Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৯ অক্টোবর, ২০১৭

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৯ অক্টোবর, ২০১৭
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১২ জুলাই, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১১ জুলাই, ২০১৬ ২৩:৫৬
ক্যামেরনের পদত্যাগ কাল
তেরেসা হচ্ছেন নতুন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী
প্রতিদিন ডেস্ক
তেরেসা হচ্ছেন নতুন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী

নতুন প্রধানমন্ত্রী পাচ্ছে যুক্তরাজ্য। আর তিনি একজন নারী।

তেরেসা মে। ব্রেক্সিটের পর পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়া যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন আগামীকালই দায়িত্ব ছাড়ছেন। আর ক্ষমতাসীন রক্ষণশীল দলে (কনজারভেটিভ পার্টি) কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তেরেসা মে-ই প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নিতে চলেছেন।

লৌহমানবী হিসেবে খ্যাত মার্গারেট থ্যাচারের পর তেরেসাই প্রথম নারী, যিনি যুক্তরাজ্যের সরকার প্রধানের দায়িত্বে অধিষ্ঠিত হচ্ছেন।

যুক্তরাজ্যে কনজারভেটিভ পার্টির পরবর্তী নেতা নির্বাচন এবং দেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড় থেকে জ্বালানিমন্ত্রী আন্ড্রে লিডসম গতকাল হঠাৎ দাঁড়ানোয় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথ সুগম হয় তেরেসা মে’র। দলের প্রায় দেড় লাখ সদস্যের ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কথা ছিল এ দুই নারীর। এ নির্বাচনের ফল প্রকাশের কথা ছিল ৯ সেপ্টেম্বর। কিন্তু তার আগেই গতকাল লিডসম সরে দাঁড়ান। এর আগে যুক্তরাজ্যে গত ২৩ জুন অনুষ্ঠিত গণভোটে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে দেশটির বেরিয়ে যাওয়ার পক্ষ জয়ী হওয়ার পর পদত্যাগের ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন।

তিনি ইইউতে যুক্তরাজ্যের থেকে যাওয়ার পক্ষে প্রচারণা চালিয়েছিলেন। অন্যদিকে, লিডসম ইইউ থেকে যুক্তরাজ্যের বেরিয়ে যাওয়ার পক্ষে সফল প্রচার চালিয়ে জনগণের কাছে পরিচিতি পান। কিন্তু প্রতিযোগিতা থেকে সরে দাঁড়ানোর ব্যাপারে লিডসম বলেন, একটি শক্তিশালী এবং স্থিতিশীল সরকার পরিচালনার জন্য তার পক্ষে যথেষ্ট সমর্থন আছে বলে তিনি মনে করেন না।

 তার সরে দাঁড়ানোর পর ১০ নং ডাউনিং স্ট্রিটের বক্তব্যে ক্যামেরন বলেন, লিডসম প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে সঠিক কাজ করেছেন। টেরিসা মে প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন দেখে তিনি আনন্দিত।

তবে এর আগে তেরেসা সম্পর্কে এক মন্তব্য করে চরম সমালোচনার মুখে পড়েন অ্যান্ড্রিয়া লিডসম। গত রবিবার দ্য টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অ্যান্ড্রিয়া লিডসন, সন্তানের মা হওয়ার কারণে দেশের ভবিষ্যতের প্রতি তার আন্তরিকতা অন্য রকম। সন্তানের মা হওয়ার কারণে তিনি তেরেসার চেয়ে ভালো প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন। অ্যান্ড্রিয়ার এমন মন্তব্যে সমালোচনার তুমুল ঝড় ওঠে। বলা হয়, তেরেসার সন্তান না থাকার বিষয়টিকে পুঁজি করে ফায়দা লুটতে চাইছেন অ্যান্ড্রিয়া। দল থেকেই দাবি ওঠে দ্রুত তেরেসার কাছে ক্ষমা চাওয়ার। অ্যান্ড্রিয়া তার মন্তব্যের পক্ষে ব্যাখ্যা দিয়ে বললেন, তিনি ওই রকম কিছু বোঝাতে চাননি। তবে ওই আপত্তিকর মন্তব্যের জের ধরে নিজ সমর্থকদের সমালোচনার চাপে অ্যান্ড্রিয়া সরে দাঁড়িয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে।

ক্ষমতা হস্তান্তরে বেশি সময় লাগানোর দরকার নেই জানিয়ে ক্যামেরন বলেন, এ কারণে মঙ্গলবারই (আজ) তিনি মন্ত্রিসভার শেষ বৈঠক করবেন। তারপর আগামীকাল হাউস অব কমন্সে প্রধানমন্ত্রীর জন্য প্রশ্নোত্তর পর্বে হাজিরা শেষে রাজপ্রাসাদে গিয়ে পদত্যাগপত্র জমা দেবেন। ফলে এ দিন সন্ধ্যায়ই যুক্তরাজ্য নতুন প্রধানমন্ত্রী পাচ্ছে বলে জানান তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তেরেসা মে কে প্রধানমন্ত্রী পদে একজন ‘বলিষ্ঠ’ এবং ‘দক্ষ’ নেতা হিসেবে প্রশংসা করেন ক্যামেরন। যুক্তরাজ্যের আগামী দিনগুলোতে যে নেতৃত্ব প্রয়োজন তা অনেক ভালোভাবেই তেরেসা চালিয়ে নিতে পারবেন বলে আস্থা প্রকাশ করেন ক্যামেরন। টেরিসা মের প্রধানমন্ত্রী হওয়া মানে ইইউ থেকে যুক্তরাজ্যের বেরিয়ে যাওয়ার জটিল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার ভার এমন একজনের হাতে পড়ছে যিনি গণভোটে বিপক্ষে ছিলেন। তবে মে বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি ইইউ থেকে যুক্তরাজ্যের বেরিয়ে যাওয়ার বিষয়টিই নিশ্চিত করবেন। ’ এএফপি, বিবিসি।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow