Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : বুধবার, ২০ জুলাই, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১৯ জুলাই, ২০১৬ ২৩:১২
নিখোঁজের তালিকা দীর্ঘ হচ্ছে
আনিস রহমান ও সাখাওয়াত কাওসার
নিখোঁজের তালিকা দীর্ঘ হচ্ছে

ক্রমেই দীর্ঘ হচ্ছে নিখোঁজের তালিকা। সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী ঢাকাসহ ৫০ জেলায় এই তালিকা গিয়ে ঠেকেছে ২৬২ জনে। গোয়েন্দারা বলছেন, নিখোঁজ ব্যক্তিদের বয়স ২০ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে। তাদের অনেকেই জঙ্গি তত্পরতায় জড়িয়েছেন। গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁ এবং কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় হামলার ঘটনার পর সারা দেশে বিশেষ অভিযানে নেমে এমন তথ্য পায় গোয়েন্দারা। গোয়েন্দারা বলছেন, গুলশান হামলায় নিহত জঙ্গিরা বেশ কয়েক মাস ধরে নিখোঁজ ছিল। নিখোঁজ তালিকায় থাকা যুবকদের একটি বড় অংশ এরই মধ্যে দেশের বাইরে পাড়ি জমিয়েছে বলে ধারণা তাদের। তবে তাদের কেউ কেউ দেশেই অবস্থান করছেন। সব ক্ষেত্রে নিখোঁজদের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ না করায় সঠিক তথ্য পাওয়া কঠিন হচ্ছে। এরই মধ্যে র‌্যাব মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ জঙ্গি তত্পরতায় জড়িয়েছে এমন যুবক সঠিক পথে ফিরে এলে ১০ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছেন। নিখোঁজ তালিকার ১৯৫ নম্বরে থাকা শেহজাদ রউফ ওরফে অর্ক যুক্তরাষ্ট্রের পাসপোর্টধারী পাসপোর্ট নম্বর-৪৭৬১৪৫৯৯২)। বাসা বারিধারা ১৮ নম্বর ওয়ার্ডে। তার বাবা তৌহিদ রউফ ক্যান্টনমেন্টের তালিকাভুক্ত সরবরাহকারী। গুলশান হামলায় নিহত নিবরাস ইসলামের বন্ধু। এক সময় নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন অর্ক। ড্রামার হিসেবেও খ্যাতি ছিল তার। তিন বছর আগে তার মা মারা যাওয়ার পর থেকে অনেকটা চুপচাপ হয়ে যান অর্ক। তালিকার ১৯৮ নম্বরে থাকা তাওসীফ হোসেনের বাবা ডা. আজমল হোসেন। রাজধানীর বিভিন্ন খ্যাতনামা হাসপাতালে চাকরি করলেও বর্তমানে ছেলের শোকে সারাক্ষণ বাসাতেই থাকেন। তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন, আমার এক ছেলে দুই মেয়ে। মালয়েশিয়াতে লেখাপড়া করত তাওসীফ। দেশে তার খুব একটা বন্ধু-বান্ধব ছিল না। তাওসীফের ব্যাপারে র‌্যাব-পুলিশসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে আমরা বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ করেছি। নিবরাস নিখোঁজের দিন থেকেই নিখোঁজ রয়েছে তাওসীফ।   এদিকে নিখোঁজদের মধ্যে কারা জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত চলছে বলেও জানান পুলিশ কর্মকর্তারা। ঢাকার গুলশান ও কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় ভয়াবহ জঙ্গি হামলার পর থেকে পুলিশ সদর দফতর থেকে সারা দেশে নিখোঁজ যুবক বিশেষ করে যারা বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও মাদ্রাসায় পড়া অবস্থায় পরিবার থেকে দীর্ঘদিন বিচ্ছিন্ন রয়েছে তাদের সংখ্যা ও অবস্থান নিয়ে খোঁজখবর শুরু হয়েছে। গ্রাম-উপজেলা-জেলা ও মহানগর এলাকার নিখোঁজদের বিষয়ে পুলিশ সদর দফতরে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশ্বের যেসব দেশে জঙ্গিদের অবস্থান বেশি সেসব দেশে যেসব যুবক আগে থেকে অবস্থান করছে তাদের পরিবারের কাছ থেকে তথ্য-উপাত্ত নিচ্ছে জেলা পর্যায়ের গোয়েন্দা পুলিশ। প্রাথমিক তদন্ত শেষে সন্দেহভাজন যুবকদের খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে ইমিগ্রেশন বিভাগের ডাটাবেজ থেকে।

জানা গেছে, নিখোঁজ ব্যক্তিদের মধ্যে ঢাকায় ৪৬ জন, চট্টগ্রাম ২৭ জন, যশোর ১৬, কুমিল্লা ২৩, ঝিনাইদহ ২৯, সিলেট ৫ জন, ফেনী ১১, কিশোরগঞ্জ ১১, রংপুর ৯ জন, চাপাইনবাবগঞ্জ ৪ জন, কুষ্টিয়া ৪ জন, সুনামগঞ্জ ৩ জন, কক্সবাজার ৫ জন, নারায়নগঞ্জ ৫জন, গাজীপুর ৩, বিবাড়িয়া ৩. পিরোজপুর ১, হবিগঞ্জ ২, খুলনা ১, শরীয়তপুর ১, কুড়িগ্রাম ২, মানিকগঞ্জ ১, সাতক্ষীরা ২, গাইবান্ধা ২ , পাবনা ৩ , পঞ্চগড় ১, পটুয়াখালী ২, ঝালকাঠি ২, নোয়াখালী ০৫ জন, চাঁদপুর ৬ জন। বরিশাল ১ জন, দিনাজপুর ২, নাটোর ১, বগুড়া ২, চাপাইনবাবগঞ্জ, নরসিংদী ২, নড়াইল ১, চুয়াডাঙ্গা ২, রাজশাহী ১, ভোলা ১, মুন্সীগঞ্জ ১, টাঙ্গাইল ২, রাজবাড়ী ১, লক্ষীপুর ২, বরগুনা ১, নীলফামারী ২, মাদারীপুর ১, ফরিদপুর ২, লালমনিরহাট ১, ঠাকুরগাওয়ে ২ জন।

up-arrow