Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বুধবার, ১৮ অক্টোবর, ২০১৭

ঢাকা, বুধবার, ১৮ অক্টোবর, ২০১৭
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৪ জুলাই, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১৩ জুলাই, ২০১৬ ২৩:৩২
ব্রিটেনে নতুন প্রধানমন্ত্রী
এলেন তেরেসা গেলেন ক্যামেরন
প্রতিদিন ডেস্ক
এলেন তেরেসা গেলেন ক্যামেরন
লন্ডনে ১০ ডাউনিং স্ট্রিটে নতুন বাসিন্দা প্রধানমন্ত্রী তেরেসা গতকাল স্বামীর সঙ্গে —এএফপি

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শেষ দিনটি চরম ব্যস্ততায় কাটিয়েছেন ডেভিড ক্যামেরন। গতকাল মন্ত্রিসভার শেষ বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন তিনি।

আনুষ্ঠানিকভাবে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর পদ ত্যাগের আগে দেশটির পার্লামেন্টে শেষ প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নেন ক্যামেরন। এরপর বাকিংহাম প্যালেসে গিয়ে রানীর কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। রানী তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেন। এরপর নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন তেরেসা মে। এর আগে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে গতকাল ক্যামেরন ১৮২তম প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নেন। তেরেসা মে-কে ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছাকাছি থাকার পরামর্শ দেন তিনি। ইউরোপীয় ইউনিয়নের নাগরিকদের যুক্তরাজ্যে কাজের সুযোগ এবং স্কটল্যান্ডের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রাখার কথাও বলেন।

গতকাল পার্লামেন্টে প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নেওয়ার আগে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফকে ক্যামেরন বলেন, ‘আজ আমার পদত্যাগের পর আশা করি মানুষ একটি শক্তিশালী দেশ পাবে। দেশের সেবা করতে পেরে আমি গর্বিত। ’ ক্যামেরন বলেন, ‘দেশের সমস্যা সমাধান ও কঠিন সিদ্ধান্তের মুখোমুখি থাকা জনগণকে নেতৃত্ব দিয়ে ভালো সময়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য আমি ডাউনিং স্ট্রিটে আসি। আজ আমার পদত্যাগের পর আশা করি, মানুষ একটি শক্তিশালী দেশ পাবে, ভালো অর্থনীতি পাবে এবং জীবনে নতুন নতুন সুযোগ তৈরি হবে। ’

এদিকে নতুন প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে আলাদা করে রানীর সঙ্গে দেখা করেন। সেখানে রানী তাকে ক্ষমতা গ্রহণের জন্য প্রস্তাব দেন এবং তিনি সে প্রস্তাব গ্রহণ করে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনিই হন ব্রিটেনের দ্বিতীয় নারী প্রধানমন্ত্রী। মার্গারেট থ্যাচার ছিলেন প্রথম ব্রিটিশ নারী প্রধানমন্ত্রী। দায়িত্ব গ্রহণের পর তেরেসা মে তার মন্ত্রিপরিষদ ঘোষণা করার কথা। ব্রেক্সিট-সংক্রান্ত আলোচনার জন্য একজন মন্ত্রীকে তার নিয়োগ দেওয়ার কথা রয়েছে। আর চ্যান্সেলর অব একচেকার অর্থাৎ অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব নেবেন বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফিলিপ হ্যামন্ড। এ ছাড়া মন্ত্রিপরিষদে বেশ কয়েকজন নারীকে অন্তর্ভুক্ত করার কথা রয়েছে। তবে তাত্ক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানা যায়নি।

উল্লেখ্য, ২৩ জুন অনুষ্ঠিত গণভোটে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে যুক্তরাজ্যের বের হয়ে যাওয়ার পক্ষে রায় যাওয়ার পরপরই পদত্যাগের ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন। সেপ্টেম্বরে তার বিদায় নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নতুন নেতা নির্বাচন দ্রুত সম্পন্ন হওয়ায় ক্যামেরন বুধবারই বিদায় নেন।

নিজের সম্পর্কে তেরেসা মে : লৌহমানবী মার্গারেট থ্যাচারের পর দ্বিতীয় নারী প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে। নিজের সম্পর্কে মূল্যায়ন হলো : রাজনীতিবিদ হিসেবে ‘আকর্ষণীয়’ কোনো ব্যক্তিত্ব তিনি নন। নিজের মূল্যায়নে তিনি যেমনই হোন, পুরো বিশ্ব এখন তাকিয়ে আছে তেরেসা মের দিকে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে যুক্তরাজ্যকে বের করে তিনি কোন পথে নিয়ে যান, তাই দেখার অপেক্ষা এখন। ধর্মযাজক বাবার কন্যা তেরেসা অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ভূগোল বিষয়ে পড়া শেষ করে পেশাজীবনের শুরুতে ছিলেন ব্যাংকার।

১৯৯৭ সালে পশ্চিম লন্ডনের মেইডেনহেডে আইনজীবী হিসেবে কাজ শুরুর আগ পর্যন্ত তিনি ছিলেন ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের ফিন্যানশিয়াল কনসালট্যান্ট।

২০০২ সালে কনজারভেটিভ পার্টির চেয়ারম্যান হন মে। দলটিকে মানুষ ‘বাজে একটি দল হিসেবে দেখে’ দলীয় সম্মেলনে এমন মন্তব্য করে সে সময় আলোচনায় আসেন তিনি। ২০১০ সালে পান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব।

কেবল নিজের সম্পর্কে নয়, ব্রেক্সিট, ব্রিটেনের অর্থনীতি, বাণিজ্য, বাজারব্যবস্থা, প্রতিরক্ষা— বিভিন্ন বিষয়ে মের ভাবনা প্রকাশ পেয়েছে গত কয়েক দিনে তার বিভিন্ন বক্তব্যে।

ব্রেক্সিট : ব্রেক্সিট মানে ব্রেক্সিটই। আমি মনে করি না এখন জনগণকে ব্রেক্সিটের পক্ষে-বিপক্ষের হিসাবে দেখা উচিত। আমাদের এখন ইইউ থেকে ভালোভাবে বের হয়ে আসার কাজটি করতে হবে এবং আমি নিশ্চিত আমি তা করতে পারব।

বাণিজ্য : আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে সঠিক বিষয়ে আলোচনা করা এবং সঠিক বিষয় হচ্ছে (ইউরোপীয়দের) মুক্ত চলাচল নিয়ন্ত্রণ।

অর্থনীতি : অর্থনীতিকে অনিশ্চয়তা থেকে বের করে আনা, শক্তিশালী করা, উৎপাদনের দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধান, ভালো বেতনের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, ইইউ থেকে বেরিয়ে আসতে ব্রিটেনের পক্ষ থেকে কার্যকর শর্ত আরোপ এবং বিশ্বে ব্রিটেনের নতুন ভূমিকা তুলে ধরার পরিকল্পনাগুলো আমি আগামী দিনগুলোয় ঠিক করব।

প্রতিরক্ষা : কনজারভেটিভ দল সরকার হিসেবে শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর জোর দেবে। বিশেষ করে এখানে পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি খুব গুরুত্বপূর্ণ।

কর্পোরেট গভর্নেন্স : আমরা পুরো ব্যবস্থাই বদলে দেব। আমরা কোম্পানির পর্ষদে শুধু ভোক্তাদেরই রাখব না, সেখানে কর্মীরাও থাকবেন।

কর : প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমি ব্যক্তি খাতের এবং কর্পোরেট করখেলাপিদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাব। বিবিসি।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow