Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৪ জুলাই, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১৩ জুলাই, ২০১৬ ২৩:৪০
রাজধানীতে বিশাল শোডাউন
জঙ্গিমুক্ত দেশ গড়তে যুবলীগের শপথ
নিজস্ব প্রতিবেদক
জঙ্গিমুক্ত দেশ গড়তে যুবলীগের শপথ
সন্ত্রাস, নৈরাজ্য ও জঙ্গিবাদের প্রতিবাদে গতকাল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে যুবলীগের সমাবেশে শপথবাক্য পাঠ করান সংগঠনের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী —বাংলাদেশ প্রতিদিন

‘সন্ত্রাস-নৈরাজ্য-উগ্র ধর্মান্ধতা ও জঙ্গিবাদ : রুখে দাঁড়াও যুব সমাজ’— এই স্লোগানে যুব মহাসমাবেশে জঙ্গিমুক্ত দেশ গড়তে শপথ নিয়েছেন যুবলীগ নেতা-কর্মীরা। যুবলীগ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ওমর ফারুক চৌধুরী নেতা-কর্মীদের এই শপথ বাক্য পাঠ করান। বিশাল সমাবেশে যুবলীগের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ ছাড়াও সংহতি প্রকাশ করতে আসা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সব শ্রেণি-পেশার নেতারা দ্রুত প্রতিটি পাড়া-মহল্লা, গ্রাম-গঞ্জ, শহর-বন্দরে নাগরিক কমিটি গঠনের মাধ্যমে খুঁজে খুঁজে জঙ্গি-সন্ত্রাসী ও তাদের মদদদাতাদের প্রতিরোধ ও নির্মূল করার আহ্বান জানিয়েছেন। রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মানুষের ঢল নামিয়ে জঙ্গিবিরোধী এই শোডাউনের আয়োজন করে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগ। যুবলীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটের সভাপতিত্বে ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রেজার পরিচালনায় সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী। বক্তৃতা করেন আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সহকারী সাইফুজ্জামান শিখর, যুবলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য ফারুক হোসেন, মাহবুবুর রহমান হিরণ, আবদুস সাত্তার মাসুদ, আতাউর রহমান আতা, অ্যাডভোকেট বেলাল হোসেন, নিজাম উদ্দিন হাজারী এমপি, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শাবান মাহমুদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির মাকসুদ কামাল, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক নিজাম চৌধুরী, একাত্তর টিভির মোজাম্মেল বাবু, ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের সভাপতি মাইনুল হোসেন নিখিল, স্বেচ্ছাসেবক লীগের মোল্লা মো. আবু কাওছার, যুব মহিলা লীগের নাজমা আক্তার, অধ্যাপিকা অপু উকিল, ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ প্রমুখ। বিকাল ৩টার আগেই শহীদ মিনার এলাকা কানায় কানায় ভরে যায়। যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী বক্তৃতার পর নেতা-কর্মীদের শপথ বাক্য পাঠ করান। শপথ বাক্যে বলা হয়, ‘আমরা জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত এবং রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার দৃঢ় নেতৃত্বে আস্থাশীল বাংলাদেশ আওয়ামী যুব লীগের নেতা ও কর্মীবৃন্দ দৃঢ় চিত্তে শপথ করছি যে, আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশকে সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে অস্থিতিশীল করতে সাম্প্রতিক উচ্ছৃঙ্খল, সন্ত্রাসী ও উগ্র ধর্মান্ধ জঙ্গি তত্পরতার বিরুদ্ধে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার নির্দেশে দেশব্যাপী প্রতিরোধ আন্দোলন গড়ে তুলব। আমরা আরও শপথ করছি যে, রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার বিশ্ব শান্তির দর্শন ‘জনগণের ক্ষমতায়ন’ সুদৃঢ় করার মাধ্যমে এ দেশ থেকে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদকে চিরতরে মূলোৎপাটন করব। ’ 

প্রধান অতিথি কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী তার ভাষণে বলেন, আমরা বিজয়ী জাতি। জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আমরা বিজয়ী হবই। তিনি বলেন, জঙ্গিরা মানুষ না, মুসলমানও না। এরা মানুষরূপী শয়তান। এই শয়তানদের বাংলার মাটি থেকে উত্খাত করতে হবে। এই দেশে সন্ত্রাসীদের বিচারের মুখোমুখি করা হবে। আইনের মাধ্যমেই একদিন তাদের শেষ পরিণতির দিকে যেতে হবে। তিনি বলেন, শেখ হাসিনার পদভারে জঙ্গিবাদ নিশ্চিহ্ন হবে, নিষ্পেষিত হবে। শেখ হাসিনার একমাত্র দুটি পা নয়, ১৬ কোটি শান্তিকামী মানুষের পায়ের শক্তি এখন শেখ হাসিনার পায়ে, এটা তাদের বুঝতে হবে। মতিয়া বলেন, আজকের আহ্বান রুখে দাঁড়াও বাংলাদেশ। আমি অন্তরের অন্তস্থল, হৃদয়ের গভীর থেকে বিশ্বাস করি শেখ হাসিনার এই আহ্বান বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের অন্তরের আহ্বান। তাই তো দেখা গেল, যারা (জঙ্গিরা) গুলশানে ও শোলাকিয়ায় মারা গেছে, তাদের নিকটকজন তাদের লাশ আনতে যায়নি। মর্গে পড়ে থাকে ওই লাশ। লজ্জা, ঘৃণা এবং ধিক্কার জানাই ওইসব সন্তানদের। যখন ছেলের জন্য মা চোখের পানি ফেলতে পারে না লোকলজ্জার ভয়ে, ঘৃণার ভয়ে জনরোষের ভয়ে। ধিক! সেই সন্তান, ধিক! সেই জঙ্গিকে। যার মা একটু কাঁদতেও পারে না। ’ মতিয়া বলেন, কারা এই জঙ্গিকে প্রশ্রয় দিচ্ছে, লালন করছে। এই জঙ্গিবাদের বিষাক্ত দাঁত বাংলার সুজলা, সুফলা বাংলাকে আচ্ছন্ন করছে, রক্তাক্ত করছে। সিঙ্গাপুরের আদালতে চার বাংলাদেশিকে জঙ্গি অর্থায়নের দায়ে শাস্তি দেওয়ার কথা উল্লেখ করে মতিয়া বলেন, ‘গ্রাম-গঞ্জে একটা কথা আছে— এক হাঁসে নষ্ট করে সাত পুকুরের পানি। এই কয়েকজন দুষ্কর্ম করে। আর বিদেশে বাঙালিদের চাকরির বাজার সংকুচিত হয়ে যায়। আর আমাদের দিকে অঙ্গুলি নির্দেশ করা হয়। ’ পাড়া-মহল্লায় সমাজ ও রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড যারা করে তাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে সোপর্দ করার জন্য যুবলীগের নেতা-কর্মীদের নির্দেশ দেন তিনি। যুবলীগ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ওমর ফারুক চৌধুরী বলেন, দেশকে অস্থিতিশীল করে রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার সরকারকে পতন ঘটানোর চক্রান্ত চলছে। আইএস- বলতে কিছুই নেই। এসব বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার সৃষ্টি। এ জন্য যুবলীগকে সজাগ থাকতে হবে। জঙ্গিগোষ্ঠী-সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে পাড়া-মহল্লায় জনপ্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। তিনি বলেন, খালেদা জিয়া একদিকে সরকারের পদত্যাগ দাবি করেন, অন্যদিকে সন্ত্রাসের প্রশ্নে জাতীয় ঐক্যের সংলাপ চাচ্ছেন। তিনি আসলে নিজেকে বাঁচাতেই ঐক্য গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার সঙ্গে কোনো ঐক্য হতে পারে না। তিনি মানুষ পুড়িয়ে মেরে সরকার পতন ঘটনাতে পারেননি, এখন জঙ্গি হামলা করে দেশকে অস্থিতিশীল করতে চাইছেন। কিন্তু তার স্বপ্ন পূরণ হবে না। যুবলীগ চেয়ারম্যান বলেন, খালেদা জিয়াকে আর্জেন্টিনার ইসাবেলা পেরণের মতো গণহত্যার দায়ে কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে আসুন জনমত সৃষ্টি করি। ফেনী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন হাজারী বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ফেনীতে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে বলেন, আপনি (খালেদা) ফেনীর মেয়ে হিসেবে নিজ জেলার একটুও উন্নয়ন করেননি। অথচ আপনি দুবারের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। আপনি জঙ্গিদের নেত্রী। আজকে এই পবিত্র শহীদ মিনারে দাঁড়িয়ে আপনাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করলাম। যতদিন আপনি জঙ্গিবাদ না ছাড়বেন, ততদিন আপনাকে ফেনীতে ঢুকতে দেওয়া হবে না। ফেনীর মাটি আওয়ামী লীগের ঘাঁটি।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow