Bangladesh Pratidin

ঢাকা, সোমবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

ঢাকা, সোমবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৭
প্রকাশ : রবিবার, ১০ জুলাই, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ৯ জুলাই, ২০১৬ ২৩:৪৫
ঈদের দিন মানুষ হত্যাকারীরা ইসলামের শত্রু : প্রধানমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশে সন্ত্রাসের জায়গা হবে না। শান্তি রক্ষায় যা যা করা দরকার তার সবই করা হবে।

যারা তারাবির নামাজ না পড়ে মানুষ খুন করে কিংবা ঈদের দিন ঈদের জামাতের কাছাকাছি জায়গায় হঠাৎ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর হামলা করে তারা কখনই ইসলামে বিশ্বাস করে না। তারা ইসলামের শত্রু।

গত বৃহস্পতিবার ঈদের দিন সকালে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে সর্বস্তরের জনগণের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে এ মন্তব্য করেন তিনি। শেখ হাসিনা কলেজ অথবা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া নিখোঁজ ছেলেদের সম্পর্কে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে অবহিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন,     আমরা জেনেছি, বেশ কিছু কলেজ ও ইউনিভার্সিটির ছাত্ররা মিসিং। তাদের বাবা-মাকে বলি, আপনারা জিডি করে বসে থাকবেন না। তথ্য প্রকাশ করেন। ছবি দিন। সরকার তাদের খুঁজে বের করতে এবং বাড়িতে ফিরিয়ে নিতে প্রযুক্তিগত সহযোগিতাসহ সম্ভাব্য সবধরনের সহায়তা দেবে। আপনারা টিভি, রেডিও, মোবাইল সব ব্যবহার করে তাদের আহ্বান জানান, যেন ঘৃণ্য অপরাধের পথ ছেড়ে ঘরের ছেলে ঘরে ফিরে আসে। তাদের চিকিৎসা থেকে শুরু করে যা লাগে সে ব্যবস্থা আমরা করব। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আল্লাহর প্রতি জঙ্গিদের কোনো বিশ্বাস নেই। তারা তাদের আল্লাহর চেয়েও শক্তিশালী মনে করে। কাজেই তারা কখনো বেহেস্তে যাবে না। তারা দোজখে নিক্ষিপ্ত হবে। অন্যদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানারও কোনো অধিকার তাদের নেই। শেখ হাসিনা কিছু স্থানীয় এবং বিদেশি মানবাধিকার সংস্থার সমালোচনা করে বলেন, তারা গত কয়েক বছর কিছু যুবকের নিখোঁজের ব্যাপারে কেবল সরকারকে দোষারোপ করেই আসছে। নিখোঁজদের সম্পর্কে সরকারকে সঠিক কোনো তথ্য না দিয়ে শুধু সরকারের ওপর দোষ চাপাচ্ছে। তিনি বলেন, তারা যদি আমাদের সঠিক তথ্য দিত আমরা তাদের উদ্ধারে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নিতাম। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ধর্মান্ধরা শরিয়া আইন বাস্তবায়নের দাবি এবং মানুষের তৈরি আইনের বিরোধিতা করে। তাহলে কেন তারা তাদের লক্ষ্য অর্জনে মানুষের তৈরি অস্ত্র, বোমা, প্রযুক্তি ব্যবহার করছে? তারা ফেসবুক ও মোবাইল ব্যবহার করছে। এগুলো তো মানুষেরই তৈরি। শেখ হাসিনা বলেন, আমরা পরিষ্কার ভাষায় বলতে চাই, বাংলাদেশ সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গিবাদের স্থান হতে পারে না। সন্ত্রাসবাদ একটি বৈশ্বিক সমস্যা। এ সমস্যা মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে দায়িত্ব কাঁধে নিতে হবে এবং একসঙ্গে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, পৃথিবীতে বাংলাদেশ একমাত্র দেশ অতি অল্প সময়ে এখানে সন্ত্রাসীদের খতম করতে পেরেছি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকার সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। অথচ একটি অশুভশক্তি দেশের সব সাফল্য ব্যর্থ করার চেষ্টা চালাচ্ছে। তিনি দেশবাসীকে এ ধরনের ষড়যন্ত্র সম্পর্কে সজাগ থাকতে এবং তার সরকারের প্রতি আস্থা রাখার আহ্বান জানান। ইউনিয়ন ও জেলা-উপজেলায় সন্ত্রাসবিরোধী কমিটি করার আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, কারা বিপথে গেছে, কারা জঙ্গির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সেই তথ্য দেন। আমরা দেশবাসীর পাশে আছি। ঈদের দিন গণভবনের দরজা সবার জন্য ছিল উন্মুক্ত। এ উপলক্ষে গণভবনের বিশাল আঙ্গিনা বর্ণাঢ্য সাজে সজ্জিত করা হয়। শুরুতেই সিনিয়র আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ ও মন্ত্রিসভার সদস্যরা ফুলের তোড়া উপহার দিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানান। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, মুক্তিযোদ্ধা, আওয়ামী লীগ, সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন পেশাজীবী ও ব্যবসায়ী সংগঠন এবং দুস্থ জনগণ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। আওয়ামী লীগের সর্বপর্যায়ের নেতা-কর্মী, সরকারের মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, সংসদ সদস্যরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। আলাদা অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী সুপ্রিম কোর্টের বিচারক, পদস্থ বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তা, বিভিন্ন দেশের দূতদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। ঈদের দিন সকালে প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদপুরে মুক্তিযোদ্ধা টাওয়ারে বসবাসকারী যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের ফুল, ফল এবং মিষ্টি পাঠিয়ে শুভেচ্ছা জানান।

নিহত পুলিশ কর্মকর্তাদের পরিবারকে ঈদ উপহার : গুলশানের সন্ত্রাসী হামলায় নিহত দুই পুলিশ অফিসারের পরিবারকে এবং ওই ঘটনায় আহত ২৬ পুলিশ সদস্যকে ঈদ উপহার হিসেবে ৩২ লাখ টাকা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে তার সামরিক সচিব মেজর জেনারেল মিয়া মোহাম্মদ জয়নুল আবেদীন নিহত দুই পুলিশ কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী কমিশনার রবিউল ইসলাম এবং বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সালাউদ্দিন খানের পরিবারকে তিন লাখ টাকা করে দেন। প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিবের কাছ থেকে নিহত দুই পুলিশ কর্মকর্তার পরিবারের সদস্যরা ঈদের পোশাক ও খেলনাসামগ্রী গ্রহণ করেন। অন্যদিকে, আহত ২৬ পুলিশ সদস্যের প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow