Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

ঢাকা, শনিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৭
প্রকাশ : শুক্রবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২২:৫২
নিশানায় আরও ১৫ জঙ্গি
মির্জা মেহেদী তমাল
নিশানায় আরও ১৫ জঙ্গি

মাত্র ৫৬ দিনে আত্মঘাতী ১৯ জন জঙ্গির পতন ঘটেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিশানায় রয়েছে আরও অন্তত ১৫ জন।

ঘাপটি মেরে থাকা প্রথম সারির এই আত্মঘাতী জঙ্গিদের দমনে পুলিশ ও গোয়েন্দাদের সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জঙ্গি নিধনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এখন ‘ক্যাচ কিল অ্যান্ড ডেসট্রয়’ ‘ধর, আর খতম কর’ নীতি অনুসরণ করছে। এত দ্রুত সময়ের মধ্যে অধিক সংখ্যক আত্মঘাতী জঙ্গির পতনের ঘটনা এবারই প্রথম।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের (সিটিটিসি) সূত্রগুলো বলছে, নিউ জামা’আতুল মোজাহিদীন বাংলাদেশের (নিউ জেএমবি) শীর্ষ নেতা বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কানাডার নাগরিক তামিম চৌধুরী নিহত হওয়ার পর সংগঠনটির দায়িত্ব নিয়েছেন সেকেন্ড ইন কমান্ড নুরুল ইসলাম মারজান। তার তত্ত্বাবধানে আরও অন্তত দুর্ধর্ষ ১৫ আত্মঘাতী জঙ্গি রয়েছে। বড় ধরনের ঘটনা ঘটাতে এরা প্রস্তুত। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তত্পরতার কারণে এরা প্রতিনিয়ত তাদের অবস্থান পাল্টাচ্ছে। সিটিটিসি প্রধান মনিরুল ইসলাম গতকাল বলেছেন, জঙ্গি নিধনে সারাবিশ্বে ‘ক্যাচ কিল অ্যান্ড ডেসট্রয়’ নীতি অনুসরণ করা হয়। তাতে করে শীর্ষ ব্যক্তিকে বা যারা নেতৃত্বে রয়েছে তাদের ধ্বংস করা গেলেই নিচের স্তরের সদস্যরা দুর্বল হয়ে পড়ে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সংগঠনটির সেকেন্ড ইন কমান্ড সামরিক কমান্ডার মারজান এখন সদস্যদের পরিচালনা করছে। কোথায় কীভাবে হামলা চালাতে হবে, তা সেই এখন নির্ধারণ করছে। সূত্র জানায়, গুলশান হামলার পর থেকে এ পর্যন্ত ২০ জঙ্গি নিহত হয়েছে। এদের একজন দলের শীর্ষ নেতা তামিম চৌধুরী। বাকি ১৯ জন সংগঠনের আত্মঘাতী সদস্য।

জঙ্গি দমনে কাজ করছেন গোয়েন্দা পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, নিহত আত্মঘাতী সদস্যরা প্রত্যেকেই দ্বিতীয় সারির। প্রথম সারির আত্মঘাতীদের এখনো নিশ্চিহ্ন করা যায়নি। এমন ১৫ জনকে ইতিমধ্যে চিহ্নিত করা হয়েছে। এরা সব ধরনের অস্ত্র চালনায় পারদর্শী। দেশ-বিদেশে এদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এদের মধ্যে রিপন, মানিক, বাদল, আজাদুল কবিরাজ, খালেদ, ইয়াসিন তালুকদার, গালিব, ইকবাল এবং সালাউদ্দিন অন্যতম। এরা নিজেরা আত্মঘাতী ছাড়াও নতুন সদস্যদের অস্ত্র চালানোর প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে। সূত্র জানায়, সংগঠনের সবচেয়ে দুর্ধর্ষ সদস্য এরাই। খুন-খারাবি আর ডাকাতি থেকে শুরু করে যে কোনো ধরনের অপরাধে এরা পারদর্শী। এরাই এখন মানুষের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এদের অবস্থান জানতে গোয়েন্দারা কাজ করছে।

সূত্র জানায়, নিউ জেএমবি’র সদস্যরা কয়েক স্তরে বিভক্ত। তবে প্রথম ও দ্বিতীয় স্তরটি খুবই ভয়ঙ্কর। এরা প্রত্যেকেই আত্মঘাতী স্কোয়াডের সদস্য। দ্বিতীয় স্তরের আত্মঘাতী সদস্যদের মধ্যে ইতিমধ্যে ১৯ জন নিহত হয়েছে। এদের মধ্যে গুলশান হামলার পর কমান্ডো অভিযানে নিহত হয়েছে মীর সামিহ মোবাশ্বের, রোহান ইবনে ইমতিয়াজ, নিবরাস ইসলাম, খায়রুল ইসলাম পায়েল এবং শফিকুল ইসলাম উজ্জ্বল। ২৬ জুলাই কল্যাণপুরের জঙ্গি ঘাঁটিতে অভিযানে নিহত হয়েছে রংপুরের রায়হান কবির তারেক, দিনাজপুরের আবদুল্লাহ, পটুয়াখালীর আবু হাকিম নাঈম, সাতক্ষীরার মতিউর রহমান, নোয়াখালীর জোবায়ের হোসেন, ঢাকার ধানমন্ডির তাজ উল হক রসিক, গুলশানের আকিফুজ্জামান এবং ভাটারা এলাকার মার্কিন নাগরিক শেহজাদ রউফ অর্ক। ঈদের দিন শোলাকিয়া ঈদগাহ জামাতের কাছে হামলা চালানোর সময় নিহত হয়েছে আবির রহমান এবং শফিকুল ইসলাম সোহান ওরফে আবু মুক্তাদিল। সর্বশেষ নারায়ণগঞ্জের পাইকপাড়ায় দেওয়ানবাড়িতে অভিযান চলাকালে তামিম চৌধুরীসহ নিহত হয়েছে তাওসিফ হাসান এবং কাজি ফজলে রাব্বী। তামিম চৌধুরীর সবচেয়ে অনুগত ছিল তাওসিফ ও ফজলে রাব্বী। এই দুজনের একজনকেই সংগঠনের দায়িত্ব দেওয়ার কথা ভাবছিল তামিম চৌধুরী। কিন্তু এরা একসঙ্গেই নিহত হয়।

সূত্র জানায়, ছদ্ম নামে আরও বেশ কিছু আত্মঘাতী স্কোয়াডের সদস্য রয়েছে। যাদের বিষয়ে গোয়েন্দারা কাজ করছে। ইতিমধ্যে ৪০ জন নিখোঁজ যুবকের নাম জানা গেছে। যাদের অধিকাংশই জঙ্গি সংগঠনে যোগ দিয়েছে বলে তারা জানতে পেরেছে। এরা আত্মঘাতী স্কোয়াডের সদস্য হয়েছে কি-না, গোয়েন্দাদের ভাবিয়ে তুলেছে।

সূত্র জানায়, শিক্ষিত এবং ধনী পরিবার থেকে সদস্য সংগ্রহের কাজটি বেশি করেছিল নিবরাস। সদস্য সংগ্রহের জন্য নিবরাস প্রত্যেকের গ্রামের বাড়ি পর্যন্ত যাতায়াত করেছে। রাব্বীকে দলে ভেড়াতে নিবরাস তাদের ঝিনাইদহের সোনালিপাড়া পর্যন্ত গিয়েছে। এ ছাড়া পাইকপাড়ায় নিহত অর্ককেও সংগ্রহ করেছিল নিবরাস। ধানমন্ডির বাসা থেকে অর্ক বের হয়েছিল নিবরাসের কথা বলেই।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow