Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : রবিবার, ১০ জুলাই, ২০১৬ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ৯ জুলাই, ২০১৬ ২৩:৪৬
আমাকেও টার্গেট করে শোলাকিয়ায় জঙ্গিরা
—মাওলানা মাসঊদ
নিজস্ব প্রতিবেদক
আমাকেও টার্গেট করে শোলাকিয়ায় জঙ্গিরা

মাওলানা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ বলেছেন, শোলাকিয়া হামলায় তাকেও হয় তো জঙ্গিরা টার্গেট করেছিল। তিনি বলেন, আমি যে পথে শোলাকিয়ায় যাই ওই পথেই বোমা ফুটেছে। তিনি জানান, তিনি হেলিকপ্টার থেকে নামার পরপরই গুলি-বোমার শব্দ শুনতে পান। শোলাকিয়া ঈদগাহর ইমাম মাওলানা মাসঊদ বলেন, আগেও হুমকি পেয়েছি এবং তিন মাস আগে আমাকে একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা সতর্ক করেছে যে, আমিও ‘আইএস’-এর টার্গেটে আছি। গতকাল বাংলাদেশ প্রতিদিনকে একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন। মাওলানা মাসঊদ মনে করেন, শোলাকিয়ার হামলা তাকে লক্ষ্য করেও হতে পারে। এটা অসম্ভব কিছু না। অনেক আগে থেকেই হুমকি পাচ্ছেন বলেও জানান তিনি। বলেন, জঙ্গিরা যেসব কাজ করছে তাতে তারা জাহান্নামে যাওয়ার পথে এগোচ্ছে, জান্নাতের পথে নয়। আলেম-ওলামাদের নিয়ে জঙ্গিবিরোধী জনমত গঠনে নেতৃত্ব দেওয়া মাওলানা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ বলেন, জঙ্গিদের মূল কর্মকৌশল হচ্ছে আতঙ্ক সৃষ্টি করা। কেননা আতঙ্কিত মানুষ প্রতিরোধ ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। তারা আতঙ্ক সৃষ্টি করতে ঈদগাহে ও মদিনা শরিফে হামলা করেছে। এ ধরনের হামলা প্রতিরোধে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আতঙ্কিত না হয়ে এসব জঙ্গি হামলা প্রতিরোধে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে। নইলে তারা এ দেশ ছারখার করে ফেলবে, যা হতে দেওয়া যাবে না। ইসলামের নামে জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদকে ‘হারাম’ আখ্যায়িত করে গত মাসে লক্ষাধিক মুফতি ও আলেম-ওলামা যে ফতোয়া দিয়েছিলেন তার নেতৃত্বে ছিলেন বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ। দীর্ঘদিন ধরে কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় দেশের বৃহত্তম এই ঈদ জামাতে ইমামতি করছেন তিনি। এর আগে সব সময় ঈদের দিন সকালে ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারে শোলাকিয়া ঈদগাহর পাশের আজিমুদ্দিন উচ্চবিদ্যালয়ের মাঠে নামতেন মাওলানা মাসঊদ, সেই স্কুলের ফটকের কাছের একটি পুলিশ চেকপোস্ট লক্ষ্য করেই বৃহস্পতিবার ঈদের দিন হামলা হয়। সেখানে নিরাপত্তার দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের ওপর বেশ কয়েকটি বোমা ছোড়া হয়। পরে হামলাকারীদের সঙ্গে পুলিশের ব্যাপক গোলাগুলি হয়। ওইদিন আজিমুদ্দিন উচ্চবিদ্যালয় মাঠে না নেমে পাশের একটি স্টেডিয়ামে নেমেছিল মাওলানা মাসঊদের হেলিকপ্টার।

শোলাকিয়ায় হামলার বিষয়ে মাওলানা মাসঊদ বলেন, শোলাকিয়ায় নামার পরপরই গুলি ও বোমার শব্দ শুনতে পাই এবং পুলিশ বলে গোলাগুলি হচ্ছে। তারা তখন তার নিরাপত্তার কথা ভেবে তাকে সার্কিট হাউসে নিয়ে যায়।

মাওলানা মাসঊদ বলেন, গোলাগুলির খবর ছড়িয়ে পড়লে বিশৃঙ্খলা হতে পারে। তাই আমার কাছে নামাজ শুরুর অনুমতি চাওয়া হয়। তবে তাদের বললাম, ‘আমি ইমামতি না করতে পারলে ভুল বার্তা যাবে যে, সন্ত্রাসীদের কাছে হার মেনে আমি যাইনি। আমি যাওয়ার জন্য প্রস্তুত আছি।’ শোলাকিয়ার ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দৃঢ় পদক্ষেপ নেওয়ায় তিনি তাদের ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, আমি ওই ঘটনার পরে আরও বলীয়ান হয়েছি। আগামীতে জঙ্গিবাদবিরোধী অবস্থান সৃষ্টি করতে জেলায় জেলায় সফর করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

জঙ্গিবাদের উত্থানের বিষয়ে মাওলানা মাসঊদ বলেন, দেশের জঙ্গিবাদের উত্থান হচ্ছে জামায়াত-শিবিরকে অবলম্বন করেই। তারা উগ্রবাদে বিশ্বাস করে। মওদুদী এ উপমহাদেশে এসবের প্রচার করেছেন। জঙ্গিবাদ দমনের আগে জামায়াত-শিবিরকে দমন করতে হবে। তাদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের উৎস বন্ধ করতে হবে। তিনি বলেন, তারা বাংলাদেশে ‘আইএস’-এর প্রক্সি দিচ্ছে। এদের সবার আদর্শ একই। তিনি বলেন, শোলাকিয়ার ঘটনায় এক ছাত্র যে মাদ্রাসার কথা বলেছে ওই মাদ্রাসাও জামায়াত-শিবির নিয়ন্ত্রিত।

তরুণ সমাজ জঙ্গিবাদের দিকে ঝুঁকে পড়ার বিষয়ে তিনি বলেন, আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও পারিবারিক ব্যর্থতার জন্য তরুণরা জঙ্গি হচ্ছে। তরুণরা সবাই একাকিত্বে ভুগছে। তারা মানুষের জন্য কিছু করতে চায়। কিন্তু সেই সুযোগ পায় না। তাই তরুণ সমাজ ইন্টারনেটে বসছে বন্ধুর খোঁজে। সেখানেই হয়তো তাদের কেউ বোঝাচ্ছে এসব জঙ্গিবাদের বিষয়ে। ইন্টারনেটে সহজে তরুণদের বিভ্রান্ত করা হচ্ছে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow