Bangladesh Pratidin

ঢাকা, সোমবার, ১৬ জানুয়ারি, ২০১৭

প্রকাশ : শনিবার, ২৩ জুলাই, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ২২ জুলাই, ২০১৬ ২৩:৪০
জঙ্গিকে সৎ চরিত্রের সার্টিফিকেট ইউপি চেয়ারম্যানের
নিজস্ব প্রতিবেদক
জঙ্গিকে সৎ চরিত্রের সার্টিফিকেট ইউপি চেয়ারম্যানের

রাজধানীর গুলশানে হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় নিহত জঙ্গি নিবরাস ইসলামের ঘনিষ্ঠ সহযোগী তৌহিদ বিন আহমেদ ওরফে রিয়াজের চরিত্র নিয়ে বিশেষ প্রত্যয়নপত্র দিয়েছিলেন এক ইউপি চেয়ারম্যান। গত ৯ ফেব্রুয়ারী শাহবাগ শিশুপার্কে বড় ধরনের নাশকতা চেষ্টা মামলায় গ্রেফতার তৌহিদের জামিনের জন্য এই প্রত্যয়নপত্র আদালতে দাখিল করেছিলেন তার আইনজীবী। গত ২ এপ্রিল যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার ৭ নম্বর দরাজহাট ইউনিয়নের তৎকালীন চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. জাকির হোসেন ওই পত্রে উল্লেখ করেছিলেন, তৌহিদ তার একান্ত সুপরিচিত এবং ইউনিয়নের স্থায়ী বাসিন্দা। তার স্বভাব চরিত্র ভালো। একই সঙ্গে তৌহিদ সমাজ বিরোধী কাজে জড়িত নন। তৌহিদের বাবার নাম শহীদুল্লাহ আহমেদ। গ্রামের বাড়ি যশোর বাঘারপাড়া উপজেলার রামকৃষ্ণপুরে। তবে  তৌহিদের পরিবার বনানী ডি-ব্লকের ১৩ নম্বর সড়কের ৯৯ নম্বর বাড়িতে বসবাস করে। মামলার নথি ও পুলিশ সূত্র জানায়, ৯ ফেব্রুয়ারি নিহত জঙ্গি নিবরাস, নিখোঁজ শেহজাদ অর্ক, তৌহিদ, তওসিফসহ মোট ১২ জন যুবক শাহবাগের শিশুপার্কে বড় ধরনের নাশকতার উদ্দেশ্যে ফেব্রুয়ারিতে মিলিত হয়েছিলেন। তবে পুলিশি তত্পরতার কারণে ওইদিন তারা টার্গেট বাস্তবায়ন করতে পারেনি। তাদের গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় পুলিশ ধাওয়া দিয়ে তৌহিদ, রাইয়ান মিনহাজ ওরফে রাইয়ু, আহমেদ শাম্মুর রাইহান ওরফে চিলারকে আটক করে। পরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা মামলায় গ্রেফতার দেখায়। এ সময় তাদের কাছ থেকে জঙ্গি কার্যক্রমে ব্যবহূত ল্যাপটপ, মোবাইল ফোন, হার্ডডিস্ক, জিহাদি বইসহ অন্যান্য মালামাল উদ্ধার করে জব্দ তালিকা করা হয়। পুলিশ বলছে, আসামিদের ই-মেইল আইডি,  ফেসবুক ও টুইটার আইডিসহ বিভিন্ন প্রযুক্তি বিশ্লেষণ করলে তাদের জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে ব্যাপক তথ্য পাওয়া যাবে। গ্রেফতারকৃতদরে মধ্যে তৌহিদ নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়, রাইয়ান মালয়েশিয়ার মোনাস বিশ্ববিদ্যালয় এবং আহম্মেদ শাম্মু যুক্তরাষ্ট্রের লিমককউইং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। গ্রেফতারের কিছুদিন পরই তিন আসামি জামিনে বের হয়ে আত্মগোপনে চলে যায়।   এদিকে, তৌহিদের জন্য প্রত্যয়নপত্র দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে তৎকালীন ইউনিয়ন চেয়ারম্যান জাকির হোসেন বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, এলাকায় তৌহিদ এবং তার পরিবারের সদস্যরা ভালো মানুষ হিসেবেই পরিচিত। তৌহিদের বাপ-দাদারা ভারত থেকে এদেশে এসে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছেন। এলাকায় কোনো ধরনের অপরাধ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততা নেই। এজন্যই তৌহিদের ব্যাপারে প্রত্যয়নপত্র দিয়েছিলাম।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow