Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শুক্রবার, ২০ জানুয়ারি, ২০১৭

প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৯ জুলাই, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১৮ জুলাই, ২০১৬ ২৩:১১
অভ্যুত্থান চেষ্টার শাস্তি ফাঁসি!
তুরস্কে বিচারকের পর এবার আট হাজার পুলিশ বরখাস্ত
প্রতিদিন ডেস্ক

তুরস্কে একটি ব্যর্থ অভ্যুত্থান চেষ্টার পর এর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পার্লামেন্টে মৃত্যুদণ্ডের বিধান চালু করার বিষয়টি আলোচনা করা হবে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান। তিনি একই সঙ্গে ওই ব্যর্থ অভ্যুত্থানকে ভাইরাস বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি দেশ থেকে এই ভাইরাস সমূলে উত্পাটনের কথাও বলেছেন। ২০০৪ সালে তুরস্কে মৃত্যুদণ্ড রোধ করা হয়। ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) যোগ দেওয়ার শর্ত হিসেবে সাংবিধানিকভাবে মৃত্যুদণ্ড বিলোপ করে তুরস্ক। ১৯৮৪ সাল থেকে দেশটিতে কোনো মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়নি। দেশটির রাজপথে বিক্ষোভকারীরাও মৃত্যুদণ্ড পুনরায় চালুর দাবি করেছেন। অভ্যুত্থান চেষ্টার সময় সংঘর্ষে নিহতদের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার কথা বলার সময় কেঁদে ফেলেন প্রেসিডেন্ট এরদোগান। শুক্রবার ওই ব্যর্থ অভ্যুত্থান প্রচেষ্টার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে প্রায় ছয় হাজার লোককে আটক করা হয়েছে।

আট হাজার পুলিশ সদস্য বরখাস্ত : অভ্যুত্থান চেষ্টার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে প্রায় ৮ হাজার পুলিশ সদস্যকে বরখাস্ত করা হয়েছে। এর আগে দেশটির সামরিক বাহিনী ও বিচার বিভাগের প্রায় ছয় হাজার সদস্যকে বরখাস্ত করে তুরস্ক সরকার। এর মধ্যে সেনাবাহিনীর কয়েকজন জেনারেলকেও বরখাস্ত করা হয়। এদিকে তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আনাদোলু জানিয়েছে, গতকাল দেশজুড়ে অভিযান চালিয়ে প্রায় ১০০ জেনারেল ও অ্যাডমিরালকে আটক করা হয়েছে। এসব সিদ্ধান্তের পর ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, অভ্যুত্থান চেষ্টা এরদোগানকে আইনের শাসন অমান্য করার কোনো লাইসেন্স দেয়নি। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি তুরস্কের ঘটনার বিষয়ে গণতন্ত্রের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠকের সময় কেরি বলেন, সব দিক থেকে তুরস্কের গণতান্ত্রিক নেতৃত্বের সঙ্গে আছে যুক্তরাষ্ট্র। তিনি আরও বলেন, অভ্যুত্থান চেষ্টায় যুক্ত ষড়যন্ত্রকারীদের বিচারের মুখোমুখি করার বিষয়ে আমরা অবশ্যই সমর্থন দেব। কিন্তু এ বিষয়ে আমরা সতর্ক রয়েছি। যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়ায় স্বেচ্ছায় নির্বাসিত ধর্মীয় নেতা ফেতুল্লাহ গুলেনকে এ অভ্যুত্থানের ষড়যন্ত্রকারী আখ্যায়িত করেছে তুরস্কের সরকার। তুর্কি প্রেসিডেন্ট এরদোগান, প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইলদিরিম বার বার গুলেনের নাম উচ্চারণ করেছেন। এ ছাড়া গুলেনকে তুরস্কের হাতে তুলে দিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন এরদোগান। তবে গুলেন তুরস্ক সরকারের এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, এ অভ্যুত্থান চেষ্টার সঙ্গে তার কোনো যোগসূত্র নেই। বরং তিনি পাল্টা অভিযোগ করেছেন প্রেসিডেন্ট এরদোগানই এ অভ্যুত্থানের সঙ্গে জড়িত। কৃত্রিমভাবে তিনি ওই অভ্যুত্থান ঘটিতে নিজেকে জাহির করেছেন। ব্রাসেলসে ইইউয়ের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে তুরস্কের ঘটনাপ্রবাহ আলোচ্যসূচিতে সর্বাধিক গুরুত্ব পাচ্ছে। বিশ্বের সবচেয়ে বড় সামরিক জোট ন্যাটোর সদস্য তুরস্ক। ইইউয়ের মিত্র হিসেবে স্বীকৃত দেশটি। এএফপি, বিবিসি।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow