Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : বুধবার, ১৩ জুলাই, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১২ জুলাই, ২০১৬ ২৩:২৪
বাসার ও শরিফুলের সন্ধানে পুলিশ
নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী

ঢাকার গুলশানে হামলার পর নিখোঁজ যুবকদের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর ১০ যুবকের সন্ধান চেয়ে বিভিন্ন থানায় জিডি ও তাদের ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন অভিভাবকরা। ওই ১০ নিখোঁজ যুবকের একজন তানোরের মোহাম্মদ বাসারুজ্জামান ওরফে আবুল বাশার। অন্যদিকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক রেজাউল করিম সিদ্দিকী খুন হওয়ার পরে বাগমারা উপজেলার শরিফুল নামে এক যুবকের নিখোঁজ থাকার বিষয়টি প্রকাশ পায়। শরিফুল রাবি ইংরেজি বিভাগেরই শিক্ষার্থী। রাজশাহীতে নিখোঁজ বাশার ও শরিফুলের বিষয়ে অনুসন্ধান চালাচ্ছে পুলিশ। পুলিশ ও পরিবারের তথ্য, বাড়ি ফিরে আসার আহ্বান জানিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর জানতে পারা যায় যে, আবুল বাশার নিখোঁজ আছেন। তিনি তানোরের লালপুর উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সিরাজ উদ্দিনের ছেলে। ঢাকা নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ধানমন্ডি শাখা থেকে লেখাপড়া করার পর বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করতেন। বিয়ে করে দুই বছরের বেশি ঢাকার তেজগাঁওয়ে শ্বশুরবাড়িতে ছিলেন। ছয়-সাত মাস আগে শ্বশুরবাড়ি থেকে নিখোঁজ হন তিনি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাশারের পরিবারের এক সদস্য জানান, ১ জুলাই গুলশানের হলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলার ঘটনার আগে নিহত পাঁচ জঙ্গি দীর্ঘদিন নিখোঁজ ছিল। এ ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে ছয়-সাত মাস ধরে নিখোঁজ বাশারের শ্বশুর ঈদের আগে ঢাকার তেজগাঁও থানায় তার সন্ধান চেয়ে জিডি করেন এবং বাড়িতে ফিরে আসার আহ্বান জানান। অভিভাবকের জিডির পর নিখোঁজ ১০ যুবকের ছবি বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় প্রকাশ পায়। এর পরই বিষয়টি জানাজানি হয়। তানোর উপজেলার লালপুর গ্রামের ধনাঢ্য ব্যক্তি ও লালপুর উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সিরাজ উদ্দিনের ছেলে বাশার দুই ভাই, এক বোনের মধ্যে বড়। সোমবার সকালে বাশারের লালপুর গ্রামের বাড়ি গিয়ে তার বাবা সিরাজ উদ্দিনকে পাওয়া যায়নি। তিনিও ছেলের খোঁজে ঢাকায় অবস্থান করছেন। বাশারের মা বানিসা বেগম ওরফে বানু জানান, বাশার ছোট থেকেই লাজুক প্রকৃতির। গ্রামে ছেলেদের সঙ্গে একটু কম মিশত। তাদের আরও একটি বাড়ি রাজশাহীতে আছে। ভালো পড়াশোনা করার জন্য ছোট থেকেই রাজশাহীতে বড় হয়েছেন বাশার। তিনি আরও জানান, সেখান থেকে এইচএসসি পাস করে উচ্চশিক্ষার জন্য ১০ বছর আগে ঢাকার নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। সেই থেকে বাশার বাড়িতে খুব কম আসতেন। এক পর্যায়ে দুই বছর আগে তেজগাঁওয়ে বিয়ে করে শ্বশুরবাড়িতেই ঘরজামাই ছিলেন। বিয়ের পর গ্রামের বাড়ি মাত্র একবার এসেছেন। তার এক বছরের একটি মেয়ে আছে। মাঝেমধ্যে আগে মোবাইলে কথা বলতেন। সাত মাস আগে বাশার দুই মাসের জন্য অফিসের কাজে মালয়েশিয়া যাচ্ছেন বলে শ্বশুরবাড়ি থেকে বিদায় হন। সেই থেকে তার আর কোনো খোঁজ নেই বা কোনো ফোনও করেননি। লালপুর গ্রামে বাশারের প্রতিবেশীরা জানান, বাশার এই গ্রামের ধনাঢ্য পরিবারের সন্তান। ছোট থেকেই তিনি শহরের বাড়ি থেকে লেখাপড়া করেছেন। গ্রামে খুব কম আসতেন। মাঝেমধ্যে এলেও গ্রামের কারও সঙ্গে সে রকম মিশতেন না এবং কথাও কম বলতেন। এ কারণে গ্রামের অনেক ছেলেই তাকে চেনে না। তানোর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবদুস সালাম জানান, তেজগাঁও থানায় জিডির পর তার গ্রামের বাড়িতে খোঁজখবর নেওয়া হয়েছে। বাশার লেখাপড়ার সুবাদে ১৫-২০ বছর ধরে বাড়ির বাইরে শহরে থেকেছেন। গ্রামে খুব কম আসতেন। তাই গ্রামের অনেকে তাকে চেনে না। দীর্ঘদিন গ্রামে না আসায় এমনকি নিজের মামাও তার বর্তমান ছবি দেখে চিনতে পারছেন না। এদিকে, এ বছর রাবির ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক রেজাউল করিম সিদ্দিকী খুনের ঘটনার পর ওই বিভাগেরই শিক্ষার্থী শরিফুল নিখোঁজ থাকার ঘটনাটি ধরা পড়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে। সে সময় ওই নিখোঁজ শিক্ষার্থীর বাবা আবদুল হাকিম ও ভাই আরিফুল ইসলামকে আটকও করে পুলিশ। রাজশাহী মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার সরদার তমিজউদ্দীন আহমেদ জানান, শরিফুলকে খোঁজার চেষ্টা করা হচ্ছে। পরিবারের দাবি, তাদের সঙ্গে শরিফুলের কোনো যোগাযোগ নেই।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow