Bangladesh Pratidin

ঢাকা, সোমবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০১৭

প্রকাশ : বুধবার, ২৯ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ২৮ জুন, ২০১৬ ২৩:৩৫
একনেকে চার হাজার ৬০৬ কোটি টাকার আট প্রকল্প অনুমোদন
নিজস্ব প্রতিবেদক

কলেজ এডুকেশন ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টসহ আটটি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। এগুলো বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ হাজার ৬০৬ কোটি ৬০ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে পাওয়া যাবে ৩ হাজার ৮০৬ কোটি ৬০ লাখ ও বৈদেশিক সহায়তা থেকে ৮০০ কোটি টাকা। এদিকে এখন থেকে রাস্তা তৈরির ক্ষেত্রে চার লেনে করার পরিকল্পনা নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

রাজধানীর শেরেবাংলানগরে এনইসি সম্মেলনকক্ষে একনেক সভায় গতকাল এ অনুমোদন দেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনা। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তিনি বলেন, বাংলাদেশের জনসংখ্যা প্রায় ১৫৮ মিলিয়ন। কিন্তু কারিগরি শিক্ষায় বর্তমানে ছাত্র-ছাত্রীর অন্তর্ভুক্তির সংখ্যা মাত্র ১১ শতাংশ। উন্নয়নশীল দেশ যেমন কোরিয়া, থাইল্যান্ড ও চীনে কারিগরি শিক্ষায় ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা যথাক্রমে ৩৫, ৪৭ ও ৫০ শতাংশ। উন্নত দেশেও কারিগরি জ্ঞানসম্পন্ন জনশক্তির সংখ্যা ৫০ শতাংশের ঊর্ধ্বে। মন্ত্রী জানান, চলতি অর্থবছরে মোট ২৭৮টি প্রকল্পের বিপরীতে ২ লাখ ৬৮ হাজার ১৬৯ কোটি টাকা অনুমোদন দেওয়া হয়। গত অর্থবছরে ২১২টি প্রকল্পের বিপরীতে ১ লাখ ৬৩ হাজার ৯৯২ কোটি টাকা অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। এ ক্ষেত্রে গত অর্থবছরের চেয়ে ৬৩ শতাংশ বরাদ্দ বেড়েছে। পরিকল্পনামন্ত্রী আরও জানান, একনেকে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘শিল্পকারখানা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে জায়গা দিলে সরকারিভাবে ডে-কেয়ার সেন্টার করা হবে। এ ছাড়া এখন থেকে রাস্তা তৈরি করতে হলে চার লেনে করার পরিকল্পনা করতে হবে। ৫০ বছরের কথা চিন্তা করে এটি করতে হবে। অনুমোদিত প্রকল্পগুলো হলো— ১০০ উপজেলায় একটি করে টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ স্থাপন। এটি বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ২৮১ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপন। এর ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৭৪ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। ২০টি শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র স্থাপন। এর ব্যয় ধরা হয়েছে ৫৯ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। পাঁচদোনা-ডাঙ্গা-ঘোড়াশাল সড়ক উন্নয়ন। এর ব্যয় ধরা হয়েছে ২৬৯ কোটি ৮১ লাখ টাকা। কুড়িগ্রামের চিলমারী ও উলিপুর উপজেলা বৈরাগীর হাট ও চিলমারী বন্দর ব্রহ্মপুত্র নদের ডান তীরের ভাঙন থেকে রক্ষা। এর ব্যয় ধরা হয়েছে ২৫৬ কোটি ৯২ লাখ টাকা। উন্নতজাতের গাভী পালনের মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত মহিলাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন। এর ব্যয় ধরা হয়েছে ১৫১ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। হাতে কলমে কারিগরি প্রশিক্ষণে মহিলাদের গুরুত্ব দিয়ে বিটাকের কার্যক্রম সম্প্রসারণপূর্বক আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দারিদ্র্য বিমোচন। এর ব্যয় ধরা হয়েছে ৭১ কোটি ৯৭ লাখ টাকা। কলেজ এডুকেশন ডেভেলপমেন্ট। এর ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৪০ কোটি টাকা। কলেজ এডুকেশন প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে স্ট্র্যাটেজিক প্ল্যান উন্নতকরণের জন্য শিক্ষা সেক্টরের রিফর্মস ও কৌশল নির্ণয়, কলেজগুলোর ব্যবস্থাপনা ক্যাপাসিটি শক্তিশালীকরণ, বেসরকারি কলেজগুলোর শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি উন্নতকরণ এবং সরকারি ও বেসরকারি কলেজের অনার্স ও মাস্টার্স কোর্সের পদ্ধতি উন্নীতকরণ। ইনস্টিটিউশনাল ডেভেলপমেন্ট গ্রান্ট, যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য সরঞ্জাম, প্রশিক্ষণ, পরামর্শক সেবা এবং সাতটি যানবাহন ক্রয়।

৯০ শতাংশ এডিপি বাস্তবায়ন : চলতি অর্থবছরের (২০১৫-১৬) ১২ মাসে (জুলাই-জুন) বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) ৯০ শতাংশ বাস্তবায়িত হয়েছে। এর আগে ১১ মাসে ৬২ শতাংশ এডিপি বাস্তবায়িত হয়েছিল। গতকাল রাজধানীর  শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে একনেক সভা শেষে আরএডিপির বাস্তবায়ন অগ্রগতি প্রতিবেদন প্রকাশ করেন পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। এ সময় তিনি বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) সর্বশেষ হালনাগাদ প্রতিবেদেন তুলেন ধরেন। পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, চলতি অর্থবছরে ১২ মাসে ৯০ শতাংশ এডিপি বাস্তবায়ন হয়েছে। যেখানে গত ২০১৪-১৫ অর্থবছর বাস্তবায়িত হয়েছিল ৯১ শতাংশ। তিনি বলেন, এখনো দুটি মন্ত্রণালয়ের তথ্য পাওয়া বাকি রয়েছে। সেগুলো পেলে এডিপি বাস্তবায়ন আরও বাড়তে পারে। চলতি অর্থবছরে ব্যয় হয়েছে ৭৯ হাজার ১১৫ কোটি টাকা এবং গত অর্থবছরে খরচ হয়েছিল ৭১ হাজার ১৪০ কোটি টাকা।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow