Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ২১ জানুয়ারি, ২০১৭

প্রকাশ : রবিবার, ৩ জুলাই, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ৩ জুলাই, ২০১৬ ০০:০০
আস্থা রাখুন, নির্মূল করব সন্ত্রাসীদের
নিজস্ব প্রতিবেদক
আস্থা রাখুন, নির্মূল করব সন্ত্রাসীদের
জাতির উদ্দেশে ভাষণে প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একটি নিরাপদ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় সব ভেদাভেদ ভুলে একযোগে কাজ করার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, আমাদের ওপর আস্থা রাখুন। দেশবাসীকে সঙ্গে নিয়ে যে কোনো মূল্যে আমরা ষড়যন্ত্রকারীদের চক্রান্ত প্রতিহত করব। বাংলাদেশের শান্তিপ্রিয় মানুষ ষড়যন্ত্রকারীদের কৌশল বাস্তবায়িত হতে দেবে না। সন্ত্রাসীদের সমূলে নির্মূল করে আমরা বাংলাদেশকে একটি শান্তিপূর্ণ রাষ্ট্রে পরিণত করবই, ইনশাআল্লাহ। গতকাল রাতে জাতির উদ্দেশে এক বেতার ও টিভি ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশবাসীর কাছে এ আহ্বান জানান। গত শুক্রবার রাতে রাজধানীর গুলশানের একটি রেস্তোরাঁয় সন্ত্রাসী হামলায় উদ্ভূত সংকট নিরসনের পর তার সরকারের অবস্থান তুলে ধরে এ ভাষণ দেন। প্রধানমন্ত্রী এই সন্ত্রাসী ঘটনায় নিহত জিম্মি ও পুলিশ অফিসারদের স্মরণে আজ ও আগামীকাল দুই দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেন। দৃঢ়কণ্ঠে বলেন, ত্রিশ লাখ শহীদ এবং ২ লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে অর্জিত বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব আমরা যে কোনো মূল্যে রক্ষা করতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।

রাত পৌনে ৮টায় বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতার প্রধানমন্ত্রীর এ ভাষণ প্রচার করে। বেসরকারি স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল ও বেতারে এ ভাষণ একযোগে সম্প্রচার করা হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভাষণে বলেন, কোনো ষড়যন্ত্রই আমাদের অগ্রযাত্রাকে প্রতিহত করতে পারবে না। তিনি দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, মুষ্টিমেয় বিপথগামী সন্ত্রাসীদের প্রতিহত করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। প্রধানমন্ত্রী জেলা-উপজেলা পর্যায়ে সন্ত্রাসবিরোধী কমিটি, কমিউনিটি পুলিশ এবং সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত করে সন্ত্রাস মোকাবিলায় এগিয়ে আসার উদাত্ত আহ্বান জানান। ভাষণের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশবাসীর উদ্দেশে বলেন, আপনারা জানেন, গতরাতে (শুক্রবার) কতিপয় অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী রাজধানীর গুলশানের একটি রেস্টুরেন্টে হামলা চালায়। সেখান অবস্থানরত নিরস্ত্র, বেসামরিক নাগরিকদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে এবং হত্যাকাণ্ড শুরু করে। তিনি বলেন, পবিত্র রমজান মাসে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা যখন এশা ও তারাবির নামাজের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তখন এই হামলা ধর্ম ও মানবিকতাকে অবমাননা করেছে। এই বর্বর ও কাপুরুষোচিত আক্রমণ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ বাংলাদেশে নজিরবিহীন। শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ যখন একটি আত্মমর্যাদাশীল এবং আত্মনির্ভরশীল দেশ হিসেবে বিশ্বের বুকে প্রতিষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, তখন দেশি-বিদেশি একটি চক্র বাংলাদেশের অগ্রযাত্রাকে বানচালের অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে। অস্ত্রের মুখে নিরীহ সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে এরা দেশকে একটি অকার্যকর রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত করাতে চায়। গণতান্ত্রিক পথে মানুষের মন জয় করতে ব্যর্থ হয়ে এরা সন্ত্রাসের পথ বেছে নিয়েছে। কোমলমতি যুবক-কিশোরদের ধর্মের নামে বিভ্রান্ত করে বিপথে ঠেলে দিচ্ছে। তাদের হাতে অস্ত্র তুলে দিয়ে মানুষ হত্যা করছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, হামলার সংবাদ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমার সরকার দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার উদ্যোগ নেয়। পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবিসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর সদস্যরা দ্রুত সেখানে পৌঁছায় এবং উদ্ধার অভিযান শুরু করে। পরবর্তী সময়ে সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী ও নৌবাহিনীর কমান্ডোরা অভিযানে অংশগ্রহণ করে সকালে জিম্মিদের মুক্ত করে আনে। সেখানে ৬ জন হামলাকারী ঘটনাস্থলেই নিহত হয়। তিনজন বিদেশিসহ ১৩ জন জিম্মিকে আমরা অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করতে সমর্থ হই।

প্রধানমন্ত্রী এ অভিযানে পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি, সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী, নৌবাহিনী, ফায়ার সার্ভিসসহ অন্যান্য বাহিনীর যেসব সদস্য অংশ নিয়েছেন তাদের ধন্যবাদ জানান। একই সঙ্গে বিশ্ব সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ যারা তার সরকারের সঙ্গে একাত্মতা ও সংহতি প্রকাশ করেছেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। এ ঘটনায় সন্ত্রাসীদের হাতে নিহতদের স্মরণে দুই দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, এই নৃশংস হামলায় দুজন পুলিশ সদস্য নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। আমি নিহত পুলিশ সদস্য এবং সন্ত্রাসীদের হামলায় নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। আহতরা দ্রুত আরোগ্য লাভ করুন— মহান আল্লাহতায়ালার কাছে এই প্রার্থনা করছি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, যেসব কোমলমতি যুবক-কিশোর বিপথে পরিচালিত হচ্ছেন, যারা তাদের মদদ দিচ্ছেন, তাদের কাছে আমার প্রশ্ন— মানুষকে হত্যা করে কী অর্জন করতে চান? ইসলাম শান্তির ধর্ম। ইসলামের নামে মানুষ হত্যা বন্ধ করুন। অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান, আপনার সন্তানকে সুশিক্ষা দিন। তারা যাতে বিপথে না যায় সেদিকে নজর রাখুন। বিপথগামীদের প্রতি আহ্বান আপনারা সঠিক পথে ফিরে আসুন। ইসলামের মর্যাদা সমুন্নত রাখুন। পবিত্র ইসলাম ধর্মকে কুলষিত করবেন না। সবশেষে প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীর উদ্দেশে বলেন, আসুন, আমরা সব ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে একটি নিরাপদ বাংলাদেশ, জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠায় একযোগে কাজ করি।

up-arrow