Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শুক্রবার, ২০ অক্টোবর, ২০১৭

ঢাকা, শুক্রবার, ২০ অক্টোবর, ২০১৭
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২১ জুলাই, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ২০ জুলাই, ২০১৬ ২৩:০৮
অগণতান্ত্রিক শাসনে বিকশিত হয়নি সামরিক বেসামরিক সম্পর্ক
নিজস্ব প্রতিবেদক
অগণতান্ত্রিক শাসনে বিকশিত হয়নি সামরিক বেসামরিক সম্পর্ক
মে. জে. তারিক আহমেদ সিদ্দিক (অব.)

প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তাবিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল তারিক আহমেদ সিদ্দিক (অব.) বলেছেন, সামরিক-বেসামরিক সম্পর্ক সিভিল ব্যুরোক্রেসি ও মিলিটারি ইনস্টিটিউটগুলোর সঙ্গে ইতিবাচক সম্পর্ক গড়তে সহায়তা করে। সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে সাধারণ মানুষের দূরত্ব কমিয়ে আনে।

তিনি বলেন, পঁচাত্তরের পর দীর্ঘ সময় বাংলাদেশ ছিল অগণতান্ত্রিক শাসনে পিষ্ট। এই সময়ে সামরিক-বেসামরিক সম্পর্ক বিকশিত হতে পারেনি। সামরিক-বেসামরিক সম্পর্কের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত সামরিক বাহিনী ও জনগণের মধ্যে দূরত্ব কমিয়ে আনা। গতকাল রাজধানীর ইস্কাটনে ‘গণতন্ত্রে সামরিক-বেসামরিক সম্পর্ক : একটি কার্যকরী কাঠামো’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ ও বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিস) সেমিনারের আয়োজন করে। প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা বলেন, একাত্তরে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম হয়েছিল। তারপর বিভিন্ন সময়ে দেশে অগণতান্ত্রিক শাসন চলেছে। তারই প্রভাবে জাতীয় নিরাপত্তার ওপর সন্ত্রাস ও মৌলবাদের এই হুমকি। তিনি বলেন, বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের যে কোনো জাতীয় হুমকি মোকাবিলায় সেনাবাহিনীর অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ। জাতীয় নিরাপত্তা মানে শুধু বর্ডারের নিরাপত্তা নয়, জনগণের নিরাপত্তা। জনগণের নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে সশস্ত্র বাহিনী। তিনি বলেন, সশস্ত্র বাহিনী বর্তমানে অনেকগুলো জাতীয় উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছে। দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা।

সেমিনারে প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী, ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের কমান্ড্যান্ট লে. জেনারেল চৌধুরী হাসান সারওয়ার্দী বীরবিক্রম, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও) লে. জেনারেল মাহফুজুর রহমান, নেপালের রাজকীয় সেনাবাহিনীর সাবেক চিফ অব জেনারেল স্টাফ (সিজিএফ) লে. জেনারেল নেপাল বুশান চান্দ, শ্রীলঙ্কার কাটেওয়ালা ডিফেন্স ইউনিভার্সিটির সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন ড. এম জয়াবর্ধনে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক রাশেদুজ্জামান, ভারতের জওহেরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর শরণ সিংহের পক্ষে ড. শ্রুতি পট্টনায়েক, মেজর জেনারেল ফিরদাউস মিয়ান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এম সাখাওয়াত হোসেন (অব.), মেট্রোপলিটন চেম্বারের প্রেসিডেন্ট নাসিম মঞ্জুর, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সিনিয়র সচিব মুহাম্মদ মেজবাহউদ্দিন বক্তব্য রাখেন। সেমিনারে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আবু বেলাল মোহাম্মদ শফিউল হক, বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল আবু এশরার, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল নিজাম উদ্দিন আহমেদসহ পদস্থ সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তা, বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের গবেষক, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি এবং শিক্ষাবিদরা অংশ নেন। সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য দেন বিস-এর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল এ কে এম আবদুর রহমান। বিস চেয়ারম্যান রাষ্ট্রদূত মুন্সী ফয়েজ আহমদ উদ্বোধনী বক্তব্য দেন। তিন সেশনের সেমিনারে উন্মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন সাবেক সেনাবাহিনী প্রধান লে. জেনারেল হারুনুর রশীদ, প্রফেসর আনোয়ার হোসেন, বিএনপির সাবেক নেতা শমসের মবিন চৌধুরী, সাবেক সচিব এম মোকাম্মেল হক, রেজাউল কবির, অরোমা দত্ত প্রমুখ। ড. গওহর রিজভী বলেন, ‘সশস্ত্র বাহিনী আমাদের জনগণের অংশ। জাতীয় উন্নয়নে বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে তারা সাধারণ মানুষের অস্তিত্বের অংশীদার হয়ে আছে। ’ তিনি বলেন, ‘গুলশানের হলি আর্টিজানের ন্যক্কারজনক হামলা আমাদের জাতীয় ঐক্য গড়ে দিয়েছে। জঙ্গিদের কোনো জায়গা এই গণতান্ত্রিক দেশে কখনো হবে না। আমাদের জাতীয় ঐক্যের কাছে জঙ্গিরা মাথা নত করতে বাধ্য হবে। ’

তিনি বলেন, ‘সন্ত্রাসবাদের নতুন উপাদান আত্মঘাতী প্রবণতা। কিন্তু এ দিয়ে কিছুই অর্জিত হবে না। একাত্তরের কথা ভাবুন। আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে অভিন্ন লক্ষ্যে আমরা মরণপণ প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলাম। আমরা বিজয়ী হয়েছি। এই জঙ্গিবিরোধী লড়াইয়েও আমরা জয়ী হব। সিভিল-মিলিটারি সম্পর্কের অন্যতম নজির হচ্ছে আমাদের একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধ। ’

ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের (এনডিসি) কমান্ড্যান্ট লে. জেনারেল চৌধুরী হাসান সারওয়ার্দী (বীরবিক্রম) সামরিক-বেসামরিক সম্পর্ক উন্নয়নে সেনাবাহিনীর ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোকপাত করেন। তিনি তার উপস্থাপনায় সরকার ও জনগণের মধ্যে চীন, পাকিস্তান, ভারতের সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকা তুলে ধরেন। তিনি রানা প্লাজা ধস ও তাজরীন গার্মেন্টসের অগ্নিকাণ্ডে সেনাবাহিনীর উদ্ধার কার্যক্রমের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ২০০৬-০৮ সালে বাংলাদেশে গণতন্ত্র উত্তরণে সিভিল-মিলিটারি সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

up-arrow