Bangladesh Pratidin

ঢাকা, রবিবার, ১৭ ডিসেম্বর, ২০১৭

ঢাকা, রবিবার, ১৭ ডিসেম্বর, ২০১৭
প্রকাশ : শুক্রবার, ২২ জুলাই, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ২২ জুলাই, ২০১৬ ০৩:০৩
বার্নিকাটের বক্তব্য নিয়ে সংসদে উত্তপ্ত আলোচনা
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা স্টিফেন্স ব্লুম বার্নিকাটের বুধবারের বক্তব্য নিয়ে গতকাল জাতীয় সংসদে উত্তপ্ত আলোচনা হয়েছে। ‘কোনোভাবেই বাংলাদেশকে দখল করার কোনো ইচ্ছা আমাদের নেই’—বার্নিকাটের এমন বক্তব্যের নিন্দা ও ক্ষোভ জানাতে গিয়ে গতকাল সংসদে সরকারি দলের সদস্যরা পক্ষে-বিপক্ষে দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়েন। প্রবীণ পার্লামেন্টারিয়ান সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বক্তব্য নিয়ে সংসদে তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। শেখ সেলিম মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে  পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ডেকে পাঠানোর আহ্বান জানান। তবে তাদের বক্তব্যের পর নিজ দলেরই অপেক্ষাকৃত জুনিয়র সদস্যদের তীব্র ‘আক্রমণের’ শিকার হন সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত ও শেখ ফজলুল করিম সেলিম। বিশেষ করে সংসদ কক্ষের ‘সামনের সারির মন্ত্রীরা পালিয়ে গেছেন’—এ মন্তব্যের জন্য দলীয় সদস্যদের তোপের মুখে পড়েন সুরঞ্জিত। জাতীয় সংসদের একাদশ অধিবেশনের গতকালের বৈঠকে অনির্ধারিত আলোচনায় এ ঘটনা ঘটে। সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত প্রথমে ফ্লোর নিয়ে বলেন, ‘আমরা দেখলাম, একজন বিদেশি রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশ দখল করবেন না এমন কথা বলছেন। বাংলাদেশ দখল করার জন্য নয়, সাহায্য করার জন্য তিনি চেষ্টা করছেন। মনে হলো তারা ইচ্ছা করলে তারা দখল করতে পারেন এবং দখল বহালও রাখতে পারেন। এ ধরনের হুমকি আমেরিকান প্রতিনিধি দিচ্ছেন।

এসব তারা বলছে তাদের নিরাপত্তার জন্য। সুতরাং আমরা এই পার্লামেন্ট থেকে বলতে চাই, এ ধরনের হুমকি কোনো ডিপ্লোম্যাটের কোনো দেশের জন্য দেওয়া শোভনীয় নয়। এই ডিপ্লোমেসি শিষ্টাচারবহির্ভূত। এ ব্যাপারে আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জোরদার আপত্তি দেবেন বলে আমরা আশা রাখি। ’ এ সময় তিনি সংসদের ট্রেজারি বেঞ্চের সামনের সারি দেখিয়ে বলেন, ‘মাননীয় স্পিকার, সংসদের সামনের সারিগুলো খালি। দেখে মনে হয় হুমকির ভয়ে মন্ত্রীরা সব পালিয়ে গেছেন। ’

এরপর শেখ ফজলুল করিম সেলিম মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কত বড় ধৃষ্টতা! একজন সহকারী সচিবের পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা হুমকি দিচ্ছে, বাংলাদেশকে তারা দখল করবে কি করবে না—এটা কোন ধরনের কূটনৈতিক আচরণ! তিনি মার্কিন দূতকে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দেওয়ার জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ডেকে পাঠানোর আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘আমি পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে বলব, তাকে অবশ্যই ডেকে এনে এই প্রশ্নের সঠিক জবাব নেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। ’

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবীর নানক বলেন, ‘আমাদের একজন সদস্য বললেন মন্ত্রীরা পালিয়ে গেছেন। আমার মনে হয় তারা পালিয়ে যাননি। তারা পালিয়ে যেতে পারেন না। তার (সুরঞ্জিতের) এই বক্তব্য এক্সপাঞ্জ করুন। এ ছাড়া মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বিষয়েও যা বলা হয়েছে তা ঠিক নয়। ’ এরপর সংসদের চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ বলেন, ‘রাষ্ট্রদূতের বক্তব্য সম্পর্কে আমাদের কোনো কোনো সদস্য যা বলেছেন তা সত্য নয়। তারা বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে কাজ করতে চায়। কাজেই তার বক্তব্য নিয়ে অনেকে যা বলেছেন তা মনগড়া। ’ পরে নারায়ণগঞ্জের শামীম ওসমান ফ্লোর নিয়ে সুরঞ্জিতের বক্তব্যের বিরোধিতা করে বলেন, ‘শেখ হাসিনা যাদের মন্ত্রী করেছেন, তারা পরীক্ষিত। তারা কেউ পালিয়ে যাওয়ার মতো নেতা নন। ’

এই পাতার আরো খবর
up-arrow