Bangladesh Pratidin

ঢাকা, রবিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ৩১ আগস্ট, ২০১৬ ২৩:২৩
শেখ হাসিনার প্রশংসায় অস্ট্রেলীয় হাইকমিশনার
শেখ হাসিনার প্রশংসায় অস্ট্রেলীয় হাইকমিশনার

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রশংসায় পঞ্চমুখ ঢাকায় নবনিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার জুলিয়া নিবলেট। তিনি বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের প্রশংসা করে বলেন, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং নারীর ক্ষমতায়নে চ্যাম্পিয়ন। তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বলেন, আপনি অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং নারীর ক্ষমতায়নে একজন চ্যাম্পিয়ন। গতকাল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তার কার্যালয়ে সাক্ষাত্কালে এসব কথা বলেন অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার জুলিয়া নিবলেট। বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সুরাইয়া বেগম এ সময় উপস্থিত ছিলেন। অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে উন্নয়নের প্রশংসা করে বলেন, অস্ট্রেলিয়াও  বিভিন্ন  ক্ষেত্রে  বাংলাদেশের  সঙ্গে  দ্বিপক্ষীয়  সম্পর্ক জোরদারে আগ্রহী। আমরা  বিভিন্ন  ক্ষেত্রে  বাংলাদেশের  সঙ্গে সহযোগিতা বৃদ্ধি করতে চাই। বিশেষ করে জ্বালানি ও শিক্ষা খাতে। বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সাফল্যের কথা উল্লেখ করে হাইকমিশনার বলেন, বাংলাদেশের ক্রীড়া ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির জন্য শিগগিরই অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের কথা রয়েছে। সন্ত্রাসকে বৈশ্বিক সমস্যা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বৈঠকে বলেন, তার সরকার এ সমস্যা দূরীকরণে দেশব্যাপী গণসচেতনতা সৃষ্টির পদক্ষেপ নিয়েছে। আমরা ধর্মীয় নেতা-শিক্ষকসহ সারা দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদবিরোধী গণসচেতনতা সৃষ্টির পদক্ষেপ নিয়েছি। এক্ষেত্রে জনগণের ব্যাপক সাড়া পাওয়া গেছে। তিনি  এ  প্রসঙ্গে দেশের ৬৪টি জেলায় সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে মতবিনিময় করে তার সরকারের জনমত সৃষ্টির উদ্যোগের  কথাও উল্লেখ করেন। প্রধানমন্ত্রী এ সময় অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শিক্ষা, ক্রীড়া, সংস্কৃতি- প্রভৃতি বিষয়ে আরও বৃহত্ পরিসরে সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরিতে বাংলাদেশের আগ্রহের কথা জানান। নারীর উন্নয়নে তার সরকারের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের তথ্য তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, কোনো দেশই তাদের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারীকে উন্নয়নের মূল ধারায় সম্পৃক্ত করা ব্যতীত এগোতে পারে না। বাংলাদেশের  প্রতিটি  ক্ষেত্রেই নারীরা এগিয়েছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, তারা এখন প্রায় প্রতিটি পর্যায়েই পুরুষের কাছাকাছি অবস্থানে চলে এসেছে। শিক্ষা, ক্রীড়া এবং সৃজনশীল কর্মকাণ্ড— কোনো  কিছুতেই তারা  আর পিছিয়ে নেই। মেয়েরা শিক্ষা ক্ষেত্রে বরং ছেলেদের থেকে এগিয়ে গেছে। স্থানীয় সরকারে বিশেষ করে ইউনিয়ন, উপজেলা, পৌরসভা এবং সিটি করপোরেশনে শতকরা ৩০ ভাগ আসন নারীদের  দিয়ে  পূরণের  বিধান  রাখা  হয়েছে বলে প্রধানমন্ত্রী জানান। তিনি এ প্রসঙ্গে প্রশাসন, বিচার বিভাগ, সশস্ত্র বাহিনী এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীতে নারীরা কর্মরত রয়েছেন উল্লেখ করে দেশের সব শ্রেণি-পেশার ক্ষেত্রেই উচ্চ পদে নারীরা আসীন হয়েছেন বলেও জানান। প্রধানমন্ত্রী  বৈঠকে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের  চমত্কার  দ্বিপক্ষীয়  সম্পর্ক  বিদ্যমান  থাকার কথা উল্লেখ করে এই সম্পর্ক ১৯৭২ সালে প্রথম অর্গানাইজেশন ফর ইকোনমিক কো-অপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টভুক্ত (ওইসিডি) দেশ হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদানের সময় থেকেই। প্রধানমন্ত্রী এ সময় বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে অস্ট্রেলিয়া সরকার ও জনগণের অবদানের কথাও স্মরণ করেন।- বাসস।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow