Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৯ অক্টোবর, ২০১৭

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৯ অক্টোবর, ২০১৭
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৯ জুলাই, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১৮ জুলাই, ২০১৬ ২৩:১৯
মগজ ধোলাই করে জঙ্গিবাদে দীক্ষা দেওয়া হয়
বাদল নূর
মগজ ধোলাই করে জঙ্গিবাদে দীক্ষা দেওয়া হয়
শেখ শহীদুল ইসলাম

সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ও জাতীয় পার্টির (জেপি) মহাসচিব শেখ শহীদুল ইসলাম বলেছেন, জঙ্গিবাদ দমনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পাশাপাশি জনগণকে সম্পৃক্ত করে জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। পুলিশ প্রশাসনের তত্পরতা বৃদ্ধি করতে হবে।

তিনি বলেন, উঠতি বয়সের যুবকদের মগজ ধোলাই করে জঙ্গিবাদে দীক্ষিত করা হচ্ছে। জঙ্গিবাদ দমন করতে হলে এর মূল উৎস নিশ্চিহ্ন করা জরুরি। এদের অর্থ জোগানদাতাদের খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। মূলত অর্থদাতারাই জঙ্গিবাদের মদদদাতা। এই পশ্চাত্পদ শক্তিকে সমূলে উত্খাত করতে হবে। শুধু হামলাকারীদের হত্যা বা আটক করে এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। গতকাল বাংলাদেশ প্রতিদিনের সঙ্গে আলাপচারিতায় শেখ শহীদুল ইসলাম আরও বলেন, জঙ্গিবাদ শুধু বাংলাদেশেই নয়, সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে। বিশ্বে জঙ্গিবাদ এখন প্রধান সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত। তিনি বলেন, জঙ্গিবাদের কতগুলো রূপ রয়েছে। কখনো ধর্মীয় জঙ্গিবাদ, কখনো বর্ণবাদী জঙ্গিবাদ, কখনো বিভিন্ন দলের ও গোষ্ঠীর জঙ্গিবাদ। সব ধরনের জঙ্গিবাদই মানবতাবিরোধী কার্যক্রম এবং এর শিকার নিরস্ত্র নিরীহ সাধারণ মানুষ। সাবেক শিক্ষামন্ত্রী বলেন, যারা জঙ্গিবাদের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে তাদের সামনে কতগুলো ইস্যু উপস্থাপন করা হয় এবং লোভনীয় প্রস্তাব দেওয়া হয়। এতে কোমলমতি যুবকরা আকৃষ্ট হয়ে পড়ে। তাদের ধর্মের অপব্যাখ্যা দিয়ে ইসলামের নামে বিধর্মী হত্যায় উৎসাহী করা হয়। তাদের বলা হয় এটি জিহাদ ও পরবর্তী জীবনে বেহেশতের লোভ দেখানো হয়। অথচ ইসলামে নিরপরাধ মানুষ হত্যা করা জঘন্নতম অপরাধ। ইসলাম প্রচারের যুগে যেসব মুসলমান জিহাদে যেতেন মহানবী (সা.) তাদের প্রথমে আক্রমণ করা থেকে বিরত থাকতে বলতেন। এখন লোভ দেখিয়ে, অর্থ প্রদান করে গরিবদের এই জঘন্যতম অপরাধমূলক কাজে সম্পৃক্ত করা হয়। তাদের বিকৃত মানসিকতাসম্পন্ন করে গড়ে তোলা হয়। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংগঠন ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব স্ট্র্যাটেজিক স্টাডির কয়েকটি গবেষণা প্রতিবেদনে জানা যায়, ইসলামের নামে যে জঙ্গিবাদী তত্পরতা চলে এর মূলে কতগুলো শক্তির সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। এর মধ্যে একটি তত্ত্ব কাজ করে, তা হলো পৃথিবীর বিভিন্ন রাষ্ট্রে আল্লাহর আইন কায়েম করতে হবে। যাকে তারা হুকুমে ইলাহি বলে দাবি করে। তারা বলে, পৃথিবীতে তৈরি আইন, সংবিধান ও রাষ্ট্রীয় আইনসমূহ ইসলামবিরোধী এবং সেজন্য ইসলামী আইন প্রতিষ্ঠায় প্রয়োজনে জিহাদে অংশ নিতে হবে। এ ধরনের প্রচারণা চালিয়ে জঙ্গি তৈরি করে। প্রচার-প্রচারণার জন্য এরা সংবাদপত্রেও তাদের আস্থাভাজন গোষ্ঠী তৈরি করে। ওরা তাদের কার্যক্ষেত্র হিসেবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মাদ্রাসা, স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় এবং দারিদ্র্যপীড়িত অঞ্চল বেছে নেয়। এরা বিভিন্ন ব্যবসা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে অর্থায়নের ব্যবস্থা করে। তারা দেশের অভাবী এলাকায় জঙ্গিবাদের বিস্তার ও কার্যক্রম গড়ে তোলে। তিনি বলেন, গুলশান ও শোলাকিয়ায় হামলার পর দেশের মানুষ নিন্দা জ্ঞাপন করেছে। সন্ত্রাস প্রতিরোধে রাজনৈতিক দলগুলো তাদের আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করেছে। এখন প্রয়োজন স্ব স্ব অবস্থান থেকে জঙ্গি চিহ্নিত করা ও এটি দমনে প্রশাসনকে সাহায্য করা। অন্যদিকে জঙ্গি সৃষ্টি বন্ধে নজরদারি ও জনগণকে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে অনুপ্রাণিত করা। এ ছাড়াও যেসব সমস্যার কারণে জঙ্গিদের উত্পত্তি হয় সেগুলোর দিকে দৃষ্টি দেওয়া। আফ্রিকায় ও মধ্যপ্রাচ্যে তেল-খনিজ সম্পদ অধ্যুষিত এলাকাগুলোয় জঙ্গিবাদের বিস্তার দেখা যায়। এসব এলাকায় তেল-খনিজ সম্পদ আহরণকারী সংস্থা ও দেশ তাদের প্রভাব-প্রতিপত্তি বিস্তারে অনেক ক্ষেত্রে এই জঙ্গিদের অর্থ ও অস্ত্র দিয়ে সাহায্য করে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow