Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : শুক্রবার, ২২ জুলাই, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ২১ জুলাই, ২০১৬ ২৩:২৬
গুজব ছড়ালে আইনগত ব্যবস্থা
নিজস্ব প্রতিবেদক
গুজব ছড়ালে আইনগত ব্যবস্থা

জঙ্গি হামলার বিষয়ে যারা গুজব ছড়াবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গুজব ছড়ানো একটি ফৌজদারি অপরাধ। গুজব রটনাকারীদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া। গতকাল সকালে ডিএমপি সদর দফতরে নিজ কার্যালয়ে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন। ডিএমপি কমিশনার বলেন, একটি কুচক্রীমহল সোশ্যাল মিডিয়া, ওয়েবসাইট, টেলিফোনে এসএমএসের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের গুজব ছড়িয়ে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির অপচেষ্টা করছে। তারা দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির জন্য তারা বলছে, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হামলা হবে, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে হামলা হবে, অমুক শপিং মলে হামলা হবে। এরা সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরির জন্য এগুলো করছে। কারও কাছে যদি তথ্য থাকে তা পুলিশকে জানান। গোয়েন্দা পুলিশ ও কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট গুজব রটনাকারীদের বিষয়ে খোঁজ নিচ্ছে। গত ১ জুলাই গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে ও কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় জঙ্গি হামলার পর প্রতিদিনই নানারকম হামলার গুজব ছড়ানো হচ্ছে। এ কারণে আতঙ্ক আর উদ্বেগে প্রতিটি দিন পার করছে সাধারণ মানুষ। শপিং মলসহ খাবারের দোকানগুলোয় ভিড় কমে গেছে। ডিএমপি প্রধান সবাইকে আশ্বস্ত করে বলেন, আতঙ্কের কোনো কারণ নেই। রাজধানীতে নিরাপত্তার জাল বিছানো হয়েছে। জনগণের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয় এমন কাজ হতে দেব না। পুরো জাতিকে নিয়ে আমরা জঙ্গিদের শেকড় উৎপাটনের চেষ্টা করছি। এ বিষয়ে জনগণের কাছে সহযোগিতা চাই।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, গুলশান-বনানী-বারিধারা এলাকা সিসিটিভির আওতায় আনা হয়েছে। ২৪ ঘণ্টা সিসিটিভি মনিটরিং করা হচ্ছে। গুলশানের ভিতর দিয়ে যেসব বাস ও রিকশা চলাচল করত তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া লেকের পাশ দিয়ে নানারকম অলিগলি দিয়ে গুলশান এলাকায় যে প্রবেশ পথ ছিল সেগুলো বন্ধ বা নিরাপত্তা চৌকি বসানো হয়েছে। এ সপ্তাহের মধ্যে গুলশানের ভিতরে চলাচলের জন্য ৩০টি এসি বাস ও ২০০টি রিকশা নামানো হচ্ছে। গুলশানসহ পুরো রাজধানীতেই নিরাপত্তা বৃদ্ধি করা হয়েছে। প্রতি মুহূর্তেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনর্বিন্যস্ত করা হচ্ছে। মোবাইল-ফুট-ভেহিক্যাল প্যাট্রল বৃদ্ধি, চেকপোস্ট বৃদ্ধি, সন্দেহভাজনদের তল্লাশি চলছে। দৃশ্যমান পুলিশিংয়ের মাধ্যমে জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কূটনীতিকদের অফিসসহ বাসাবাড়ি, বিদেশি বিভিন্ন অফিস-আদালত এবং হোটেল, রেস্তোরাঁ, রিক্রিয়েশন ক্লাবের নিরাপত্তা বৃদ্ধি করা হয়েছে। আমরা বিভিন্ন স্টেক হোল্ডারদের সঙ্গে কথা বলছি। তাদের নিজেদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের জন্য অনুরোধ করেছি।    

এই পাতার আরো খবর
up-arrow