Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৪ জুলাই, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১৩ জুলাই, ২০১৬ ২৩:৩৪
শোলাকিয়া হামলা
জাহিদুলের কাছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি

শোলাকিয়ায় ঈদের দিন জঙ্গি হামলার ঘটনায় আটক জাহিদুল হক তানিম পুলিশের কাছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে। গত রবিবার থেকে তাকে ১০ দিনের পুলিশ রিমান্ডে রাখা হয়েছে। রিমান্ডে  সে কী তথ্য দিয়েছে- তা অবশ্য পুলিশ প্রকাশ করছে না।

এ ব্যাপারে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ মুর্শেদ জামান জানান, গতকাল তানিমের রিমান্ডের তৃতীয় দিন ছিল। রিমান্ডে  সে অনেক তথ্যই দিচ্ছে। তবে তদন্তের স্বার্থে এখনই এসব বলা যাচ্ছে না। তার দেওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, ঘটনার দিন র‌্যাবের হাতে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আরও একজন আটক হয়। শরীফুল ইসলাম ওরফে শফিউল ইসলাম ওরফে সাইফুল ইসলাম  নামে এই জঙ্গি এখন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। তার বিষয়ে সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মোশারফ হোসেন বলেন, পুলিশের কাছে হস্তান্তরের পর তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। কিশোরগঞ্জ র‌্যাব-১৪ এর কমান্ডিং অফিসার রাজীব কুমার দেব বলেন, শরীফুল এখনো চিকিৎসাধীন। চিকিৎসকরা তাকে সুস্থ হিসেবে ছাড়পত্র দেওয়ার পর সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জঙ্গি হামলার ঘটনায় পুলিশ শোলাকিয়া ও আশপাশের এলাকা থেকে আরও পাঁচজনকে আটক করলেও গত মঙ্গলবার তাদের বিশেষ ক্ষমতা আইনে আটক দেখিয়ে আদালতে প্রেরণ করা হয়। পরে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আবদুস ছালাম খান তাদের জেলহাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন। আটকরা হলো ভৈরবের পঞ্চবটী এলাকার তারা মিয়া, বাজিতপুরের ডুয়াইগাঁও এলাকার সোহেল মিয়া, কিশোরগঞ্জ শহরের চর শোলাকিয়া এলাকার মামুনুর রশীদ মামুন, তারাপাশা এলাকার আরিফুল ইসলাম হাবিব ও আহসান উল্লাহ। প্রসঙ্গত, ঈদের দিন শোলাকিয়া ঈদগাহের প্রায় ৪০০ গজ পশ্চিমে আজিমউদ্দিন উচ্চবিদ্যালয়ের কাছে পুলিশের চেকপোস্টে জঙ্গি হামলার ঘটনাটি ঘটে। এ সময় পুলিশের সঙ্গে জঙ্গিদের বন্দুকযুদ্ধ হয়। এতে দুই পুলিশ, চর শোলাকিয়া সবুজবাগ এলাকার এক নারী ও এক হামলাকারী নিহত হয়।

বাসা ভাড়া এক সপ্তাহ আগে : ঈদের দিন শোলাকিয়ায় হামলার ঘটনায় আটকরা এক সপ্তাহ আগে শহরের নীলগঞ্জে বাসা ভাড়া নিয়েছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে। তারা ওই বাসায় ভাড়াটিয়া হিসেবে ছিল। এরই মধ্যে পুলিশ বাসাটি তল্লাশি করেছে এবং ভাড়া নেওয়া কক্ষটি তালাবদ্ধ করেছে। এ ব্যাপারে পুলিশ আর কিছু জানায়নি। এদিকে ওই হামলার ঘটনা নিয়ে এলাকাবাসীর মাঝে নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। স্থানীয় সিপিবি নেতা রফিউল আলম চৌধুরী মিলাদ বলেন, জঙ্গি হামলায় শুধু আটক দুজনই জড়িত এমনটি মনে হয় না। তাদের পেছনে অন্য কেউ বা তাদের গডফাদার জড়িত থাকাটাই স্বাভাবিক। তিনি তাদেরও গ্রেফতারের দাবি জানান। এ বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ মুর্শেদ জামান জানান, ঘটনার তদন্ত চলছে। আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে বিস্তারিত কিছু বলতে তিনি অপারগতা প্রকাশ করেন।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow