Bangladesh Pratidin

ঢাকা, সোমবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

ঢাকা, সোমবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৭
প্রকাশ : শনিবার, ১৬ জুলাই, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১৫ জুলাই, ২০১৬ ২৩:৪৯
পটিয়ার পিকলু দাসের জঙ্গি হওয়ার কাহিনী
প্রতিদিন ডেস্ক
পটিয়ার পিকলু দাসের জঙ্গি হওয়ার কাহিনী

জঙ্গি কার্যক্রমে লিপ্ত মুসয়াব ইবনে উমায়ের চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার ছনহরা ইউনিয়নের মহাজনবাড়ির অরুণ কান্তি দাশের পুত্র পিকলু দাশ। সে আনসারউল্লাহ বাংলা টিমের একজন সদস্য।

চট্টগ্রামের বিভিন্ন মিল-কারখানায় কর্মরত বিদেশি নাগরিক, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীসহ বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের ওপর জঙ্গি হামলা চালানোর জন্য পিকলু দাশসহ ১০-১২ জনের একটি টিম পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নেমেছিল। ১১ জুলাই রাতে সীতাকুণ্ড উপজেলার বাড়বকুণ্ড এলাকা থেকে পিকলুসহ চারজন জঙ্গিকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এ মাসের মধ্যে এ টিমের সদস্যরা জঙ্গি হামলা চালানোর ছক কষছিল বলে পুলিশ জানায়। পিকলু দাশের মা ঝর্ণা রানী দাশ জানান, তার ২ ছেলে ও ২ মেয়ে রয়েছে। ২ ছেলের মধ্যে পিকলু দাশ সবার বড়। তার অপর ভাই স্থানীয় ষোড়শী বালা উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণিতে পড়ে। পিকলুর দুই বোনের উচ্চশিক্ষা শেষে বিয়ে হয়। তারা বর্তমানে সংসার জীবনে নিয়োজিত। বাবা অরুণ কান্তি দাশ বর্তমানে চট্টগ্রাম শহরে রেয়াজউদ্দিন বাজারে আলুর আড়তের ক্ষুদ্র ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে। পিকলুর বাবা অরুণ দাশ জানান, সে একটি আড়তে দিনে দেড়শ’ টাকা মজুরিতে চাকরি করত। সর্বশেষ ২ বছর আগে সে একটি ক্ষুদ্র আড়তের দোকান দেয়। শহরে থাকার সুবাদে অরুণ দাশ পরিবার-পরিজন নিয়ে ভাড়া বাসায় থাকত। পিকলু দাশ ২০০৭ সালে নগরীর ইসলামিয়া ডিগ্রি কলেজে এইচএসসিতে পড়াশোনা করত। এ সময় ২-৩ জন ছেলে প্রায় সময় বাসায় আসা-যাওয়া করত বলে পিকলুর মা ঝর্ণা রানী জানান। তার মায়ের দাবি চার বছর আগে পিকলু পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং বাবা-মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। বিগত দুই বছর আগে অরুণ দাশ ছনহরা মহাজনবাড়িতে তার ক্রয় করা ভূমিতে ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি দৃষ্টিনন্দন বাড়ি নির্মাণ করেন। এলাকার অনেকের ধারণা, আড়তের ব্যবসা করে লাখ টাকা ব্যয়ে ভূমি ক্রয় কিংবা সুশোভিত বাড়ি নির্মাণ করা সম্ভব নয়।

 পিকলুর জঙ্গি তত্পরতার মাধ্যমে অর্জিত অর্থ দিয়ে তার পরিবারের সদস্যরা এ ভূমি ক্রয় ও বাড়ি নির্মাণ করেছে বলে লোকজনের ধারণা। ঝর্ণা রানী জানান, ‘তিনি অনুকূল ঠাকুরের অনুসারী। হিন্দু উগ্রপন্থি সংগঠন ‘ইসকন’ (ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি ফর কৃষ্ণ কনসানসেন)-এর ভক্ত ছিল। তার মা ইসকন মন্দিরের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ও বিভিন্ন সময়ে আর্থিক সহায়তা দিয়ে থাকে। পিকলু দাশ ইসকনভক্ত হওয়ার পরও কিভাবে ধর্মান্তরিত হয়ে জঙ্গির পথে পা বাড়ায় তা নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow