Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : শুক্রবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২২:৫৬
নিউইয়র্কে এবার খুন বাংলাদেশি নারী
প্রতিদিন ডেস্ক
নিউইয়র্কে এবার খুন বাংলাদেশি নারী
নাজমা খানম

নিউইয়র্কে  দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে এবার প্রাণ গেল এক বাংলাদেশি নারীর। ৬০ বছর বয়সী বাংলাদেশি নাজমা খানমকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতে খুনের এ নিষ্ঠুর ঘটনা ঘটে ৩১ আগস্ট স্থানীয় সময় রাত সোয়া ৯টায় (বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার সকাল সোয়া ৭টা) নিউইয়র্ক সিটির কুইন্সে জ্যামাইকা হিলস এলাকায়।

নিজ বাসার দুই ব্লকের মধ্যে ১৬০-১২ নরমাল রোডে নাজমা খানমকে হত্যা করা হয়। কর্মস্থল থেকে বাসায় ফেরার সময় নাজমা আক্রান্ত হন। ১০০ গজ পেছনেই হাঁটছিলেন তার স্বামী। খবর এনআরবি নিউজের। পুুলিশ জানায়, ‘আমাকে মেরে ফেলল, বাঁচাও বাঁচাও’ নাজমা খানমের এমন আর্তচিৎকারে স্বামী দৌড়ে কাছে আসার আগেই দুর্বৃত্ত পালিয়ে যায়। তার স্বামী ভেবেছিলেন, তার স্ত্রী হয়তো ছিনতাইকারীর কবলে পড়েছে। কিন্তু কাছে এসে দেখতে পান, বুক থেকে রক্ত গড়াচ্ছে। সঙ্গে সঙ্গে ফোন করেন পুলিশকে। দ্রুত অ্যাম্বুলেন্সসহ পুলিশ এসে নাজমাকে কাছের জ্যামাইকা হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়ার পর চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার বুকে ছুরিকাঘাত করা হয় বলে চিকিৎসকরা উল্লেখ করেন। নিউইয়র্ক মুসলিম পুলিশ অফিসার অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য মোহাম্মদ কবিরের খালা নাজমা খানমের ঘাতকের সন্ধানে পুলিশ মাঠে নেমেছে বলে সর্বশেষ প্রাপ্ত সংবাদে জানা গেছে। নাজমা খানম তিন সন্তানের মা। তার এক সন্তান নিউইয়র্কে এবং অন্য দুজন থাকেন বাংলাদেশে। গত ১৩ আগস্ট এই এলাকার কাছাকাছি দূরত্বে ওজনপার্কে গুলি করে হত্যা করা হয় বাংলাদেশি ইমাম মাওলানা আলাউদ্দিন আখনজি (৫৫) এবং তার সাথী তারা মিয়াকে (৬৪)। ওই হত্যাকাণ্ডের মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে অস্কার মরেল (৩৫) নামে এক হিসপ্যানিককে।   নাজমা খানমের আরেক ভাগ্নে মোহাম্মদ রহমান দাবি করেন, ‘তার ৃখালাকেও ধর্মীয় বিদ্বেষমূলকভাবে হত্যা করা হয়েছে। এটিও হেইট ক্রাইম। কারণ তিনি মুসলিম পোশাকে হাঁটছিলেন। এ ছাড়া তার কাছ থেকে কিছুই নেয়নি দুর্বৃত্ত। ’ তদন্ত কর্মকর্তারা অবশ্য তা স্বীকার করেননি। তারা বলেন, ‘এক্ষুণি হেইট ক্রাইম’ হিসেবে অভিহিত করার মতো কিছুই উদ্ঘাটিত হয়নি। ’ উল্লেখ্য, এখন পর্যন্ত ইমামসহ দুই বাংলাদেশিকে হত্যার ঘটনাকেও ‘হেইট ক্রাইম’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি। এ নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিসহ মুসলিম আমেরিকানরা ক্ষুব্ধ। তারা প্রবাসীদের নিরাপত্তায় যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow