Bangladesh Pratidin

ঢাকা, মঙ্গলবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ৩১ আগস্ট, ২০১৬ ২৩:২২
লক্ষ্য নির্বাচনের মাধ্যমে জাতীয় পার্টিকে ক্ষমতায় নেওয়া
শফিকুল ইসলাম সোহাগ
লক্ষ্য নির্বাচনের মাধ্যমে জাতীয় পার্টিকে ক্ষমতায় নেওয়া
রুহুল আমিন হাওলাদার

জাতীয় পার্টির মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার বলেছেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনে প্রার্থী দেওয়ার জন্য আমরা কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যায়ে দলকে সংগঠিত করতে শুরু করছি। তিন মাসের মধ্যে মনোনীত করার জন্য প্রার্থী বাছাই করে একটি প্রাথমিক তালিকা তৈরি করব। এক্ষেত্রে তৃণমূল নেতাদের মতামত এবং জনপ্রিয়তা যাচাই করবেন পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ। চলতি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে এইচ এম এরশাদ নেতাদের সঙ্গে নিয়ে হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে সাংগঠনিক সফর শুরু করবেন। একই দিনে হেলিকপ্টারযোগে একটি নির্বাচনী এলাকায় যাবেন এবং জনসভায় বক্তৃতা করবেন। বাংলাদেশ প্রতিদিনের সঙ্গে গতকাল একান্ত আলাপচারিতায় রুহুল আমিন হাওলাদার আরও বলেন, ২৮ আগস্ট দলের যৌথ সভায় জেলা-উপজেলা, পৌরসভা, মহানগর, প্রেসিডিয়াম ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দসহ দলের সব স্তরের নেতাদের সঙ্গে নিয়ে পার্টি চেয়ারম্যান এইচ এরশাদ এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি বলেন, জাতীয় পার্টির ৭৬টি সাংগঠনিক জেলার জন্য ৬৪টি টিম গঠন করা হয়েছে। এসব টিমে নেতৃত্ব দেবেন সংশ্লিষ্ট জেলার প্রেসিডিয়াম, উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য, ভাইস চেয়ারম্যান যুগ্ম মহাসচিব, সাংগঠনিক সম্পাদকসহ দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে (তিন মাসের মধ্যে) অবশ্যই দায়িত্বপ্রাপ্ত সব নেতাকে নিজ নিজ জেলায় জেলা, উপজেলা, পৌরসভা কমিটি গঠন-পুনর্গঠন, মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি কাউন্সিলের মাধ্যমে গঠন করে অর্পিত দায়িত্ব পালন করতে হবে। এক্ষেত্রে পার্টির চেয়ারম্যানসহ উচ্চ পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ জেলা-উপজেলা সফর করবেন। সাবেক এ মন্ত্রী বলেন, ডিসেম্বরে ঢাকায় মহাসমাবেশ হবে। আর এ মহাসমাবেশের মধ্য দিয়ে একক নির্বাচনের বিষয়টি আরও ব্যাপকভাবে প্রচার হবে। এর আগে জেলা এবং উপজেলা পর্যায়ে সংগঠন সুসংগঠিত হবে। তিনি বলেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যে কোনো মূল্যে ভালো ফল অর্জন করতে চাই। জাতীয় পার্টির ৭৬টি সাংগঠনিক জেলার মধ্যে এখনো ১৫টি জেলায় সম্মেলন বাকি রয়েছে। ডিসেম্বরের আগেই এসব জেলার সম্মেলন শেষ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া নিষ্ক্রিয় নেতাদের সক্রিয় করার পাশাপাশি তরুণ নেতাদের হাতে মাঠপর্যায়ের নেতৃত্ব ছেড়ে দেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে। ডিসেম্বরে ঢাকার মহাসমাবেশে লক্ষাধিক লোকসমাগমের টার্গেট রয়েছে। তিনি বলেন, একটাই লক্ষ্য— জাতীয় পার্টিকে আগামী নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ক্ষমতায় নেওয়া। এ জন্য সবার আগে দলকে তৃণমূল পর্যায়ে শক্তিশালী করতে সর্বাত্মক উদ্যোগ নিয়েছি। তিনি বলেন, ইতিমধ্যে কুষ্টিয়া, মেহেরপুর এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জে জেলা সম্মেলন সফলভাবে সম্পন্ন করার জন্য প্রেসিডিয়াম সদস্যসহ দলের শীর্ষ নেতাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। শিগগিরই এই তিন জেলায় সম্মেলন হবে। সামনের দুই মাসে বাকি জেলাগুলোতেও সম্মেলন করা হবে। রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, জাতীয় পার্টি এর আগেও বিভিন্ন ইস্যুতে ঢাকায় মহাসমাবেশ করেছে। এবারের মহাসমাবেশটি হবে ব্যতিক্রম। এই সমাবেশে যেমন লোকসমাগমের বিষয়টিকে প্রাধান্য দেওয়া হবে, তেমনি মহাসমাবেশ থেকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের কথাও ঘোষণা করা হবে। আগামী নির্বাচনের আগে ঢাকার এ মহাসমাবেশ জাতীয় পার্টির জন্য টার্নিং পয়েন্ট হবে বলে দাবি করেন তিনি। দলের সদস্যদের যার যার নির্বাচনী এলাকায় আরও বেশি সময় দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সংসদ সদস্যদের বাইরে দলের শীর্ষ নেতা এবং সম্ভাব্য প্রার্থীদের যার যার এলাকায় যাতায়াত বাড়াতেও বলা হয়েছে। তিনি বলেন, গত ১৪ এপ্রিল জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় সম্মেলন হয়। এবারই প্রথম নবীন-প্রবীণের সমন্বয়ে কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। পার্টির এ শীর্ষ নেতার মতে, সব মিলিয়ে জাতীয় পার্টি কেন্দ্রীয়ভাবে আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে এখন অনেক বেশি শক্তিশালী।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow