Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বুধবার, ১৮ অক্টোবর, ২০১৭

ঢাকা, বুধবার, ১৮ অক্টোবর, ২০১৭
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২৬ জুলাই, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ২৫ জুলাই, ২০১৬ ২৩:২৫
২৪ শিশু শ্রমিক উদ্ধার
সাগর হত্যায় মামলা আসামি ১০ জন
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে তারাব পৌরসভার যাত্রামুড়া এলাকার জোবেদা টেক্সাটাইলে পায়ুপথে বাতাস ঢুকিয়ে ১০ বছরের শিশু সাগর বর্মণকে হত্যার পর বেরিয়ে আসছে নানা চাঞ্চল্যকর তথ্য। এর আগেও সাগরকে নির্যাতন করে মাথা ফাটানো হয়েছিল।

এদিকে সোমবার দুপুর আড়াইটার দিকে জোবেদা টেক্সটাইল মিলস থেকে পুলিশ ২৪ জন শিশু শ্রমিককে উদ্ধার করেছে। রূপগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ ইসমাইল হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশ তাদের উদ্ধার করে। তারা হলো— আবদুল্যাহ মিয়া (১৪), মিঠুন (১৪), হাসানুর রহমান (১৬), আল-আমিন (১৭), রুবেল মিয়া (১৭), মো. হোসেন (১৮), রিপন (১৭), সুমন (১৫), নাজমুল (১৬), শাকিব (১৬), নয়ন (১৫), সফিকুল ইসলাম (১৬), সাফায়েত হোসেন (১৪), বিদুৎ (১৫), বিশ্বজিত রায় (১৫), শরীফ (১৭), তোফায়েল হোসেন (১৬), রানা মিয়া (১৭), আনোয়ার হোসেন (১৫), মো. রানা (১৬), মুন্না মিয়া (১৭), মাহবুব (১৬), মাসুম (১৬) ও মিলন মিয়া (১৭)। পরে উদ্ধারকৃতদের রূপগঞ্জ থানায় নেওয়া হয়। শিশু সাগরকে হত্যার ঘটনায় ওই প্রতিষ্ঠানের চারজন কর্মকর্তার নাম উল্লেখসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এর মধ্যে এক কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করে সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। এদিকে টাকার অভাবে শিশু সাগরের লাশ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে আনতে পারেনি বলে জানিয়েছে সাগরের পরিবারের সদস্যরা। নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার ফোরকান শিকদার জানান, শিশুশ্রম একেবারেই নিষিদ্ধ। এ কারখানা থেকে ২৪ জনকে উদ্ধারের পর তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এদিকে ‘জোবেদা টেক্সটাইল ও স্পিনিং মিল’-এর ১০ বছরের শিশু সাগর বর্মণের মৃত্যুর ঘটনায় বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে নানা তথ্য। শ্রম আইন অনুযায়ী কারখানাগুলোতে ১৮ বছরের নিচে শিশুশ্রম নিষিদ্ধ থাকলেও ওই কারখানাতেই কর্মরত আছে অন্তত ৪০০ শিশু শ্রমিক যাদের বয়স ৮ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে। এসব শ্রমিকের ওপর প্রায় সময়ই কারখানা কর্তৃপক্ষের লোকজন নির্যাতন করত সে অভিযোগও উঠে আসছে। জোবেদা টেক্সটাইল ও স্পিনিং মিলে শিশুশ্রমের অভিযোগে এ বছরের শুরুর দিকে শ্রম আদালতে মামলা দায়ের করলেও কোনো অগ্রগতি হয়নি জানিয়েছেন শিশুশ্রম তদারকি করা কল-কারখানা ও প্রতিষ্ঠানসমূহের নারায়ণগঞ্জ কার্যালয়ের উপ-মহাপরিদর্শক আসাদুজ্জামান। কারখানার শ্রমিকদের সূত্রে জানা গেছে, জোবেদা টেক্সটাইল ও স্পিনিং মিলের মোট সাতটি সেকশন রয়েছে। যেখানে সাড়ে তিন হাজারের বেশি শ্রমিক কাজ করে। যার মধ্যে ৫০০ থেকে ৭০০ শিশু শ্রমিক রয়েছে। যাদের বয়স ১৮ বছরের কম। রূপগঞ্জ থানার ওসি ইসমাইল হোসেন জানান, রবিবার দিনগত রাত ১টায় নিহত সাগর বর্মণের বাবা রতন বর্মণ বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।

সাত দিনের রিমান্ডে নাজমুল হুদা : নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলায় জোবেদা টেক্সটাইল ও স্পিনিং মিলে ১০ বছরের শিশু শ্রমিক সাগর বর্মণকে পায়ুপথে বাতাস ঢুকিয়ে হত্যার মামলায় গ্রেফতারকৃত প্রশাসনিক কর্মকর্তা নাজমুল হুদাকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত।

এর আগে একবার মাথা ফাটানো হয়েছিল সাগরের : শিশু সাগর বর্মণকে এর আগেও গত এপ্রিলে মাথায় সুতার কোন ফেলে মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয়েছিল জানিয়েছে পরিবারের সদস্যরা। তারা জানায়, তখনই আমরা কিছু করতে পারি নাই। গরিব পরিবার হওয়ায় তখনো সব সহ্য করে নিয়েছি। কিন্তু এবার তো আমাগো প্রাণটাই লইয়া গেল। সোমবার সকালে মুঠোফোনে এ অভিযোগ করেন নিহত সাগরের ভাবী অঞ্জনা রানী।

মামলায়  অভিযোগ : বাদী রতন বর্মণ মামলায় উল্লেখ করেন, জোবেদা টেক্সটাইল ও স্পিনিং মিলের প্রশাসনিক কর্মকর্তা নাজমুল হুদা, উৎপাদন ম্যানেজার হারুন অর রশিদ, সিনিয়র উৎপাদন কর্মকর্তা আজাহার ইমাম ওরফে সোহেল ও সহকারী উৎপাদন কর্মকর্তা রাশিদুল ইসলাম। এদের মধ্যে প্রশাসনিক কর্মকর্তা নাজমুল হুদাসহ অজ্ঞাত ৩ থেকে ৪ জন লাইনম্যান ও সুপারভাইজার প্রায় সময়ই সামান্য ত্রুটি দেখিয়ে রতন বর্মণ ও ছেলে সাগর বর্মণকে মারধরসহ গালমন্দ করত। তারাই কম্প্রেসারের মেশিনের নল পায়ুপথে ঢুকিয়ে ছেলে সাগর বর্মণকে হত্যা করে। সাগর বর্মণের বাড়ি নেত্রকোনার খালিয়াজুরী থানার রাজিবপুর এলাকায়। সাগর বর্মণ বাবা-মায়ের সঙ্গে তারাব পৌরসভার দিঘীবরাব এলাকায় বসবাস করত।

টাকার অভাবে লাশ আনতে পারছে না পরিবার : শিশু সাগর বর্মণের লাশ এখনো ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রয়েছে। টাকার জন্য লাশ আনতে পারছে না জানিয়েছে নিহতের পরিবার। তারা বলেছেন, আমরা একেবারেই নিতান্ত দরিদ্র পরিবারের সন্তান। এখন লাশ আনব সে টাকাও জোগাড় করতে পারছি না। রবিবার বিকাল ৪টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যায় সাগর বর্মণ। পরে লাশ ওই হাসপাতালের মর্গেই রয়েছে। গতকাল সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টায় সাগরের বাবা রতন বর্মণের মোবাইলে ফোন করলে সেটা রিসিভ করেন সাগরের বড় ভাই রিপন বর্মণের স্ত্রী অঞ্জনা রানী।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow