Bangladesh Pratidin

ঢাকা, মঙ্গলবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ৩১ আগস্ট, ২০১৬ ২৩:১৮
সম্ভাবনার বাংলাদেশ
কর্ণফুলী টানেলে বদলে যাবে চট্টগ্রাম
রেজা মুজাম্মেল, চট্টগ্রাম
কর্ণফুলী টানেলে বদলে যাবে চট্টগ্রাম

কর্ণফুলী নদীর তলদেশে স্বপ্নের টানেল নির্মাণ হলে বদলে যাবে চট্টগ্রামের চিত্র। আমূল পরিবর্তন আসবে অর্থনৈতিক আঙিনায়। প্রতিষ্ঠিত হবে বহুমুখী যোগাযোগব্যবস্থা। বিস্তৃত হবে চট্টগ্রাম নগর। চাপ কমবে নগরের ওপর। কমবে শহরকেন্দ্রিক নির্ভরতা। বৃদ্ধি পাবে চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা।

আগামী অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে বাংলাদেশের  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং যৌথভাবে কর্ণফুলী টানেলের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। ১০ থেকে ১৩ অক্টোবর চীনের প্রেসিডেন্টের তিন দিনের সফরে বাংলাদেশে আসার কথা রয়েছে। এ ব্যাপারে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগ চীনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে। ইতিমধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সর্বশেষ পত্রের পরিপ্রেক্ষিতে চীনের এক্সিম ব্যাংকের চাহিদা মোতাবেক প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ২১ আগস্ট সরবরাহ করা হয়েছে। এসব বিষয়ে চায়না ডেস্কের সঙ্গে ইআরডি সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে বলে জানা যায়। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, কর্ণফুলী টানেল এখন স্বপ্ন নয়, এটি বাস্তবতা। অবকাঠামোগত ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে। এ মাসের মধ্যে শেষ হবে চীনের এক্সিম ব্যাংকের সঙ্গে ঋণ-সংক্রান্ত চুক্তি। অক্টোবরের শুরুর দিকে আনুষ্ঠানিক ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করার কথা আছে। কর্ণফুলী টানেল প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, ‘কর্ণফুলী নদীর তলদেশ দিয়ে বহুলেন সড়ক টানেল নির্মাণ’ শীর্ষক প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর পতেঙ্গা এলাকায়। ৮ হাজার ৪৪৬ কোটি ৬৩ লাখ টাকা (সম্ভাব্য) ব্যয়ের টানেলের অ্যালাইনমেন্ট হবে চট্টগ্রাম এয়ারপোর্ট থেকে কর্ণফুলী নদীর ২ কিলোমিটার ভাটির দিকে। টানেলের প্রবেশপথ হবে নেভি কলেজের কাছে। বহির্গমন পথ হবে কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণ পারের সিইউএফএল সার কারখানা সংলগ্ন ঘাট। মোট ৯ হাজার ২৬৫ দশমিক ৯৭১ মিটার দৈর্ঘ্যের প্রকল্পটির মধ্যে টানেলের দৈর্ঘ্য ৩ হাজার ৫ মিটার (উভয় পাশের ৪৭৭ মিটার ওপেন কাট ব্যতীত)। টানেলে থাকবে ৯২০ মিটার দৈর্ঘ্যের দুটি ফ্লাইওভার। এর মধ্যে শহর প্রান্তের ‘অ্যাট গ্রেড সেকশন’ হবে ৪৬০ মিটারের আর দক্ষিণ প্রান্তের ‘অ্যাট গ্রেড সেকশন’ হবে ৪ হাজার ৪০৩ দশমিক ৯৭১ মিটারের। দেশের প্রথম এই টানেলটি হবে ‘ডুয়েল টু লেন’ টাইপের। টানেল নির্মাণ করা হবে ‘শিল্ড ড্রাইভেন মেথড’ পদ্ধতিতে।

কর্ণফুলী নদীর তলদেশ দিয়ে বহুলেন সড়ক টানেল নির্মাণ প্রকল্পের পরিচালক প্রকৌশলী ইফতেখার কবির বলেন, ইতিমধ্যে পরিবেশগত ছাড়পত্র, ভূমি অধিগ্রহণ, অধিগ্রহণকৃত ভূমির মালিকদের ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন-সংক্রান্ত নানা প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। এ ছাড়া কর্ণফুলী নদীর শহরের প্রান্তের ভূমি অধিগ্রহণ-সংক্রান্ত কাজ শেষ। দক্ষিণ পারের সরকারি-বেসরকারি মালিকানাধীন ৬২ হেক্টর ভূমির জরিপকাজ পরিচালনা করছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। আগামী নভেম্বরের মধ্যে এর কাজ শেষ হওয়ার কথা। তিনি বলেন, কর্ণফুলী টানেল প্রকল্পে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ২০২ কোটি ৬৫ লাখ টাকা অর্থছাড় হয়েছে। এর মধ্যে ভূমি অধিগ্রহণ বাবদ চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের অনুকূলে প্রদান করা হয়েছে ২০১ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। জানা যায়, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বদলে যাবে চট্টগ্রামের চিত্র। গড়ে উঠবে চট্টগ্রাম শহরের সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন ও যুগোপযোগী সড়ক যোগাযোগ, আধুনিকায়ন হবে বিদ্যমান সড়ক যোগাযোগব্যবস্থা, সংযোগ স্থাপিত হবে এশিয়ান হাইওয়ের সঙ্গে, যুক্ত করা হবে কর্ণফুলী নদীর পূর্ব তীর ঘেঁষে গড়ে ওঠা শহরের সঙ্গে ডাউন টাউনকে, ত্বরান্বিত হবে বিভিন্ন উন্নয়নকাজ, বৃদ্ধি পাবে চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা ও সুযোগ-সুবিধা, গতি পাবে প্রস্তাবিত গভীর সমুদ্রবন্দরের নির্মাণকাজ, নতুন যোগাযোগব্যবস্থা সৃষ্টি হবে ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজারের মধ্যে। প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, কর্ণফুলী টানেলের সম্ভাব্যতা যাচাই সমীক্ষা শেষ হয় ২০১৩ সালে। চার বছর মেয়াদকালের প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে চায়না কমিউনিকেশন কনস্ট্রাকশন কোম্পানি (সিসিসিসি)। ২০১৪ সালের ১০ জুন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে বেইজিংয়ে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়। পরে ২০১৪ সালের ২২ ডিসেম্বর সিসিসিসির সঙ্গে সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয়ের চুক্তি হয়। ২০১৫ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি সিসিসিসি বাণিজ্যিক প্রস্তাব দাখিল করে। বাণিজ্যিক প্রস্তাবের পর কারিগরি দিক পরীক্ষা-নিরীক্ষায় দুজন বিদেশি ও একজন দেশি ব্যক্তিভিত্তিক পরামর্শক নিয়োগ দেওয়া হয়। ২০১৫ সালের ৩০ জুন সিসিসিসির সঙ্গে বাণিজ্যিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ও অনুমোদিত অ্যালাইনমেন্ট অনুযায়ী ‘ল্যান্ড অ্যাকুইজিশন প্ল্যান (এলএপি)’, ‘রিসেটেলমেন্ট অ্যাকশন প্ল্যান’ (আরএপি) এবং ‘এনভায়রনমেন্টাল ম্যানেজমেন্ট প্ল্যান’ (ইএমপি)-এর প্রণীত প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় অনুমোদন করে বলে জানা গেছে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow