Bangladesh Pratidin

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৭ জানুয়ারি, ২০১৭

প্রকাশ : শনিবার, ২৩ জুলাই, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ২২ জুলাই, ২০১৬ ২৩:৪৫
সানজিদার মতোই লাশ হলো আরেক শিশু সাব্বির
নিজস্ব প্রতিবেদক
সানজিদার মতোই লাশ হলো আরেক শিশু সাব্বির
রাজধানীতে একদিকে খাল দখল হচ্ছে, অন্যদিকে বাড়ছে দুর্ঘটনা। বৃহস্পতিবার মিরপুরের এই মৃত্যুকূপে পড়ে মারা যায় শিশু সাব্বির —বাংলাদেশ প্রতিদিন

রাজধানীর মহাখালীতে ছয় বছরের শিশু সানজিদার মতো মিরপুরে স্যুয়ারেজ লাইনে পড়ে লাশ হয়েছে আরেক শিশু জুনায়েদ হোসেন সাব্বির (৪)। নিখোঁজের প্রায় ১৯ ঘণ্টা পর গতকাল সকালে তার লাশ উদ্ধার করেছেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। গত বৃহস্পতিবার বিকালে মিরপুর   কমার্স কলেজের পেছনের স্যুয়ারেজ লাইনে পড়ে নিখোঁজ হয় জুনায়েদ। স্থানীয়দের খবরের ভিত্তিতে রাত পৌনে ১১টা থেকে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন ফায়ার সার্ভিসের তিনজন ডুবুরি। মাঝরাত পর্যন্ত শিশুটির সন্ধান না পেয়ে অভিযান স্থগিত রাখা হয়। সকালে দ্বিতীয় দফায় অভিযান শুরু করলে লাশ খুঁজে পাওয়া যায়। ফায়ার সার্ভিস সূত্র বলছে, স্যুয়ারেজ লাইনের পাশে ঘর তুলে সেখানে বসবাস করে সাব্বিরের পরিবার। বৃহস্পতিবার বিকাল ৪টার দিকে হালকা বৃষ্টির মধ্যে সে খেলছিল। হঠাৎ তার নানা শিশুটিকে না দেখে ধারণা করেন, সে খালে পড়ে গেছে। বাচ্চাটিকে কেউ পড়ে যেতে না দেখায় তারা আশপাশে খোঁজ করেন। না পেয়ে রাতে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন। এরপর রাত ৩টা পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা লাইট জ্বালিয়ে তল্লাশি চালান। কিন্তু না পেয়ে সকাল ৭টা থেকে পাঁচজন ডুবুরি আবারও তল্লাশি শুরু করেন। বৃষ্টির কারণে নালায় কিছুটা স্রোত ছিল। ঘটনাস্থল থেকে খানিক দূরে ময়লা-আবর্জনার একটি স্তূপ তৈরি হয়েছিল। সেই ময়লা পরিষ্কার করার পর বেলা ১১টার দিকে সেখানে জুনায়েদের লাশ পাওয়া যায়। চার ফুটের মতো প্রস্থের খোলা এই স্যুয়ারেজ লাইনটি তুরাগ নদের সঙ্গে মিলেছে। শাহআলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন বলেন, মিরপুরে কমার্স কলেজের পেছনে রূপালী হাউজিংয়ের পাশে খেলার সময় নিখোঁজ হয় শিশু সাব্বির। ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল প্রায় ১৯ ঘণ্টা পর তার লাশ খুঁজে পায়। সাব্বিরের বাবার নাম আমির হোসেন। তিনি একটি বায়িং হাউসের ড্রাইভার। শিশুটির লাশ তার বাবা-মার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পরিবারের অনুরোধে লাশের ময়নাতদন্ত হয়নি। প্রসঙ্গত, এর আগে গত ১৩ জুলাই দুপুরে মহাখালী বাস টার্মিনালের পেছনে ড্রেনের পাশে খেলতে গিয়ে পানিতে পড়ে গিয়েছিল ভ্যানচালক শাহ আলম ও গৃহবধূ রুবি আক্তারের মেয়ে সানজিদা (৬)। পরে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ২০ ঘণ্টা পর তার লাশ খুঁজে পেয়েছিল।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow