুখি হতে হয়। যেমন— মাকে সন্তান খুন করছে, বাবা তার মেয়েকে রেপ করছে। ভাই ভাইকে খুন করছে। তখন ব্যক্তি সাংবাদিক হিসেবে প্রচণ্ড কষ্ট পাই। আমাদের শাশ্বত ধারণা চোখের নামনে নষ্ট হয়। অনেক সময় সাংবাদিককে আসামির কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হয়।

আমরা আসলে গল্পই ছাপি এবং সেটাকে স্টোরি বলি। আপনি যদি আমাকে বলেন, এ রকম গল্প ছাপানো উচিত? আমার মনে হয়, ছাপানো উচিত। যদি একজন ব্যক্তি বলতে পারেন তাহলে কেন ছাপাব না। আমরা ছাপছি কারণ, একজন বিশিষ্ট বা দায়িত্বশীল ব্যক্তি এটা বলছেন। তিনি আরও বলেন, এই দায়িত্বশীল মানুষেরা যখন নিজের নাম গোপন রেখে আমাকে কিছু একটা বলেন, সাংবাদিক হিসেবে তখন আমরা কী করব? তখন আমরা ঝুঁকি নিই। সাংবাদিকতা একটা ঝুঁকি। আর এই ঝুঁকির জন্য মাঝেমধ্যে আমরা হয়তো ভুল করে ফেলি। হয়তো আমার সোর্সই আমাকে বিভ্রান্ত করলেন। সারা দুনিয়াতেই এমনটা ঘটে। সাংবাদিক প্রায়শ্চিত্ত করেন। কারণ, তিনি তার সোর্সের মিথ্যা তথ্যের জন্য বিপদগ্রস্ত হলেন। আবার এমন হয় সোর্স নিজেই বিভ্রান্ত হয়েছেন। হয়তো তার সোর্স তাকে বিভ্রান্ত করেছেন। পরিস্থিতির প্রতিটি দিক যদি আমরা আলাদা করে রিসার্চ, অ্যানালাইসিস করি, তাহলে কারণগুলো ব্যাখ্যা করা যাবে। তিনি বলেন, আমি একজন সোর্সের সঙ্গে কথা বলেছি, তিনি আমাকে একটা তথ্য দিয়েছেন। আমি হয়তো রিপোর্ট করছি না। কারণ আমি রিপোর্টার নই। কিন্তু জানছি। আবার আমার রিপোর্টার জানতে পারলে সেটা রিপোর্ট করতেন। সাংবাদিকের দায়িত্ব এটাই, আর কিছুই নয়। আমার রাজনৈতিক মতাদর্শ থাকতে পারে। ধরেন আপনি আওয়ামী লীগ, আমি বিএনপি। আমি বিএনপির মতাদর্শের পত্রিকায় কাজ করি। আমি ইচ্ছাকৃতভাবে আওয়ামী লীগের দুর্বল দিক তুলে ধরব, কিন্তু আমি কোনো মিথ্যা তথ্য দিতে পারব না। এটা আমি করি রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্বের কারণে। কিন্তু আমার পলিটিক্যাল বায়াস আমাকে এ অধিকার দেয়নি যে, আমি ওই দলের বিরুদ্ধে ভুল, মিথ্যা কিংবা উদ্দেশ্যমূলক তথ্য প্রকাশ করে বিভ্রান্ত করব। পুরো ব্যাপারটা অস্বাভাবিক উল্লেখ করে নাঈমুল ইসলাম খান বলেন, এসপির মতো সিনিয়র পজিশনের একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে মধ্যরাতে ডেকে, টেলিফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে তাকে ১৪-১৫ ঘণ্টা যোগাযোগবিচ্ছিন্ন করে রাখবেন। তার বাসায় কোনো খবর পর্যন্ত দিতে দেবেন না। তারপর আপনারা অন্য কিছু বলবেন, আই অ্যাম দ্য লাস্ট পারসন টু অ্যাকসেপ্ট দ্যাট। তিনি বলেন, ডেকে নিয়ে যাওয়ার পর শ্বশুরকে কেন বাবুল আক্তার একটা টেলিফোন করে বলেননি, আমি ভালো আছি। তিনি বলেন, এসপি সাহেব এখন অফিসে যান না, আবার ছুটিতেও না। তার বাসার সামনে ফোর্স রাখা হয়েছে। কিন্তু কেন? সেটা স্পষ্ট করে বলতে হবে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow