Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : রবিবার, ১৭ জুলাই, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১৬ জুলাই, ২০১৬ ২৩:৩৭
অভ্যুত্থানবিরোধী মানুষ রাজপথে
আলী রীয়াজ
অভ্যুত্থানবিরোধী মানুষ রাজপথে

তুরস্কের (চলমান) সেনা অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে ইস্তানবুলে সরকারের পক্ষে যে লাখ লাখ মানুষ পথে নেমে এসেছে, তা প্রধানত সম্ভব হয়েছে প্রেসিডেন্ট এরদোগানের দেওয়া এক সাক্ষাৎকারের কারণে; সিএনএনের তুর্কি ভাষার টেলিভিশন স্টেশনকে তিনি এই সাক্ষাৎকার দেন যখন প্রায় ধরেই নেওয়া হচ্ছিল যে অভ্যুত্থান সফল হয়েছে। তখনই তিনি সাধারণ মানুষকে পথে নামতে ডাক দেন, অনুরোধ করেন বিমানবন্দরে যেতে। তার সমর্থকরা বিমানবন্দরে যাওয়ার কারণেই এরদোগান ইস্তানবুলে ফিরতে পেরেছেন। তিনি এই সাক্ষাৎকার দেন আইফোনের ফেইস টাইমের মাধ্যমে। আধুনিক যোগাযোগ প্রযুক্তির কারণে চাইলেই তথ্যের প্রবাহের ওপরে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয় না, এটা আরেকবার প্রমাণিত হলো। এ ঘটনার আরেক দিক হচ্ছে এই যে, একজন কর্তৃত্ববাদী শাসক হিসবে গত বছরগুলোয় এরদোগান গণমাধ্যমের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছেন, সাংবাদিকদের ওপর চালিয়েছেন নির্যাতন। মে মাসের গোড়ায় প্রকাশিত এক খবরে দেখা যায়, দেশের শীর্ষস্থানীয় সাংবাদিকদের প্রতি সপ্তাহেই দু-এক বার আদালতে হাজির হতে হয়। একাধিক সাংবাদিক হত্যার ঘটনাও ঘটেছে, দেশের অস্থিতিশীল দক্ষিণ-পূর্বে কুর্দি সাংবাদিকদের পেটানোর বা আটকের ঘটনা ঘটছে অহরহ। বিদেশি সাংবাদিকরা প্রতিনিয়ত লাঞ্ছনার শিকার হন অথবা তাদের জোর করে বের করে দেওয়া হয়। বিরোধীদের মালিকানাধীন গণমাধ্যম জোর করে বা কৌশলে সরকার সমর্থকদের দখলে তুলে দেওয়া হয়েছে। এরদোগানের ভরসা ছিল সরকারি গণমাধ্যমের ওপরে যারা কেবল তার গুণগানেই ব্যস্ত। কিন্তু নিয়তির পরিহাস এই যে, তার সবচেয়ে বিপদের দিনে তার সাক্ষাৎকার প্রচার করেছে দেশে চালু থাকা একটি বিদেশি গণমাধ্যম। আর সে কারণে সেনারা ‘সিএনএন টার্ক’ চ্যানেল বন্ধ করে দেয়। পরে সেটি আবার চালু হয়েছে।

লেখক : অধ্যাপক, ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটি, যুক্তরাষ্ট্র।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow