Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শুক্রবার, ২৮ জুলাই, ২০১৭

ঢাকা, শুক্রবার, ২৮ জুলাই, ২০১৭
প্রকাশ : বুধবার, ২০ জুলাই, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১৯ জুলাই, ২০১৬ ২৩:১৩
জঙ্গিবিরোধী অভিযান অব্যাহত
রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে গ্রেফতার ৮৬
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীসহ সারা দেশে জঙ্গিবিরোধী অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অভিযানে রাজধানীর  খিলগাঁওয়ে ইসলামী ছাত্রশিবিরের দুই নেতাসহ ২০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মতিঝিলে গ্রেফতার হয়েছে আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের (এবিটি) তিন সদস্য। এ ছাড়া দিনাজপুর, কুষ্টিয়া, রংপুর, গাইবান্ধায় অর্ধশতাধিক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সবমিলিয়ে সারা দেশে জঙ্গিবিরোধী অভিযানে গ্রেফতার হয়েছেন ৮৬ জন।   

খিলগাঁওয়ে রাতভর জঙ্গিবিরোধী অভিযান চালিয়ে ছাত্রশিবিরের দুই নেতাসহ মোট ২০ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সোমবার রাতে খিলগাঁওয়ের এ ব্লকের একটি মেস থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৯ জনই ছাত্রশিবিরের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মী। অভিযানকালে তাদের কাছ থেকে বিপুল সংখ্যক জিহাদি বই, একটি কম্পিউটার, সাতটি ককটেল এবং চারটি চাপাতি উদ্ধার করা হয়েছে বলে গতকাল বাংলাদেশ প্রতিদিনকে নিশ্চিত করেছেন খিলগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মইনুল ইসলাম। আটক শিবিরের দুই নেতার মধ্যে মোতাহার হোসেন (২৭) খিলগাঁও থানার সভাপতি। তার বাড়ি নোয়াখালী। আর আবদুর রাজ্জাক (২৪) হলেন সাধারণ সম্পাদক। তার বাড়ি দিনাজপুরের বীরগঞ্জ। বাকি গ্রেফতারকৃতরা হলেন— মো. মনিরুল ইসলাম, মো. ইসমাইল হোসেন, মো. কাউসার আহম্মেদ, মো. আলাউদ্দিন খলিফা, মো. রবিউল ইসলাম, মো. ফয়সাল হোসেন, মো. ইসমাইল, মো. সুমন মিয়া, মো. হাবিবুর রহমান ফাহিম, মো. কামরুজ্জামান, মো. রাসেল রানা, মো. সাইফুল্লাহ, মো. আবসার আলী, মো. মনিরুল ইসলাম, মো. রুমান মোল্লা, মো. শাহ আলম ও মো. মনির হোসেন। শিবিরের এসব নেতা-কর্মীকে মেস ভাড়া দেওয়ার অভিযোগে বাড়ির মালিক মো. রিয়াজুল করিমকে আটক করা হয়েছে।

ওসি মইনুল ইসলাম জানান, অভিযানের সময় এ ব্লকের একটি মেসবাড়ি থেকে তাদের গ্রেফতার করেছি। এদিকে রাজধানীর মতিঝিলের আদমজী কোর্ট এলাকা থেকে আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের (এবিটি) তিন সদস্যকে গ্রেফতার করেছে ডিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট। গত রবিবার রাতে এসি ইফতেখারুল ইসলামের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলেন, মো. মোজাহের উদ্দিন ওরফে রাজিব, মো. ইনছান আলী ও রতন মিয়া। গতকাল ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) পক্ষ থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, অভিযানকালে গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে একটি চাপাতি, শাইখ উসামাহ ইবনে লাদিন (রহ.)-এর লেখা মানহাজের ব্যাপারে নির্দেশনা বিষয়ক একটি বই এবং শাইখ আনোয়ার আল-আওলাকির লেখা ‘এ যুদ্ধ কেয়ামত পর্যন্ত চলতে থাকবে’ শীর্ষক একটি বই উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, তারা দাওয়াতি শাখার পাশাপাশি আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের মিডিয়া শাখার দায়িত্বে ছিলেন। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক ও  প্রতিনিধিরা জঙ্গিবিরোধী অভিযানের খবর পাঠিয়েছেন।  

রংপুরে জামায়াতের আমিরসহ গ্রেফতার ৫০ : রংপুর ইউনিয়ন জামায়াতের আমিরসহ ৫০ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রবিবার রাত থেকে গতকাল পর্যন্ত জেলার আট উপজেলায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নাশকতার মামলার আসামি পীরগাছা উপজেলার ছাওলা ইউনিয়ন জামায়াতের আমির আবুল বাসার আঙ্গুর রহিমকে (৪৫) গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা বিভিন্ন মামলার আসামি, মাদক ব্যবসায়ী।

গাইবান্ধার চরে অভিযান : গাইবান্ধার যমুনার দুর্গম চর সাঘাটা উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের দীঘলকান্দি,  গাড়ামারা ও বিজলকান্দি গ্রামে রাতভর অভিযান চালিয়েছে যৌথবাহিনী। সোমবার দিবাগত রাত ১টা থেকে গতকাল বেলা ১১টা পর্যন্ত এ অভিযানে অংশ নেয় র‌্যাব ও পুলিশ। সাঘাটা থানার ওসি মোস্তাফিজুর রহমান জানান, গাইবান্ধা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফারুক আহম্মেদ এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন। তবে কোনো জঙ্গি আস্থানার হদিস বা জঙ্গি গ্রেফতার করা যায়নি। গাড়ামার চর থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় দুটি রাম দা উদ্ধার করা হয়েছে।

দিনাজপুরে আটক ৫ : দিনাজপুর শহরের ছাত্রাবাসে অভিযান চালিয়ে ইসলামী ছাত্রশিবিরের শহর সভাপতিসহ ৫ নেতা-কর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। আটককৃতরা হলেন, শহর শিবিরের সভাপতি মো. আয়াতুল্লাহ (৩০), শিবির কর্মী আজিজুর রহমান (১৮), মনজুরুল হাসান (২২), সিমুন আহম্মেদ (১৮), আবুল কালাম আজাদ (৩০)। সোমবার রাত ২টায় দিনাজপুর শহরের রামনগর মোড় ছাত্রাবাসে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে পুলিশ।

কুষ্টিয়ায় শিক্ষকসহ আটক ৯ : গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কুষ্টিয়া মেডিকেল অ্যাসিসটেন্ট ট্রেনিং স্কুলে অভিযান চালিয়ে সন্দেহভাজন ৯ জনকে আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রতিষ্ঠানটির এক শিক্ষক রয়েছেন, বাকিরা ছাত্র। আটক শিক্ষক ডা. আলম হোসেন পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার সোনাতোলা গ্রামের মকবুল  হোসেনের ছেলে। এ ছাড়া শিক্ষার্থীরা হলেন, নোয়াখালীর আবদুল মালেকের ছেলে আবদুল করিম, সুনামগঞ্জের কাজী ফয়সালের ছেলে কাজী ফয়েজ আহম্মেদ সৌরভ, রাজশাহীর ইব্রাহিম আলী, নোয়াখালীর আবুল কাশেমের ছেলে ইউসুফ, একই  জেলার হাতিয়ার সাইফুল ইসলাম, ফেনীর আবু তাহেরের ছেলে আবদুল হান্নান, সিরাজগঞ্জের হযরত আলীর ছেলে আবদুল মান্নান ও মেহেরপুরের সাইফুলের ছেলে আহসান হাবীব সজল। আটক মান্নান ও  সৌরভ ছাত্রশিবিরের সাথী বলে পুলিশ জানায়।

up-arrow