Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ১৬ ডিসেম্বর, ২০১৭

ঢাকা, শনিবার, ১৬ ডিসেম্বর, ২০১৭
প্রকাশ : সোমবার, ১১ জুলাই, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১০ জুলাই, ২০১৬ ২৩:৪৯
জিজ্ঞাসাবাদের মুখে তারা দুজন
নিজস্ব প্রতিবেদক
জিজ্ঞাসাবাদের মুখে তারা দুজন
হাসনাত - তাহমিদ

গুলশান আক্রমণের রাতে হলি আর্টিজান ক্যাফে খেতে গিয়ে জঙ্গিদের হাতে জিম্মি এবং পরে মুক্ত নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হাসনাত রেজা এ করিম ও তাহমিদ হাসিফ খান এখনো আইন প্রয়োগকারী সংস্থার হাতে আটক রয়েছেন। তাদের যৌথ জিজ্ঞাসাবাদ সেলে (জেআইসি) মুখোমুখি করা হতে পারে। জানতে চাওয়া হবে, সে রাতে জঙ্গিরা কীভাবে তাণ্ডব শুরু করেছিল এবং তাদের সঙ্গে কী ধরনের ব্যবহার করা হয়েছিল। একই সঙ্গে হাসনাত রেজা কী কারণে নর্থ সাউথ ভার্সিটির শিক্ষকতা থেকে বাদ পড়লেন তা নিয়েও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। একটি সূত্র জানিয়েছে, তাদের এখনো আটকে রাখার কারণ কিছু ভিডিও ফুটেজ। ছবিতে দেখা গেছে, হাসনাত রেজা বারান্দায় সিগারেট খাচ্ছেন আর তার পেছনে দুই জঙ্গি অস্ত্র হাতে দাঁড়িয়ে আছে। আরও কয়েকটি ফুটেজেও তাকে স্বাধীনভাবে ঘোরাফেরা করতে দেখা গেছে। তবে হাসনাত রেজার পরিবার মিডিয়াকে বলেছেন, পরিবার-পরিজন নিয়ে তারা জন্মদিনের অনুষ্ঠান পালনের জন্যই হলি আর্টিজানে গিয়েছিলেন। সঙ্গে থাকা নারীদের হিজাব পরিধানে থাকায় জঙ্গিরা তাদের কিছু করেনি। ভোরে তাদের ছেড়ে দেয়। হাসনাতের বাবা মিডিয়াকে আরও বলেছেন, তার ছেলে অপরাধী হলে সাজা পাবে, তবে পুরো বিষয়টি ভালো করে তদন্তের দাবি করেন তিনি।

অন্যদিকে তাহমিদ হাসিফ খান পড়াশোনা করতেন কানাডাতে। তার পরিবার দাবি করছে, হলি আর্টিজান ঘটনার একদিন আগে মায়ের অনুরোধে ঈদ করতেই আট দিনের জন্য তাহমিদ ঢাকায় এসেছিলেন। পড়াশোনার পাশাপাশি তাহমিদ গানবাজনা করতেন। টরেন্টোতে প্রবাসীরা সবাই তাকে গানের শিল্পী হিসেবেই চিনে-জানে। ঘটনার রাতে দুই বান্ধবীসহ তাহমিদ হলি আর্টিজানে যান। তবে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার একটি সূত্র জানায়, ছাদে প্রথমে তাকে একটি অস্ত্র হাতে ঘুরতে দেখা গেছে। কিছুক্ষণ পর দুই জঙ্গি অস্ত্র নিয়ে ছাদে ওঠে। তাহমিদের পরিবারের বক্তব্য, অস্ত্রধারী জঙ্গিরা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার অবস্থান ও ছাদে উঠলে গুলি করে কিনা তা পরখ করতেই তাহমিদের হাতে অস্ত্র দিয়ে ছাদে পাঠায়। জিম্মি অন্য সবাইও তা দেখেছে। এর মধ্যে যারা ছাড়া পেয়েছেন একই কথা বলেছেন। কিন্তু আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সূত্রমতে, ছাদে ঘুরে বেড়ানোর সময় তার চোখে ভীতির কোনো ছাপ দেখা যায়নি। যে কারণে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদে নির্দোষ প্রমাণ হলে ছেড়ে দেওয়া হবে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow