Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : রবিবার, ২৪ জুলাই, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ২৩ জুলাই, ২০১৬ ২৩:১৯
ভিডিও ফুটেজের সেই রুমা এখন কোথায়
নিজস্ব প্রতিবেদক

গুলশান হামলার ঘটনায় ভিডিও ফুটেজের আলোকে নরসিংদী থেকে আটক সেই রুমা আক্তার এখন কোথায়? কী অবস্থায় তিনি আছেন, তা এখন কেউ নিশ্চিত করছে না। ঢাকার পুলিশ বলছে, তারা কেউ রুমাকে গ্রেফতার বা আটক করেনি। তবে নরসিংদী পুলিশ বলছে, ঢাকা থেকে পুলিশের টিম রুমা আক্তারকে ধরে নিয়ে গেছে। গত ১৯ জুলাই র‌্যাব হলি আর্টিজান বেকারির বাইরের ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ করে। ভিডিও ফুটেজে ঘটনার রাতে সন্দেহভাজন চারজনকে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। যাদের একজন নারীও ছিলেন। আটক রুমা শনাক্তকৃত সেই নারী বলে বেশ কয়েকটি সূত্র নিশ্চিত করে। কিন্তু রুমাকে আটকের পর কোথায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে তা এখনো অজানা। ফলে রুমার পরিবার উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠায় দিন যাপন করছে। ডিএমপির ডিসি (মিডিয়া) মাসুদুর রহমান বলেন, রুমা আক্তারকে আটক করা হয়নি। অন্য কেউ আটক করেছে কিনা তা জানা নেই। একই কথা বললেন কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের ভারপ্রাপ্ত ডিসি সাইফুল ইসলাম। গত ২১ জুলাই সন্ধ্যায় নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার সাধারচর ইউনিয়নের চরখুপি গ্রামের বোন সাবিনা আক্তারের বাড়ি থেকে রুমা আক্তারকে আটক করে পুলিশ। ওই সময় নরসিংদীর পুলিশ সুপার (এসপি) আমেনা বেগম বলেন, ডিএমপির একটি দল রুমা আক্তারকে আটক করেছে। তবে এ অভিযানে নরসিংদী জেলা পুলিশ সম্পৃক্ত ছিল না। কোন অভিযোগে তাকে আটক করা হয়েছে তা পরিষ্কার নয়। শিবপুর থানার ওসি খোন্দকার ইমাম হোসেন বলেন, রুমা আক্তারকে ডিএমপির গোয়েন্দা পুলিশ আটক করেছে। তবে কী কারণে তাকে আটক করা হয় সে বিষয় জানা নেই। তার পরিবারসহ স্থানীয়রাও কেউ জানে না তাকে কেন আটক করা হয়েছে। নরসিংদীর পলাশ উপজেলার চরসিন্দুরের সুলতানপুরের মুক্তিযোদ্ধা সাহাবুদ্দীন আহমেদ ওরফে বুদুর মেয়ে রুমা আক্তারের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গুলশান হামলায় জড়িত সন্দেহে আটক রুমা তিন মাস আগে দুবাই থেকে দেশে ফিরেছেন। তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন। রুমার বাবা মুক্তিযোদ্ধা সাহাবুদ্দীন আহমেদ বুদু জানান, তার তিন মেয়ে ও এক ছেলের মধ্যে রুমা সবার ছোট। রুমার দুবার বিয়ে হয়েছে। প্রথম বিয়ে হয় শিবপুরের সিঅ্যান্ডবি গ্রামের রাসেল মিয়ার সঙ্গে। ওই সংসারে রুমার একটি ছেলে (১০) রয়েছে। পরে বিয়ে হয় নোয়াখালীর এক ছেলের সঙ্গে। দ্বিতীয় স্বামীর আগের স্ত্রী-সন্তান থাকায় তাদের বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে। ছয় মাস আগে চাকরির সুবাদে রুমা দুবাই চলে যায়।   সেখানে তিন মাস থেকে ফিরে আসে। এরপর ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে ঘোরাফেরা করে। দেশে ফেরার পর সে বিভিন্ন লোকের সঙ্গে মোবাইলে কথাবার্তা বলত এবং পাগলের মতো চলাফেরা করত। ভিক্ষাবৃত্তিসহ মানুষের কাছ থেকে ১০০/২০০ করে টাকা চেয়ে নিত। গুলশান ঘটনার দুই দিন পর রুমা চরখুপি গ্রামে ভগ্নিপতি চা বিক্রেতা তারা মিয়ার বাড়িতে আশ্রয় নেয়। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গোয়েন্দা পুলিশ তাকে আটক করে। রুমার মেজোবোন সাবিনা আক্তার সাথী বলেন, রুমা ভিক্ষা করত, বিভিন্ন বাসায় কাজ করত। তার মানসিক সমস্যা ছিল। তাকে ডাক্তারও দেখানো হয়েছিল। সে ৩-৪ মাসের ওষুধ একসঙ্গে খেয়ে ফেলত এবং ঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুর করত।

 

এই পাতার আরো খবর
up-arrow