Bangladesh Pratidin

ঢাকা, সোমবার, ২৩ অক্টোবর, ২০১৭

ঢাকা, সোমবার, ২৩ অক্টোবর, ২০১৭
প্রকাশ : শনিবার, ২ জুলাই, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ২ জুলাই, ২০১৬ ০০:১২
ঢাবিতে তুলকালাম, ভিসির গাড়ি ভাঙচুর রেজিস্ট্রারকে অব্যাহতি
বিশ্ববিদ্যালয় স্মরণিকায় লেখা ‘জিয়াউর রহমান প্রথম রাষ্ট্রপতি’
নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাবিতে তুলকালাম, ভিসির গাড়ি ভাঙচুর রেজিস্ট্রারকে অব্যাহতি
ছাত্রলীগের ক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীরা গতকাল ভিসির গাড়িতে হামলা চালান। ক্যাম্পাসে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভও করেন তারা —বাংলাদেশ প্রতিদিন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী স্মরণিকায় জিয়াউর রহমানকে দেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করায় তুলকালাম হয়েছে। প্রতিবাদে স্মরণিকার লেখক ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার রেজাউর রহমানকে কার্যালয়ে তালাবন্দী করে রাখেন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা।

বিক্ষোভ-মিছিলে উত্তাল হয়ে ওঠে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকের বাড়ি ঘেরাও করে রাখা হয়। উপাচার্য গাড়িতে থাকা অবস্থায় ভাঙচুর করা হয় সেই গাড়ি। পরে স্মরণিকার দায়িত্বে থাকা ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার রেজাউর রহমানকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতির ঘোষণা দেওয়া হয়। কিন্তু উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে আলটিমেটাম দেয় ছাত্রলীগ। উপাচার্যের বাসভবনে বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে দেওয়া হয়। রাতের মধ্যে পদত্যাগ না করলে আজ থেকে অনির্দিষ্টকাল ধর্মঘটের ঘোষণা দিয়েছে ছাত্রলীগ। জানা যায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ গতকাল একটি স্মরণিকা প্রকাশ করে। এতে ‘স্মৃতি অম্লান’ শিরোনামে উদ্যাপন কমিটির সদস্যসচিব রেজাউর রহমানের লেখা নিবন্ধে মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলের পরিচিতি তুলে ধরতে গিয়ে বলা হয়, ‘জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি’। সকালে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠান উদ্বোধন ও শোভাযাত্রা শেষে টিএসসিতে এক আলোচনা সভায় এই লেখার প্রতিবাদ জানান বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাইয়ের এক সদস্য। দাবি ওঠে লেখককে মঞ্চ থেকে নামিয়ে দেওয়ার। পরে প্রতিবাদের মুখে ভিসি অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক স্মরণিকাটি বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দেন এবং সেটি প্রকাশে গঠিত কমিটিও বাতিল ঘোষণা করেন। পরে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে গেলে সেখানে দুপুর ১২টা থেকে পৌনে ১টা পর্যন্ত তাকে তালাবন্দী করে রাখেন ছাত্রলীগের বিক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর গিয়ে তাকে উদ্ধার করেন। বিষয়টি জানাজানি হলে জুমার নামাজের পর মধুর ক্যান্টিন থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা। উপাচার্যের বাসভবনের সামনে টায়ারে আগুন লাগিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকেন তারা। বিকাল ৩টার দিকে বাসায় ঢোকার পথে বিক্ষোভের মুখে পড়েন উপাচার্য আরেফিন সিদ্দিক। এক পর্যায়ে ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা তার গাড়ির কাচ ভাঙচুর করেন। উপাচার্য গাড়ির ভিতরেই ছিলেন। এ সময় উপাচার্যের দেহরক্ষী আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন করলে নেতা-কর্মীরা আরও বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। ছাত্রলীগ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি আবিদ আল হাসান ও সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন নেতা-কর্মীদের শান্ত করার চেষ্টা করে বিফল হন। পরে উপাচার্য গাড়ি নিয়ে বাসভবনে ঢুকতে সক্ষম হন। চলতে থাকে তার পদত্যাগের দাবিতে স্লোগান। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার রেজাউর রহমানকে অব্যাহতি দিয়ে অফিস আদেশ জারি করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এতে স্বাক্ষর করেন উপ-রেজিস্ট্রার মুন্সি শামসুদ্দীন আহমেদ। নিজ বাসভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক সাংবাদিকদের বলেন, স্মরণিকায় লেখাটি রেজাউর রহমানের নিজের। যেহেতু এটা ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার রেজাউর রহমানের ‘বাইলাইন লেখা’ তাই এর দায়দায়িত্ব লেখককে বহন করতে হবে। এ কারণে রেজাউর রহমানকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। প্রায় দুই ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে বাসভবন ঘেরাও করার পর ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রারকে অব্যাহতির ঘোষণা এলে ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা উপাচার্যের বাসভবনের সামনে থেকে সরে যান। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই শুরু হয় দ্বিতীয় দফার অবস্থান কর্মসূচি। উপাচার্যকে পদত্যাগের আলটিমেটাম দেওয়া হয়। আন্দোলন মুলতবি করার পর আবার বিক্ষোভ শুরুর বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ সভাপতি আবিদ আল হাসান বলেন, ‘একটি দায়িত্বশীল পদে থেকে উপাচার্য এ দায় এড়াতে পারেন না। আমরা মনে করি, এ ঘটনার সঙ্গে তিনিও জড়িত। ’ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন বলেন, শুক্রবার (গতকাল) রাত ৮টার মধ্যে উপাচার্য পদত্যাগ না করলে শনিবার (আজ) থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘটের ঘোষণা করা হবে। আন্দোলনে থাকা ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ বলেন, এটা কোনো ছোট ভুল নয়। ওই স্মরণিকা প্রকাশের সঙ্গে সম্পৃক্ত সবার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। রাত ৯টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় ও বিশ্ববিদ্যালয় নেতাদের সঙ্গে উপাচার্যের বাসভবনে তার বৈঠক চলছিল।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow