Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : শনিবার, ২ জুলাই, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ২ জুলাই, ২০১৬ ০০:১৪
চার লেন মহাসড়ক উদ্বোধন আজ
ঢাকা-চট্টগ্রাম এবং জয়দেবপুর- ময়মনসিংহ
নিজস্ব প্রতিবেদক

আওয়ামী লীগ সরকারের বড় মেগাপ্রকল্প ঢাকা-চট্টগ্রাম এবং জয়দেবপুর-ময়মনসিংহ চার লেন মহাসড়কের উদ্বোধন হচ্ছে আজ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ প্রকল্প উদ্বোধন করবেন। রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এ উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। সেখানেই সুইচ টিপে দুই মহাসড়কে যান চলাচলের জন্য খুলে দেবেন সরকার প্রধান শেখ হাসিনা। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।  

চার লেন প্রকল্পের উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটবে এ দুই মহাসড়ক ব্যবহারকারীদের। এখন ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পৌঁছতে লাগবে মাত্র সাড়ে ৪ ঘণ্টা। জয়দেবপুর থেকে ময়মনসিংহ পৌঁছতে লাগবে মাত্র এক ঘণ্টা। দেশের অর্থনীতির লাইফলাইন হিসেবে পরিচিত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চার লেন প্রকল্পের কাজ শেষ হতে লেগেছে প্রায় ছয় বছর। ১৯২ কিলোমিটার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক চার লেন প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছিল ২০১০ সালের জানুয়ারিতে। এতে ব্যয় হয়েছে ৩ হাজার ৭৯০ কোটি টাকা। রাজধানী ঢাকার সঙ্গে ময়মনসিংহের সড়ক যোগাযোগ নির্বিঘ্ন ও নিরবচ্ছিন্ন করতে জয়দেবপুর থেকে ময়মনসিংহ পর্যন্ত সড়ক চার লেনে উন্নীত করতে প্রকল্প নেয় সরকার। ২০১০ সালের জুলাইয়ে এ প্রকল্পটি একনেক অনুমোদন দেয়। ৮৭ দশমিক ১৮ কিলোমিটার দীর্ঘ প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয় ৯৯২ কোটি টাকা। অবশ্য পরবর্তীতে একাধিকবার ব্যয় বেড়ে গিয়ে সংশোধিত প্রাক্কলিত ব্যয় গিয়ে দাঁড়ায় ১ হাজার ৮১৫ কোটি ১২ লাখ টাকা। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতরকণ প্রকল্পটি জাতীয় জনগুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত একটি প্রকল্প। বন্দরনগরী চট্টগ্রামের সঙ্গে রাজধানী ঢাকার সড়কপথে যোগাযোগ যুগোপযোগী, সহজতর, দ্রুত, যানজটমুক্ত ও উন্নততর করার লক্ষ্যে বিদ্যমান ঢাকা-চট্টগ্রাম জাতীয় মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। এ প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে ঢাকা-চট্টগ্রামের সড়ক যোগাযোগ ও পরিবহন ব্যবস্থা দ্রুততর, নিরাপদ, যানজটমুক্ত ও সহজতর হলো, যা জাতীয় অর্থনৈতিক উন্নয়নে বড় ভূমিকা বহন করবে। ঢাকা-চট্টগ্রাম জাতীয় মহাসড়কের কাঁচপুর (মুক্তিসরণি) থেকে দাউদকান্দি পর্যন্ত অংশে এক মিটার প্রশস্ত ডিভাইডারসহ চার লেনে উন্নীতকরণের কাজ ২০০৫-০৬ অর্থবছরে সমাপ্ত হয়। এ মহাসড়কের দাউকান্দি থেকে চট্টগ্রামের সিটি গেট পর্যন্ত ১৯০.৪৮ কিলোমিটার অংশকে চার লেনে প্রশস্তকরণ প্রকল্পটি এডিপিভুক্ত অনুমোদিত প্রকল্প। মোট ১৫টি প্যাকেজের মাধ্যমে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হয়েছে। এর মধ্যে সড়ক নির্মাণে ১০টি প্যাকেজ ও সেতু নির্মাণে ৩টি প্যাকেজ তথা পূর্তকাজে মোট ১৩টি প্যাকেজ, পরামর্শক প্রতিষ্ঠান বিষয়ে একটি ও আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে জনবল নিয়োগে একটি প্যাকেজ রয়েছে। তৃতীয় সংশোধিত ডিপিপি অনুযায়ী প্রকল্পের ব্যয় প্রায় ৩ হাজার ৮১৭ কোটি টাকা। প্রকল্পটিতে বাংলাদেশ সরকারের পাশাপাশি অর্থায়ন করছে জাপান ঋণ মওকুফ তহবিল-জেডিসিএফ। প্রকল্পের আওতায় যেসব নির্মাণকাজ করা হয়েছে তা হলো, ২৩টি সেতু, ২৪২টি কালভার্ট, ৩টি রেলওয়ে ওভারপাস, ১৪টি সড়ক বাইপাস, ২টি আন্ডারপাস, ৩৪টি স্টিল ফুটওভার ব্রিজ এবং ৬১টি বাস-বে নির্মাণ। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের যাত্রাবাড়ী থেকে কাঁচপুর অংশ ইতিমধ্যে আটলেনে উন্নীত করা হয়েছে। দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড গতিশীল হওয়ায় এ সড়কের ওপর যানবাহন এবং পণ্যবাহী পরিবহনের চাপ ক্রমশ বাড়ছে। এ মহাসড়কে বিদ্যমান কাঁচপুর, মেঘনা ও গোমতী সেতু তিনটি বাড়তি যানবাহনের চাপ মোকাবিলা করতে পারছে না। এ বাস্তবতায় সরকার জাইকার অর্থায়নে বিদ্যমান তিনটি সেতুর পাশে আরও নতুন তিনটি সেতুর নির্মাণকাজ শুরু করেছে। ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বিবেচনায় নিয়ে সরকার সদ্যসমাপ্ত চারলেন মহাসড়কের পাশাপাশি ঢাকা-চট্টগ্রাম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের প্রস্তুতিমূলক কাজ ইতিমধ্যে শুরু করেছে। চারলেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পটি সমাপ্ত হওয়ায় ঢাকা-চট্টগ্রামের ভ্রমণ সময় অর্ধেকে নেমে এসেছে। দীর্ঘ সময়ের পরিবর্তে এখন মাত্র চার ঘণ্টায় ঢাকা-চট্টগ্রাম যাতায়াত সম্ভব হচ্ছে। এতে যানজট লাঘবের পাশাপাশি দুর্ঘটনা ন্যূনতম পর্যায়ে নেমে আসবে। স্বল্পসময়ে যাত্রী পরিবহনের পাশাপাশি আমদানি-রপ্তানি পণ্য পরিবহন সহজতর, সাশ্রয়ী হলো।

জয়দেবপুর-ময়মনসিংহ জাতীয় মহাসড়ক : বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান শিল্পাঞ্চল গাজীপুর জেলা এবং কৃষিজাত পণ্যের ভাণ্ডার বৃহত্তম ময়মনসিংহ জেলার জনসাধারণের অর্থনৈতিক এবং সামাজিক উন্নয়নে জয়দেবপুর-ময়মনসিংহ মহাসড়ক চারলেনে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের আগে ঢাকা থেকে ময়মনসিংহ যাতায়াত করতে প্রায় চারঘণ্টা সময়ের প্রয়োজন হতো। এখন ভ্রমণসময় অর্ধেকে নেমে এসেছে। এ ছাড়া গাজীপুর শিল্পাঞ্চলের তৈরি পোশাকসহ বিভিন্ন পণ্য ও বৃহত্তর ময়মনসিংহ হতে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের অন্যান্য স্থানে পরিবহন সময় ও ব্যয় কমে এসেছে। ইতিপূর্বে জয়দেবপুর থেকে ময়মনসিংহ পর্যন্ত যাতায়াতে মাওনা চৌরাস্তার যানজট ছিল অসহনীয়। প্রকল্পের আওতায় মহাসড়কের মাওনায় একটি ফ্লাইওভার নির্মাণ করা হয়েছে। এতে বর্তমানে যানজট ছাড়াই যাত্রী ও পণ্য পরিবহন সম্ভব হচ্ছে। প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৮৭ কিলোমিটার দীর্ঘ জয়দেবপুর-ময়মনসিংহ মহাসড়কটিতে ১৫৫টি কালভার্ট, ৫টি নতুন সেতু, একটি ফ্লাইওভার, একটি রেলওভার পাস, পথচারীদের নিরাপদ সড়ক পারাপারের লক্ষ্যে চারটি স্টিল ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, সড়কটির ন্যূনতম প্রশস্ততা ২১.২ মিটার এবং বাজার ও বাণিজ্যিক অংশে প্রশস্ততা প্রায় ২৫-৩৫ মিটার। এ সড়কের বিশেষ দিক হলো বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় সড়কের ১০টি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বাস বে-সহ ৩ হাজার ৪২৫ মিটার কংক্রিট পেভমেন্ট নির্মাণ করা হয়েছে। যানবাহন চালকসহ সড়ক ব্যবহারকারীদের ভ্রমণ নিরাপদ করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সাইন সিগন্যাল স্থাপন করা হয়েছে। এতে মহাসড়কটিতে দুর্ঘটনা বর্তমানে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। মহাসড়কে ভ্রমণ আনন্দদায়ক ও পরিবেশবান্ধব করতে ঋতুর সঙ্গে মিল রেখে নানান প্রজাতির গাছ এবং ঋতুভিত্তিক ফুলগাছ রোপণ করা হয়েছে। মহাসড়কটি দৃষ্টিনন্দন করতে গাজীপুরে সংরক্ষিত বনাঞ্চল অংশে মিডিয়ান নয় মিটার প্রশস্ততায় সংরক্ষণ করা হয়েছে।   প্রকল্পটি চারটি প্যাকেজে বাস্তবায়ন করা হয়েছে। সড়ক ও জনপথ অধিদফতর এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এসডব্লিউও (পশ্চিম) যৌথভাবে অত্যন্ত নিরলসভাবে কাজ করে প্রকল্পটির কাজ শেষ প্রান্তে এসে পৌঁছেছে। মন্ত্রীর অসংখ্যবার পরিদর্শন ও নির্দেশনা, সচিবসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় আজ মহাসড়কটি প্রত্যাশিত রূপ লাভ করেছে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow