Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০২:৪৬
ছয় লাশ মর্গে
জিয়া মারজান অধরা
গুলশান হামলার দুই মাস
আলী আজম
জিয়া মারজান অধরা

গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলার দুই মাস আজ। এরই মধ্যে জঙ্গিদের দ্বিতীয় দফায় কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় হামলা, কল্যাণপুর ও নারায়ণগঞ্জে পুলিশের অপারেশনে মাস্টারমাইন্ড তামিম চৌধুরীসহ ১২ জঙ্গি নিহত হওয়াসহ অনেক ঘটনা ঘটে গেছে। তবে এখনো অধরা রয়ে গেছে চাকরিচ্যুত মেজর জিয়া, নুরুল ইসলাম মারজান ও আবু  ইউসুফ বাঙ্গালী। হলি আর্টিজানে কমান্ডো অভিযানে নিহত ৫ জঙ্গিসহ ছয়জনের লাশ ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (সিএমএইচ) মর্গে এখনো পড়ে আছে। পুলিশ বলছে, নিহত জঙ্গিদের পরিবারের সদস্যের সঙ্গে তাদের ডিএনএ মিলেছে। এখনো জঙ্গিদের লাশ নিতে পরিবারের কেউ পুলিশের কাছে আবেদন করেনি। তবে কেউ আবেদন করলে লাশ হস্তান্তরের বিষয়ে তারা সিদ্ধান্ত নেবেন। হলি আর্টিজানে হামলার পর গুলশান এলাকায় ব্যবসা-বাণিজ্যে ধস নামে। রেস্তোরাঁ, মার্কেট ও বিপণিবিতানগুলোতে বেচাকেনা শূন্যের কোঠায় নেমে আসে। ব্যবসায়ীদের মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে। সেই অবস্থা থেকে এই দুই মাসে কিছুটা হলে উন্নতি হয়েছে। স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে গুলশান। এরই মধ্যে গুলশান-বনানী-বারিধারায় চলাচলের জন্য এসি বাস সার্ভিস ও বিশেষ রিকশা নামানো হয়েছে। গুলশান হামলায় আহত র‌্যাব-১ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল তুহিন মোহাম্মদ মাসুদ বলেন, হাঁটুর ওপরে স্প্লিন্টারবিদ্ধ হওয়ার পর অপারেশন করা হয়েছে। প্রায় ২১টি সেলাইয়ের পর এখন কিছুটা সুস্থর দিকে। তবে সেদিনের কথা আজও মনে পড়ে। জঙ্গিরা যতই ভয়ানক হোক না কেন আমরা তাদের প্রতিহত করব। দেশের প্রয়োজনে সব সময় শত্রুদের সঙ্গে মোকাবিলা করব।  পুলিশের গুলশান বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার আবদুল আহাদ জানান, এখনো শরীরে স্প্লিন্টার নিয়ে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি। প্রতিদিন সকালে থেরাপি দিতে হচ্ছে। যতই ঝড় আসুক, তবুও দেশের জনগণের জন্য কাজ করে যাব। গুলশান হামলা মামলায় নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির সাবেক শিক্ষক হাসনাত রেজাউল করিমকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। এই মামলায় তাকে ৮ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। সন্দেহভাজন হিসেবে তাহমিদ হাসিব খানকে ৫৪ ধারায় গ্রেফতার করে ৮ দিন ও ৬ দিনের দুই দফা রিমান্ডে নিয়ে কারাগারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। জঙ্গিদের কাছে বাসা ভাড়া দেওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির ভারপ্রাপ্ত প্রোভিসি অধ্যাপক গিয়াস উদ্দিন আহমেদ, দক্ষিণ পীরেরবাগ থেকে গ্রেফতার সাবেক শিক্ষক নূরুল ইসলামসহ ৫ জনকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পুলিশের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, গুলশান হামলা মামলার বেশ অগ্রগতি হয়েছে। চার্জশিট প্রস্তুতি কাজ শেষ পর্যায়ে। শিগগিরই এ চার্জশিট আদালতে জমা দেওয়া হতে পারে। জিয়া, মারজান ও ইউসুফকে ধরতে অভিযান চলছে। পুলিশের তালিকায় এখনো নিখোঁজ ৪০ জন। তারা জঙ্গি কার্যক্রমে জড়িত বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাদেরও খোঁজা হচ্ছে। প্রসঙ্গত, গত ১ জুলাই রাতে হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলা চালায় জঙ্গিরা। এ হামলায় ১৭ বিদেশি নাগরিকসহ ২০ জন নিহত হন। পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে জঙ্গিদের ছোড়া বোমায় নিহত হন দুই পুলিশ সদস্যও। পরদিন সকালে কমান্ডো অভিযানে ছয়জন নিহত হয়। এদের মধ্যে পাঁচজনই নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন জেএমবির সদস্য। এ ছাড়া ঘটনাস্থল থেকে ৩৩ জনকে জিম্মিকে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ৪ জুলাই রাতে গুলশান থানার এসআই রিপন কুমার দাস বাদী হয়ে সন্ত্রাস দমন আইনে একটি মামলা করেন।

পরে ওই মামলার তদন্তভার দেওয়া হয় ডিএমপির কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটকে (সিটি)। বাংলাদেশের ইতিহাসে এটাই সবচেয়ে বড় জঙ্গি হামলা।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow