Bangladesh Pratidin

ঢাকা, রবিবার, ২২ জানুয়ারি, ২০১৭

প্রকাশ : শুক্রবার, ২২ জুলাই, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ২১ জুলাই, ২০১৬ ২৩:১৯
বিএনপির প্রতিক্রিয়া
তারেককে নির্বাচন থেকে দূরে রাখতেই এই সাজা
নিজস্ব প্রতিবেদক

মুদ্রা পাচার মামলায় নিম্ন আদালতের খালাসের রায় বাতিল করে তারেক রহমানকে হাইকার্টের দেওয়া সাজার রায়কে ‘সরকারের প্রতিহিংসা’ বলেছে বিএনপি। জিয়া পরিবারকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখতেই এ রায়কে সরকারের নীলনকশা বলেও মন্তব্য করেছে দলটি। হাইকোর্টের রায়ের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে লন্ডনে অবস্থানরত দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গণমাধ্যমে এক বিবৃতি পাঠান। একইভাবে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবীর রিজভী তাত্ক্ষণিক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন। এদিকে গতকাল তারেক রহমানের রায় ঘোষণার আগে ও পরে নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে দলের সহ-দফতর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপুসহ যুবদল-ছাত্রদলের ১২ কর্মীকে আটক করা হয়েছে। তারেক রহমানের সাজার প্রতিবাদে জাতীয়তাবাদী যুবদল আগামীকাল জেলা ও মহানগর, রবিবার থানা ও উপজেলা পর্যায়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করবে বলে জানিয়েছেন সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আজাদ ও সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলম নীরব। জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল আজ সারা দেশে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করবে। জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল রবিবার দেশে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্র ধর্মঘট ডেকেছে। এদিকে তারেকের সাজার রায়ের প্রতিবাদে গতকাল ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দল রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ করেছে। গণমাধ্যমে দেওয়া বিবৃতিতে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘মামলাটিতে উত্থাপিত অভিযোগের কোনো সঠিক ভিত্তি ছিল না। সাক্ষ্য-প্রমাণে তারেক রহমানের অর্থ পাচারের কোনো সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি। এজন্যই জজ আদালত মামলটি থেকে তাকে খালাস দিয়েছিল। এটা সরকারের গা জ্বালার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এরপর সরকার দুর্নীতি দমন কমিশনকে ব্যক্তিগত হাতিয়ারে পরিণত করে প্রতিহিংসা চরিতার্থ করেছে। আমি তাদের এহেন হিংসাশ্রয়ী আচরণের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। ’ তিনি বলেন, ‘নিম্ন আদালতের রায়ের পর সরকার দুদককে দিয়ে আপিল করিয়ে তারেক রহমানকে শাস্তি দিতে উঠেপড়ে লাগে। জজ আদালতের সেই খালাসের রায় প্রদানকারী বিচারক সরকারের রোষানলে পড়ে প্রাণ বাঁচাতে দেশত্যাগে বাধ্য হন। ’ তারেক রহমানের সাজার রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে নয়াপল্টনে বিএনপি কার্যালয়ের সামনে থেকে সহ-দফতর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপুসহ ১২ নেতা-কর্মী আটকের ঘটনারও নিন্দা জানান মহাসচিব। আটক নেতা-কর্মীদের অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ারও দাবি জানান তিনি।

রিজভীর সংবাদ সম্মেলন : রায় ঘোষণার পর দলের পক্ষ থেকে তাত্ক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় রিজভী আহমেদ বলেন, জিয়া পরিবারকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখতে এবং দুর্বল করার নীলনকশার অংশ হিসেবেই তারেক রহমানকে অর্থ পাচার মামলায় সাজা দেওয়া হয়েছে। এ মামলায় নিম্ন আদালত থেকে তারেক রহমান খালাস পেলেও দুদকের করা আপিলে উচ্চ আদালতে তথ্য-প্রমাণ আমলে নেওয়া হয়নি। সরকার নিজেদের ব্যর্থতা আড়াল করতে নতুন নতুন ইস্যু তৈরি করে। তারেক রহমানের বিরুদ্ধে এ রায় তারই অংশ। উচ্চ আদালতের কাছ থেকে ন্যায়বিচার আশা করে তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের সময় কোনো বিচারকের ন্যায়বিচার করার অধিকার নেই। কোনো বিচারক যদি ন্যায়বিচার করেন, তাহলে তিনি দেশে থাকতে পারবেন না। আদালতে মানুষ ন্যায়বিচার পেলে আদালতের প্রতি আস্থা বাড়বে। তারেক রহমানের বিরুদ্ধে রায়ের প্রতিবাদে বিএনপি কোনো কর্মসূচি দেবে কিনা— এমন প্রশ্নের জবাবে রিজভী বলেন, এ বিষয়ে আলোচনা করে জানানো হবে।

টিপুসহ আটক ১২ : তারেক রহমানের সাজার রায় ঘোষণার আগে ও পরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে দলটির ১২ নেতা-কর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। পল্টন মডেল থানায় আটক হওয়া নেতা-কর্মীদের মধ্যে রয়েছেন— বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-দফতর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল যুবদলের খলিলুর রহমান, লেলিন, রফিক, বিষু, সাকিরুল ইসলাম, আলী হোসেন, সবুজ, পল্লবী যুবদলের স্বপন, জাহাঙ্গীর, মহানগর উত্তর যুবদলের ইউসুফ মিয়া, মিরাজ প্রমুখ। বিএনপি কার্যালয়ের কর্মচারীরা জানান, সকালেই কার্যালয়ের সামনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। কার্যালয়ে প্রবেশে নেতা-কর্মীদের বাধা দেয় পুলিশ। দিনভর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে থমথমে পরিস্থিতি ছিল। অবশ্য রায় ঘোষণার পর তাত্ক্ষণিক সংবাদ সম্মেলন করেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহমেদ। এ সময় হাতে গোনা কয়েকজন নেতা-কর্মী তার সঙ্গে ছিলেন। বিকালেও কেন্দ্রীয় কার্যালয় ছিল নেতা-কর্মীশূন্য।

ছাত্রদলের বিক্ষোভ : তারেক রহমানকে সাজা দেওয়ার প্রতিবাদে তত্ক্ষণাৎ বিক্ষোভ মিছিল করেছে ছাত্রদল। রাজধানীর বিজয়নগরে ছাত্রদল সভাপতি রাজীব হাসান ও সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসানের নেতৃত্বে মিছিল বের হয়। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল দুপুরে পুরান ঢাকার রায় সাহেব বাজার এলাকায় মিছিল বের করে। শাখা ছাত্রদল সভাপতি রফিকুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক আসিফুর রহমানের নেতৃত্বে আয়োজিত এ মিছিলে কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুদুর রহমান, জবির সহ-সভাপতি এ টি এম বাকির জুয়েল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শামীম হোসেন, ইমরান হোসেন পলাশ, শরীফুল ইসলাম শরীফ প্রমুখ অংশ নেন।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow