Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৩০ মার্চ, ২০১৭

প্রকাশ : সোমবার, ১৮ জুলাই, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১৭ জুলাই, ২০১৬ ২৩:০১
গণতন্ত্র রক্ষায় এখনো রাজপথে তুর্কিরা
চলছে সমাবেশের পর সমাবেশ, বরখাস্ত আড়াই হাজার বিচারক
প্রতিদিন ডেস্ক

তুরস্কে ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানের ঘটনায় ঊর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তাসহ প্রায় ৬ হাজার  সেনাসদস্যকে আটক করা হয়েছে। শুরু হয়েছে আরও ব্যাপক

ধরপাকড়। বিভিন্ন স্তরের আদালতের কয়েক হাজার বিচারক এবং বহু পদস্থ সেনাকর্তাকে ইতিমধ্যে বরখাস্ত করা হয়েছে। আর আটকদের মধ্যে জ্যেষ্ঠ এক জেনারেল রয়েছেন। দুজন সিনিয়র বিচারকও রয়েছেন গ্রেফতারের খাতায়। শুক্রবার রাতে তুরস্কে সেনাবাহিনীর একটি অংশ অভ্যুত্থানের চেষ্টা করে। কিন্তু প্রেসিডেন্ট  রিসেপ তাইয়েপ এরদোগানের আহ্বানে সাড়া দিয়ে রাজপথে নেমে আসে দেশটির জনগণ। তাদের সঙ্গে যোগ দেন গণতন্ত্রপন্থি সেনা ও পুলিশ সদস্যরা। ফলে ব্যর্থ হয় অভ্যুত্থানের চেষ্টা। এ ঘটনায় অন্তত ২৬৫ জন নিহত হয়েছেন যাদের মধ্যে ১৬১ জন গণতন্ত্রপন্থি নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ও  বেসামরিক নাগরিক। নিহত বাকিরা অভ্যুত্থানকারী। আহত হয়েছেন প্রায় দেড় হাজার মানুষ।

তুরস্কজুড়ে গণসমাবেশ : তুরস্কে সামরিক অভ্যুত্থান চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর ‘গণতন্ত্র রক্ষায়’ কর্তৃপক্ষের ডাকা সমাবেশগুলোতে ব্যাপক লোক সমাগম হয়েছে। ইস্তানবুলে ওই সমাবেশে যোগ দিয়েছের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগানও। এ সময় তাকে চাপমুক্ত লাগছিল। হাস্যময় এরদোগান সমর্থকদের উদ্দেশে বৃদ্ধাঙ্গুলি উঁচিয়ে নিজের সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘অভ্যুত্থান প্রচেষ্টাটি সেনাবাহিনীর একটি ক্ষুদ্র অংশের কাজ। সেনাবাহিনী আমাদের, ওই সমান্তরাল কাঠামোর না। আমি চিফ কমান্ডার। ’

অভিযোগের তীর যুক্তরাষ্ট্রের দিকে : গতকালের গণতন্ত্র সমাবেশে প্রেসিডেন্ট এরদোগান ওই অভ্যুত্থানের জন্য সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেন। ফলে এই দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের টানাপড়েন দেখা দিয়েছে। তিনি সমাবেশে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার উদ্দেশে বলেন, ওই অভ্যুত্থানের পেছনে মার্কিন আশ্রয়ে থাকা তুরস্কের ধর্মীয় নেতা ফতেহউল্লাহ গুলেন দায়ী। সমাবেশে এরদোগান বলেন, ওবামাকে অনেকবার গুলেনকে ফেরত দিতে বলেছি। কিন্তু ওবামা সেই অনুরোধ রাখেননি। উল্লেখ্য, গুলেন দীর্ঘদিন আমেরিকার পেনসিলভেনিয়ায় থাকলেও তুরস্কে তার প্রভাব এখনো কম নয়। ‘গুলেন মুভমেন্ট’ বলে একটা বড়সড় আন্দোলনের জন্মদাতা তিনি। তার ধর্মীয় শিক্ষাতে গণতন্ত্র আর বিজ্ঞানের ছোঁয়া থাকে। তার সমর্থকরা বিশ্বের ১০০টি দেশে হাজারখানেক স্কুল খুলে  ফেলেছেন। তুরস্কেও গুলেন ভাবাদর্শের ছোঁয়ায় তৈরি হয়েছে হাসপাতাল, ব্যাংক, খবরের কাগজ, টিভি-রেডিও স্টেশনও। এই অবিশ্বাস আর টানাপড়েনের মধ্যে থমকে দাঁড়িয়েছে আইএসবিরোধী সামরিক অভিযান। দেশটির বিমান ঘাঁটি  থেকে মার্কিন যুদ্ধবিমান উড্ডয়ন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।   পেন্টাগনের মুখপাত্র পিটার কুক মার্কিন সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, তুরস্কের দক্ষিণে সিরিয়া সীমান্তের বিমান ঘাঁটির বিদ্যুৎ সংযোগ পর্যন্ত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আর তুরস্কের অভিযোগ অস্বীকার করে পেন্টাগন থেকে জানানো হয়েছে, তুরস্ক সরকারের কাছ থেকে নতুন করে অনুমতি নেওয়ার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। এর মধ্যে সব মার্কিন যুদ্ধবিমানকে দক্ষিণের বিমানবন্দরটিতে বসিয়ে রাখা হয়েছে। এরদোগান সরকারের শ্রমমন্ত্রী প্রকাশ্যে বলেছেন, তুরস্কের সরকার উত্খাত চেষ্টার পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের হাত রয়েছে। এ অভিযোগের পর মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ম্যাব্লাট ক্যবোসগ্লুর সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন। অভ্যুত্থান চেষ্টার সময় মার্কিন সরকার এরদোগান সরকারের প্রতি তাদের সমর্থন জানিয়েছে। আর এরদোগান বলেছেন, গুলেনকে ফেরত না দেওয়ার প্রভাব বিভিন্নভাবে পড়বে। গুলেনকে তুরস্কের হাতে তুলে দেওয়ার ওপর যুক্তরাষ্ট্র দেশটির দক্ষিণের বিমান ঘাঁটি ব্যবহার করতে পারবে কি না তা নির্ভর করছে।

তবে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি বলেছেন, গুলেনের বিরুদ্ধে তুরস্ক আগে থেকেই অভিযোগ জানিয়ে আসছে। তুরস্ককে বলা হয়েছে গুলেনের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ যুক্তরাষ্ট্রের কাছে উপস্থাপন করার জন্য। কেরি বলেছেন, গুলেন যে তুরস্কের নিরাপত্তার জন্য হুমকি তার যুক্তিযুক্ত প্রমাণ দেওয়া হলে যুক্তরাষ্ট্র গুলেনের বিষয়টি ভেবে দেখবে।

সরানো হলো আড়াই হাজার বিচারক : তুরস্কের ব্যর্থ সেনা অভ্যুত্থান চেষ্টার পর আড়াই হাজারের বেশি বিচারককে দায়িত্ব  থেকে সরিয়ে দিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। শনিবার তুরস্কের সর্বোচ্চ বিচারিক কর্তৃপক্ষ হাই কাউন্সিল অব জাজেজ অ্যান্ড প্রসিকিউটর (এইচএসওয়াইকে) দুই হাজার ৭৪৫ জন বিচারককে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বলে এক টিভি প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে জানিয়েছে রয়টার্স। রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত আনাদলু সংবাদ সংস্থা জানায়, অব্যাহতি দেওয়া বিচারকদের মধ্যে এইচএসওয়াইকের পাঁচ সদস্যও রয়েছেন।

সিএনএন-লাইভে অভ্যুত্থান সফলের কৌশল শেখাচ্ছিলেন সিআইএর সাবেক গোয়েন্দারা : তুরস্কের সামরিক অভ্যুত্থান প্রচেষ্টা নিয়ে আলোচনা করতে সিএনএন-এর লাইভ অনুষ্ঠানে এসেছিলেন সাবেক সিআইএ গোয়েন্দারা। তাদের আলোচনায় প্রাধান্য পেয়েছে অভ্যুত্থানের কৌশল। আলোচনায় তখন পর্যন্ত চলমান অভিযানের ব্যর্থতাগুলোকে এমনভাবে চিহ্নিত করা হচ্ছিল, যেন মনে হচ্ছিল এই ব্যর্থতায় তারা মর্মাহত। তাদের আলোচনার ধরন দেখে মনে হচ্ছিল, তারা যেন সংস্থার ভূমিকার ধারাবাহিকতা রক্ষা করছেন অবসরে এসেও। যেন সহায়তা দিচ্ছেন একটি সামরিক অভ্যুত্থান সফল করতে। তুরস্কের অভ্যুত্থান প্রচেষ্টা ইস্যুতে সাবেক সিআইএ কর্মকর্তাদের অবস্থান ও আলোচনার পদ্ধতি নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম হাফিংটন পোস্ট।

প্রতিবেদনে বলা হয়, শুক্রবার রাতে অভ্যুত্থান প্রচেষ্টা নিয়ে আলোচনা করতে যেসব সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা সিএনএন-এ হাজির হয়েছিলেন তারা এ প্রচেষ্টাকে কৌশলগত ভুল হিসেবে উল্লেখ করেছেন। কীভাবে কাজ করলে অভ্যুত্থান সফল করা যেত তারই পরামর্শ দিয়েছেন অনেকে। এদের মধ্যে অন্তত একজনকে অভ্যুত্থান প্রচেষ্টাকারীদের ব্যর্থতা নিয়ে হতাশ বলে মনে হয়েছে। গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারকে উত্খাতের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় স্বস্তি পাওয়ার বদলে তাকে নিরাশ হতে দেখা গেছে। এএফপি, বিবিসি, গার্ডিয়ান, হাফিংটন পোস্ট।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow