Bangladesh Pratidin

ঢাকা, রবিবার, ১৭ ডিসেম্বর, ২০১৭

ঢাকা, রবিবার, ১৭ ডিসেম্বর, ২০১৭
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৪ জুলাই, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১৩ জুলাই, ২০১৬ ২৩:৩০
সব বিমানবন্দরে সর্বোচ্চ সতর্কতা
নিজস্ব প্রতিবেদক
সব বিমানবন্দরে সর্বোচ্চ সতর্কতা
বিমানবন্দরসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। মোতায়েন করা হয়েছে পুলিশের পাশাপাশি বিশেষায়িত বিভিন্ন সংস্থার সদস্যদের। শাহজালাল বিমানবন্দরে গতকাল কড়া প্রহরায় সিআরটি সদস্যরা —জয়ীতা রায়

সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া জঙ্গি হামলার পর দেশের সব বিমানবন্দরের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। নেওয়া হয়েছে সর্বোচ্চ সতর্কতা। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে বাড়ানো  হয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ বিমানবন্দরে কর্মরত সব বাহিনীর সদস্য। তারা পোশাকে ও সাদা পোশাকে দায়িত্ব পালন করছেন। সন্দেহভাজন ব্যক্তি, গাড়ি, ব্যাগ মেটাল ডিটেক্টর, ভেহিক্যাল স্ক্যানার ও ম্যানুয়াল চেকিংয়ের মাধ্যমে তল্লাশি করা হচ্ছে। যাত্রী ছাড়া কাউকে বিমানবন্দরের ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মনিটরিং বাড়ানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। যাত্রী ছাড়া কাউকে ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। যাত্রীদের নিয়ে আসা গাড়ি, পাসপোর্ট, টিকিট, ব্যাগ তল্লাশি করা হচ্ছে।

সন্দেহভাজন যাত্রী ও চালকদের গাড়ি থেকে নামিয়ে তল্লাশি করা হচ্ছে। এপিবিএনের ক্রাইসিস রেসপন্স টিমের (সিআরটি) সদস্যরা নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ২৪ ঘণ্টাই দায়িত্বে রয়েছে। বিমানবন্দরে দায়িত্বে থাকা সব বাহিনীর সদস্য সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। চেকপোস্ট ও মনিটরিং জোরদার করা হয়েছে। বিমানবন্দরের আশপাশে র‌্যাব-পুলিশের টহল বাড়ানো হয়েছে।

হজরত শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সমন্বয়ে এখানকার নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। বিমানবন্দরে এপিবিএন, আনসার, কাস্টমস ও গোয়েন্দা কর্মকর্তার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। বিমানবন্দর ও আশপাশের এলাকায় নিয়মিত টহল দিচ্ছে র‌্যাব-পুলিশ। এয়ারপোর্ট ম্যানেজার উইং কমান্ডার মোহাম্মদ রিয়াজুল কবির বলেন, গুলশানের হলি আর্টিজানে হামলার ঘটনার পর থেকেই শাহ আমানত বিমানবন্দরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। বিভিন্ন স্তরে লোকবল বাড়িয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো হয়েছে। দায়িত্বরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও সতর্ক রয়েছে। প্রবেশমুখে বসানো হয়েছে দুটি চেকপোস্ট। বিমান যাত্রীদের সব ধরনের লাগেজ স্ক্যান করা হচ্ছে।

বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, অতিরিক্ত ৫০ জন এপিবিএন সদস্য বাড়ানো হয়েছে। বিমানবন্দরে কাস্টমস শাখার শূন্যপদে দুজন কর্মকর্তাকে পদায়ন করা হয়। এ ছাড়া বিমানবন্দরে দায়িত্বরত সব সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এডিসি (ইমিগ্রেশন) আরেফিন জুয়েল বলেন, চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। সিলেট এমএজি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপক হাফিজ আহমদ বলেন, দেশে সাম্প্রতিক জঙ্গি হামলার ঘটনায় ওসমানী বিমানবন্দরের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সব ইউনিটের সঙ্গে বৈঠক করা হয়েছে। সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্ক থেকে দায়িত্ব পালন করতে বলা হয়েছে। সবার সমন্বয়ে নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে। গত বছরের নভেম্বর থেকে ওসমানী বিমানবন্দরে বিজিবির ৬ সদস্যকে ডগ স্কোয়াডসহ মোতায়েন করা হয়। এ স্কোয়াড এখনো দায়িত্ব পালন করছে। এ ছাড়া সিভিল অ্যাভিয়েশন কর্তৃপক্ষ ও এপিবিএন সদস্যরা নিরাপত্তার দায়িত্বে আছেন। এপিবিএনের সিনিয়র এএসপি (মিডিয়া) তানজিনা আক্তার বলেন, হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। যাত্রী ছাড়া কাউকে ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না।

কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের মহাপরিচালক ড. মইনুল খান বলেন, ৪ জুলাই থেকে কাস্টমস গোয়েন্দাদের সমন্বয়ে সব বিমানবন্দরে ‘অপারেশন আইরিন’ একটি অভিযান চালানো হচ্ছে। এর কাজ হচ্ছে অস্ত্র ও বিস্ফোরকদ্রব্য শনাক্তকরণ। এ ক্ষেত্রে র‌্যাবের ডগ স্কোয়াডের সহযোগিতা নেওয়া হচ্ছে। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বলেন, সাম্প্রতিক জঙ্গি হামলার পরিপ্রেক্ষিতে দেশের সব বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। তবে এটা রেড অ্যালার্ট নয়। কেবল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেই নয়, সব অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে।

মিরপুর স্টেডিয়ামের নিরাপত্তা জোরদার : অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের নিরাপত্তা জোরদার করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। স্টেডিয়ামের মূল ফটক দিয়ে শুধু গাড়ি প্রবেশ করতে পারবে। অন্যদের জন্য রাখা হয়েছে বিকল্প ব্যবস্থা অর্থাৎ পকেট গেট। বিসিবি কর্মকর্তা, সাংবাদিক এমনকি ক্রিকেটারদের গাড়িও চেকিংয়ের পর ঢোকানো হচ্ছে স্টেডিয়ামে। গতকাল নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত আনসার সদস্যদের চেকিং থেকে বাদ যায়নি বাংলাদেশ ওয়ানডে ও টি-২০ দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা, বিসিবির গেম ডেভেলপমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান খালেদ মাহমুদ সুজনের গাড়িও।

শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের নিরাপত্তা জোরদার করা প্রসঙ্গে বিসিবির চিফ সিকিউরিটি কো-অর্ডিনেটর মোহাম্মদ আলি বলেন, স্টেডিয়াম এলাকায় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতেই নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow