Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : বুধবার, ২০ জুলাই, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১৯ জুলাই, ২০১৬ ২৩:১১
গুলশান হামলার ভিডিও প্রকাশ, চারজন চিহ্নিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
গুলশান হামলার ভিডিও প্রকাশ, চারজন চিহ্নিত
র‌্যাবের ভিডিও ফুটেজে গুলশানে হামলাকারী এক সন্দেহভাজন

গুলশানে হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় জঙ্গি হামলার ঘটনায় সন্দেহভাজন চারজনের ভিডিও প্রকাশ করেছে এলিট ফোর্স র‌্যাব। তবে তাদের পরিচয় নিশ্চিত না হওয়ায় জনগণের সহায়তা চাওয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে র‌্যাবের ওয়েবসাইটে দেওয়া মোবাইল নম্বর অথবা নিকটস্থ র‌্যাবের ব্যাটালিয়ন অথবা ক্যাম্পে যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। গতকাল দুপুরে র‌্যাবের অনলাইন মিডিয়া সেলের ফেসবুক পৃষ্ঠায় এক মিনিট ১৯ সেকেন্ডের ওই সম্পাদিত ভিডিও প্রকাশ করা হয়।

তদন্ত সূত্র জানায়, গত ১ জুলাই গুলশান ৭৫ ও ৭৯ নম্বর সড়কে ধারণকৃত একাধিক সিসিটিভির ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ৮টা ৪৬ মিনিট-৮ সেকেন্ডে একটি সিলভার কালার গাড়ি থেকে সাদা-কালো শার্ট পরিহিত সন্দেহভাজন একজন ৭৯ নম্বর সড়কে নেমে যান। হামলার আগে ওই ব্যক্তি হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁ থেকে বের হয়ে এসে হামলার দিক নির্দেশনা দিয়েছেন বলে ধারণা তদন্ত সংশ্লিষ্টদের। সবমিলিয়ে ওই সময়ে ওই সড়কে চলাচলরত এক নারী ও তিন পুরুষকে তারা চিহ্নিত করেছেন সন্দেহভাজন হিসেবে। ধারণকৃত ভিডিও ফুটেজগুলো ১ জুলাই রাত ৮টা ৪২ থেকে ৯টার মধ্যে ধারণ করা। ওই সময়ের মধ্যেই কূটনীতিক পাড়া গুলশানের ৭৯ নম্বর সড়কে বিদেশিদের কাছে জনপ্রিয় ওই রেস্তোরাঁয় জঙ্গিরা ঢুকে অস্ত্রের মুখে সবাইকে জিম্মি করে। তাদের  মোকাবিলায় গিয়ে নিহত হন দুই পুলিশ কর্মকর্তা। এরপর জঙ্গিরা ১৭ বিদেশিসহ ২০ জনকে হত্যা করে। প্রায় ১২ ঘণ্টা পর কমান্ডো অভিযান চালিয়ে ওই  রেস্তোরাঁর নিয়ন্ত্রণ নেয় সশস্ত্রবাহিনী। ওই অভিযানে ছয় হামলাকারী নিহত এবং একজনকে আটক করা হয় বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়। ইসলামিক স্টেট (আইএস) ওই হামলার দায় স্বীকার করেছে বলে খবর এলেও বাংলাদেশের পুলিশ বলছে, হামলার পেছনে ছিল জেএমবি ও সমমনা দেশীয় জঙ্গিরা। ভিডিওর বরাত দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল সোমবার সাংবাদিকদের বলেন, জঙ্গিরা পায়ে হেঁটে এক এক করে হলি আর্টিজান বেকারিতে ঢুকেছিল। অবশ্য ভবনের এক নিরাপত্তাকর্মী এর আগে জানিয়েছিলেন, জঙ্গিরা একটি মাইক্রোবাসে করে ঢুকে অস্ত্রের মুখে সবাইকে জিম্মি করেছিল। গুলশানে নজিরবিহীন এই হামলায় জড়িতদের  বেশিরভাগ উচ্চ মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান, গত কয়েক মাস ধরে তারা নিরুদ্দেশ ছিলেন বলে পরিবারের ভাষ্য।

up-arrow