Bangladesh Pratidin

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৭
প্রকাশ : শুক্রবার, ২২ জুলাই, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ২১ জুলাই, ২০১৬ ২৩:১৭
গাজীপুরে জঙ্গি আস্তানা, অস্ত্র জিহাদি বইসহ আটক ৪
বিশেষ প্রতিনিধি
গাজীপুরে জঙ্গি আস্তানা, অস্ত্র জিহাদি বইসহ আটক ৪
র‌্যাবের অভিযানে উদ্ধার অস্ত্রশস্ত্র

ঢাকার অদূরে গাজীপুরের টঙ্গীতে জঙ্গি আস্তানায় অভিযান চালিয়ে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জামা’আতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ—জেএমবির চার সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ছাড়া কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা থেকে অস্ত্র বেচাকেনার সময় এক সন্দেহভাজন জঙ্গি ও চরমপন্থি দলের নেতাকে গ্রেফতার করা হয়।

বুধবার রাতে র‌্যাব পৃথক অভিযান চালিয়ে চারটি আগ্নেয়াস্ত্র, ১৫৮ রাউন্ড গুলি, নানা ধরনের দেশীয় ধারালো অস্ত্র, বোমা তৈরির সরঞ্জাম, জিহাদি বইসহ তাদের গ্রেফতার করা হয়।

আমাদের টঙ্গী প্রতিনিধি জানান : আউচপাড়া মোক্তারবাড়ী এলাকার একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে জেএমবি সদস্যরা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করছে এমন তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাব বুধবার গভীর রাতে ওই ফ্ল্যাটে অভিযান চালায়। পরে সেখান থেকে জেএমবির দক্ষিণাঞ্চলের দায়িত্বপ্রাপ্ত আমির ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের প্রশিক্ষক মো. মাহমুদুল হাসান ওরফে তানভীর (২৭), মো. আশিকুল আকবর ওরফে আবেশ (২২), নাজমুস সাকিব ওরফে তাহমিদ (১৯) ও মো. শরীয়ত উল্ল্যাহ শুভকে (১৯) গ্রেফতার করে। সেখান থেকে একটি পিস্তল, ১৩৩ রাউন্ড গুলি, তিনটি নান চাকু, তিনটি ছুরি, দুটি কুড়াল, একটি চাপাতি, সাতটি ককটেল, ১৩টি ইলেকট্রিক ডেটোনেটর, সাতটি পাওয়ার জেল, দুই কেজি পটাশিয়াম, ৫০০ গ্রাম সোডা, একটি ডামি টার্গেট, বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক তৈরির সরঞ্জাম ও জিহাদি বই জব্দ করা হয়। অভিযান শেষে সকালে র‌্যাবের মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক মুফতি মাহমুদ খান উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, মোক্তারবাড়ী রোডে ছয় তলা বাড়ির চার তলার একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে জেএমবি তাদের প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তুলেছিল। গ্রেফতার মাহমুদুল হাসান যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। প্রশিক্ষণে তিনি ভালো করায় তাকে জেএমবির ট্রেনিং সেন্টারের প্রশিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। মো. শরীয়ত উল্ল্যাহ যশোর সরকারি এমএম কলেজের রসায়ন বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। তিনি কম্পিউটার বিষয়ে দক্ষ হওয়ায় দক্ষিণাঞ্চল জেএমবির আমির তাকে খুব পছন্দ করতেন এবং তাকে দিয়ে বিভিন্ন অ্যাপসের মাধ্যমে সংগঠনের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখতেন। নাজমুস সাকিব তাহমিদ টঙ্গী তামিরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসা থেকে ২০১৪ সালে আলিম পাস করেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তির জন্য ঝিনাইদহ সাকসেস কোচিং সেন্টারে ভর্তি হন। তার সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চল জেএমবির আমিরের ভালো সম্পর্ক থাকায় তাদের মাঝে সখ্য গড়ে ওঠে। মো. আশিকুল আকবর ওরফে আবেশ রংপুর প্রাইম মেডিকেল কলেজের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। তিনি মেডিকেলের ছাত্র হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসার বিষয়গুলো ভালোভাবে রপ্ত করে সংগঠনের সদস্যদের হাতে-কলমে শিক্ষা দিতেন; যাতে কেউ কাজের সময় আহত হলে নিজেরাই প্রাথমিক চিকিৎসা সম্পন্ন করতে পারেন। বাড়ির মালিক জেসমিন আক্তারের মেয়ে নাছরিন আক্তার বলেন, ‘মাহমদুদুল হাসান তানভীর ১৫ জুলাই নিজেকে টঙ্গীর একটি পোশাক কারখানার মার্চেন্ডাইজার পরিচয় দিয়ে ফ্ল্যাট ভাড়া নেন। সকালে বের হতেন আবার রাতে আসতেন। রুমে তারা কী করতেন এ বিষয়ে আমার কিছুই জানা ছিল না। ’ কুষ্টিয়া প্রতিনিধি জানান, একই রাতে ভেড়ামারা থেকে অস্ত্র সংগ্রহকারী এক সন্দেহভাজন জঙ্গি সদস্য ও বিক্রেতা চরমপন্থি দলের নেতাকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। এ সময় তাদের কাছ থেকে তিনটি আগ্নেয়াস্ত্র ও ২৫ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। তারা হলেন দৌলতপুর উপজেলার কাজীপুর দক্ষিণপাড়া গ্রামের সরোয়ার উদ্দিন মণ্ডলের ছেলে আবু দাউদ হাসান পাপ্পু (২০) ও মিরপুর উপজেলার কাজিপুর মধ্যপাড়া গ্রামের হারেজ উদ্দিনের ছেলে চরমপন্থি নেতা ফিরোজ প্রামাণিক (৪০)। র‌্যাব-১২ কুষ্টিয়া ক্যাম্পের সদস্যরা জেলার দুই উপজেলায় রাতভর অভিযান চালিয়ে এসব অস্ত্র উদ্ধার করেন। গতকাল বিকালে কুষ্টিয়া র‌্যাব ক্যাম্পে এক প্রেস ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হয়। এ সময় বক্তব্য দেন র‌্যাব-১২-এর কমান্ডিং অফিসার শাহাবুদ্দিন। উপস্থিত ছিলেন র‌্যাব-১২ অধীন সিপিসি-১ কুষ্টিয়া ক্যাম্পের কমান্ডার মেজর মোসাদ্দেক ইবনে মুজিব। ব্রিফিংয়ে কমান্ডিং অফিসার শাহাবুদ্দিন জানান, আবু দাউদ পাপ্পুকে বুধবার রাতে ভেড়ামারার হল বাজার বক চত্বর থেকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে তিন রাউন্ড গুলিভর্তি ম্যাগাজিনসহ একটি পিস্তল ও ওয়ান শুটারগান উদ্ধার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যানুযায়ী গণবাহিনীর নেতা ফিরোজকে গ্রেফতার করা হয়। ফিরোজের দেওয়া তথ্যানুযায়ী তার বাড়ি থেকে একটি কাটা রাইফেল ও ২২ রাউন্ড কাটা রাইফেলের গুলি উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দাউদ নিজেকে জঙ্গি দলের সদস্য বলে স্বীকার করেছেন। জঙ্গি দলের জন্য চরমপন্থি নেতা ফিরোজের কাছ থেকে এসব অস্ত্র সংগ্রহ করেছিলেন। ওই র‌্যাব কর্মকর্তা আরও জানান, ফিরোজ গণবাহিনীর শীর্ষ নেতা আনোয়ার হোসেন আনুর ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন। আনুর অবর্তমানে তিনি নিজ নামে বাহিনী পরিচালনা করে আসছিলেন। দাউদের কাছে তিনি অস্ত্র বিক্রির কথা স্বীকার করেছেন।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow