Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৩০ মার্চ, ২০১৭

প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২৮ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ২৭ জুন, ২০১৬ ২৩:৩৬
কোনো হত্যার নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার হয়নি
শফিকুল ইসলাম সোহাগ
কোনো হত্যার নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার হয়নি
অধ্যক্ষ ইউনুছ আহমাদ

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব অধ্যক্ষ মাওলানা ইউনুছ আহমাদ বলেছেন, দেশে অব্যাহতভাবে হত্যাকাণ্ড চলছে। হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, পুলিশ অফিসারের স্ত্রীসহ বিভিন্ন পেশার নারী ও পুরুষ হত্যাকাণ্ডের শিকার হচ্ছে। পত্রিকা খুললেই গুম, খুন, হত্যা, ধর্ষণ, নারী অপহরণ, নারী ধর্ষণ সংক্রান্ত খবর চোখে পড়ে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার হয়নি। তারপরও খুনের দায় বিরোধীদের ওপর চাপিয়ে প্রকৃত দোষীদের আড়াল করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এসব হত্যাকাণ্ডের পেছনের মূল শক্তি চিহ্নিত হচ্ছে না। ফলে হত্যাকাণ্ড ঘটেই চলছে। গতকাল বাংলাদেশ প্রতিদিনের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় এ কথা বলেন তিনি। ইসলামী আন্দোলনসহ নানা বিষয়ে খোলামেলা আলোচনায় জঙ্গিবাদ প্রসঙ্গে মাওলানা ইউনুছ আহমাদ বলেন, জঙ্গি দমন অভিযানের নামে সারা দেশ থেকে অনেক সাধারণ নিরীহ মানুষকে গ্রেফতার করা হয়েছে। জনমনে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। এ ধরনের ঘটনায় মানুষ চরম উদ্বিগ্ন। মাওলানা ইউনুছ আহমাদ বলেন, মানুষ ক্রমেই নৈতিকতা হারিয়ে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। প্রতিদিন মানুষ মানুষকে হত্যা করছে, গুম করছে। মা-বোনদের ধর্ষণ করছে। সামান্য অপরাধের কারণেই মানুষ মানুষকে পিটিয়ে হত্যা করছে। এটাকে মানুষের সমাজ বলা যায় না। বর্তমান সমাজ ব্যবস্থাকে আইয়্যামে জাহিলিয়াতের সঙ্গে তুলনা করা যায়। ইউনুছ আহমাদ বলেন, আত্মশুদ্ধি, সাম্য, সহমর্মিতা ও মানবীয় গুণাবলী সৃষ্টির উদাত্ত আহ্বান নিয়েই রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মাস পবিত্র রমজান আমাদের কাছে আসে। মুসলিম জাতীয় ঐতিহ্য চেতনায় এবং ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক জীবনে রমজান অতি গুরুত্বপূর্ণ। রমজান মাস পবিত্র কোরআন নাজিলের মাস, ইসলামের প্রতিষ্ঠার মাস, বিজয়ের মাস। মুসলমানের দ্বীন ও দুনিয়ার সমৃদ্ধি, পার্থিব ও আধ্যাত্মিক উন্নতি, দৈহিক ও মানবিক শ্রেষ্ঠত্ব আর গৌরব ও মর্যাদার অবিস্মরণীয় স্মৃতি বয়ে নিয়ে আসে মাহে রমজান। তিনি অপরাধমুক্ত আদর্শ রাষ্ট্র গঠনের জন্য সমাজ ও রাষ্ট্রের সর্বস্তরে কোরআনের বিধান প্রতিষ্ঠায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। শিক্ষানীতি প্রসঙ্গে ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব বলেন, বর্তমান সিলেবাস থেকে নবী রসুল (স.) ও সাহাবায়ে কেরামদের জীবনচরিত বাদ দেওয়া হয়েছে। যা ৯২ শতাংশ মুসলমানের ইমান ও আমলে চরম আঘাত। শিক্ষা আইন, শিক্ষানীতির মাধ্যমে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ধ্বংসের পাঁয়তারা চলছে। এসব অবিলম্বে বাতিল না করলে কঠোর আন্দোলন গড়ে উঠলে সরকারের আখের রক্ষা হবে না।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow