Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২১ জুলাই, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ২০ জুলাই, ২০১৬ ২৩:০৬
সংসদে প্রধানমন্ত্রী
শাস্তির মুখোমুখি করবই জঙ্গিদের
নিজস্ব প্রতিবেদক

জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা বলেছেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় আমাদের পাশে আছে। এ কারণে হামলার নেপথ্যে দেশি-বিদেশি যে-ই জড়িত থাকুক না কেন, তাদের খুঁজে বের করা সময়ের ব্যাপার মাত্র। জড়িতরা কেউ রেহাই পাবে না। তাদের আমরা শাস্তির মুখোমুখি করবই ইনশা আল্লাহ।

সংসদের একাদশ অধিবেশনে গতকালের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে গোলাম দস্তগীর গাজীর (নারায়ণগঞ্জ-১) সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, এমন কাপুরুষোচিত অমানবিক হামলার  ঘটনা ছিল কল্পনাতীত। যারা স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না, যারা দেশের উন্নয়নে বিশ্বাস করে না, তারাই আজ দেশে অরাজকতা সৃষ্টি ও দেশকে বিশ্বের কাছে হেয়প্রতিপন্ন করার জন্য এসব জঙ্গি কার্যক্রম করে চলেছে। তবে আমরা গুলশানে জঙ্গি হামলাকারীদের শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছি। এদের অনেককে ধরতে সক্ষম হয়েছি। এর বাইরে এসব জঙ্গি তত্পরতায় পর্দার অন্তরালে থেকে দেশি-বিদেশি মদদদাতা, পরামর্শদাতা, পরিকল্পনাকারী ও যারা অস্ত্র ও অর্থ দিচ্ছেন তাদেরও খুঁজে বের করা হবে। যেহেতু আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় আমাদের পাশে আছে, তাই জঙ্গি অপরাধীদের খুঁজে পাওয়া কঠিন হবে না। তাদের খুঁজে বের করা সময়ের ব্যাপার মাত্র। গুলশানে আর্টিজান রেস্তোরাঁয় সন্দেহভাজন হামলাকারীদের শনাক্ত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে সংসদ নেতা বলেন, হামলাকারী কয়েকজন মারা গেছে। কয়েকজন সন্দেহভাজনের ভিডিওচিত্র প্রকাশ করা হয়েছে। তাদের মধ্যে কয়েকজনকে ইতিমধ্যে শনাক্তও করা হয়েছে। বাকিদের শনাক্ত করতে সবার সহযোগিতা চাই। কেউ সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করতে পারলে সঙ্গে সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি।

১৫ বছরে এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থান : এর আগে গোলাম দস্তগীর গাজীর লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আগামী ১৫ বছরের মধ্যে দেশে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এতে প্রায় এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন শিল্প ও সেবাখাতে বিনিয়োগের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ইকোনমিক জোন অথরিটি (বেজা) প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে ইতিমধ্যে বিনিয়োগবান্ধব নতুন শিল্পনীতি ঘোষণা করা হয়েছে।

আগামী বছরেই মহাকাশে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট : সরকারি দলের সদস্য মনিরুল ইসলামের লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আশা প্রকাশ করেন যে, ২০১৭ সালের ১৬ ডিসেম্বর মহাকাশে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উেক্ষপণ করা সম্ভব হবে। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট সফলভাবে উেক্ষপিত হলে নির্দিষ্ট অরবিটার স্লট ১১৯ দশমিক ১ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশে পৌঁছতে প্রায় দুই সপ্তাহের মতো সময় লাগবে।

যমুনায় ডুয়েলগেজ রেল সেতু হবে  : জাতীয় পার্টির সদস্য ফখরুল ইমামের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, যমুনা নদীর ওপর বিদ্যমান বঙ্গবন্ধু সেতুর সমান্তরালে ডুয়েলগেজ ডাবল ট্র্যাকসম্পন্ন একটি রেল সেতু নির্মাণের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে একটি ডিপিপি প্রণয়ন করা হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য ইতিমধ্যে জাইকার সঙ্গে ঋণচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।

মুনাফার লোভে দেশের ক্ষতি করবেন না : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পণ্য উৎপাদন এবং বিদেশে রপ্তানি ও দেশে বিপণনের ক্ষেত্রে গুণগত মান ঠিক রাখতে ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, সাম?ান্য মুনাফার জন্য দেশের ক্ষতি করবেন না। নিজেদের বিপর্যয় ডেকে আনবেন না। শুধু মাছ নয়, যে কোনো পণ্য উৎপাদন, বিপণন ও রপ্তানি করার ক্ষেত্রে তার গুণগত মান ঠিক রাখতে হবে। প্রধানমন্ত্রী গতকাল সকালে রাজধানীর খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ মিলনায়তনে জাতীয় মত্স্য সপ্তাহের (১৯-২৫ জুলাই) উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভাষণ দিচ্ছিলেন। এবারের জাতীয় মত্স্য সপ্তাহের প্রতিপাদ্য ‘জল আছে যেখানে মাছ চাষ সেখানে’।

ইউরোপে চিংড়ি রপ্তানি বন্ধ হওয়ার প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, একসময় ওজন বাড়ানোর জন্য চিংড়ির মধ্যে লোহা ঢুকিয়ে দিয়েছিল। পরবর্তী সময়ে আমরা এসবের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি উন্নত প্রক্রিয়াজাতকরণের ক্ষেত্রে অনেক পদক্ষেপ নিই। ফলে আবারও রপ্তানি হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, দেশের যে পরিমাণ সমুদ্রসীমা-নদ-নদী-খাল-বিল-হাওর রয়েছে, তাতে যত্নবান হলে মত্স্য উৎপাদনে চতুর্থ নয়, প্রথম হতে পারে বাংলাদেশ। এজন্য মত্স্য উৎপাদন, বিপণন ও রপ্তানিতে ব্যবসায়ীদের গুণগত মান ঠিক রাখতে হবে।

সরকার আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে গভীর সমুদ্রে সম্পদ আহরণের উদ্যোগ নেবে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, নইলে এসব সম্পদ বেহাত হয়ে যেতে পারে। তাই আমরা দ্রুত ব্যবস্থা নিতে চাচ্ছি। তিনি বলেন, এখানে যেমন খনিজ সম্পদ পাওয়া যাবে আবার খাদ্যসম্পদও প্রচুর আছে। যারাই আসুক আমরা তাদের সম্পদ আহরণের সুযোগ দিতে চাই। অন্তত আমরা সমুদ্রসম্পদ আহরণ শুরু করতে চাই।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow