Bangladesh Pratidin

ঢাকা, রবিবার, ২০ আগস্ট, ২০১৭

ঢাকা, রবিবার, ২০ আগস্ট, ২০১৭
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৪ জুলাই, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১৩ জুলাই, ২০১৬ ২৩:৩৫
কক্সবাজারে বিহারে বৌদ্ধভিক্ষুর ওপর হামলা, জখম
কক্সবাজার প্রতিনিধি

কক্সবাজার শহরের প্রাচীন অগ্গমেধা বৌদ্ধবিহারের ভিতর এক বৌদ্ধভিক্ষুর ওপর হামলা হয়েছে। হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন তিনি।

বিহারের জমি বিক্রির টাকার ভাগ-বাটোয়ারা এবং অভ্যন্তরীণ বিরোধের জেরে গতকাল ভোরে আরেক বৌদ্ধভিক্ষু এ হামলা করেন। হামলায় গুরুতর আহত বৌদ্ধভিক্ষু উপেনদিতা মহাথেরোকে (৭৭) কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি বৌদ্ধবিহারের ভিতরে থাকা দ্বিতলবিশিষ্ট ‘উইমাহ্লাটারা ক্যাং’য়ের ভিক্ষু। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক রফিকুল ইসলাম বলেন, উপেনদিতার মাথা কেটে গেছে। তার হাত ও পায়ে আঘাত আছে। লাঠি বা লোহার রড দিয়ে তাকে আঘাত করা হয়ে থাকতে পারে। পুলিশ ও স্থানীয় বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের লোকজনের ভাষ্য, মং য়াই ছিন নামের আরেক ভিক্ষু এ হামলা চালিয়েছেন। বিহারের জমি বিক্রির টাকার ভাগ-বাটোয়ারা এবং অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের জেরে উপেনদিতার ওপর এ হামলা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। উপেনদিতা সাংবাদিকদের কাছে বলেছেন, উইমাহ্লাটারা ক্যাংয়ের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে মং য়াই ছিনের সঙ্গে বিরোধ ছিল। সম্ভবত এ কারণে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে মং য়াই ছিন এ হামলা চালিয়েছেন। উইমাহ্লাটারা ক্যাংয়ের দ্বিতীয় তলায় গিয়ে দেখা যায়, মেঝেতে রক্তের ছড়াছড়ি। ভিক্ষু উপেনদিতার শয়নকক্ষেও রক্তের দাগ। আসবাবপত্র এলোমেলোভাবে পড়ে আছে। হামলার খবর পেয়ে আশপাশের রাখাইন সম্প্রদায়ের লোকজন বিহারে ছুটে আসেন। বিহারের নিচতলার একটি কক্ষে ভাড়া থাকেন কক্সবাজার পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী অং চাই। তার ভাষ্য, ভোরে ভিক্ষুর চিৎকারে তার ঘুম ভাঙে। দরজা খুলে ওপরে উঠতে চাইলে গেরুয়া কাপড় পরা এক ব্যক্তি তাকে বাধা দেয়। ভয় দেখিয়ে তাকে নিজ কক্ষে ফেরত পাঠানো হয়। পরে তিনি বিহার পরিচালনা কমিটির সদস্যদের মুঠোফোনে ঘটনাটি জানান। তারা ঘটনাস্থলে আসার আগেই হামলাকারী পালিয়ে যায়। রাঙামাটির খাওখালী এলাকার ৯ বছরের শিশু চাচে মারমা কয়েক বছর ধরে উপেনদিতা ভিক্ষুর সঙ্গে থেকে তার সেবা করে আসছে। চাচের ভাষ্য, ভোরে কেউ একজন এসে উপেনদিতাকে ডাকতে থাকে। দরজা খুলে দিলে লাল কাপড় পরা এক ব্যক্তিকে দেখা যায়। তিনি বিহারের ভিতরে ঢুকে উপেনদিতাকে একটি কাপড় দেন। এরপর নাশতা আনার জন্য তাকে (চাচে) টাকা ধরিয়ে বাইরে পাঠানো হয়। ফিরে এসে দেখা যায়, উপেনদিতা রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছেন। আগত লোকটিকে আর দেখা যায়নি। জেলা আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক মং টে লার ভাষ্য, বিহারের জমি নিয়ে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের দুটি পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। অভ্যন্তরীণ কোন্দলও আছে। এর জের ধরে মং য়াই ছিন এ হামলা চালিয়ে থাকতে পারেন। মং য়াই ছিন ভিক্ষু হলেও তিনি শহরের গোল দিঘিরপাড়ে একটি ভাড়া বাসায় থাকেন। সকাল ৯টার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসেন কক্সবাজারের পুলিশ সুপার শ্যামল কুমার নাথ। ঘটনা নিয়ে বৌদ্ধ (রাখাইন) সম্প্রদায়ের লোকজনের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। পরে শ্যামল কুমার নাথ বলেন, জমি বিক্রির টাকার ভাগাভাগি ও অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জের ধরে এক ভিক্ষু আরেক ভিক্ষুকে হত্যার চেষ্টা চালিয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। হামলাকারী ভিক্ষু মং য়াই ছিন ঘটনার পর থেকে পলাতক। তাকে ধরতে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে গোল দিঘিরপাড়ের বাসায় গিয়ে ভিক্ষু মং য়াই ছিনকে পাওয়া যায়নি। তার মা অংচি থাইন বলেন, ভোরে ঘর থেকে বিহারে গিয়ে আর ফেরেননি মং য়াই ছিন।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow