Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৪ আগস্ট, ২০১৭

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৪ আগস্ট, ২০১৭
প্রকাশ : সোমবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২৩:০০
হাইকমিশনারকে তলব পাকিস্তানকে কড়া বার্তা
মীর কাসেমের ফাঁসিতে ‘মর্মাহত’ তুরস্কও
নিজস্ব প্রতিবেদক

যুদ্ধাপরাধী মীর কাসেম আলীর ফাঁসির দণ্ড কার্যকরের বিষয়ে বিরূপ মন্তব্য করায় ঢাকায় নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনারকে তলব করে কড়া বার্তা দিয়েছে বাংলাদেশ। বলা হয়েছে, একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়।

এই বিচার নিয়ে পাকিস্তানের কোনো মতামত দেওয়ার সুযোগ নেই। ঢাকায় পাকিস্তানের নিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার সামিনা মেহতাবকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করে এ বার্তাই দিয়েছে বাংলাদেশ। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব কামরুল হাসান গতকাল তার দফতরে পাকিস্তানের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনারকে ডেকে পাঠান। এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দক্ষিণ এশিয়া অনু বিভাগের মহাপরিচালক মনোয়ার হোসেন।

পরে কামরুল হাসান বলেন, ‘মীর কাসেম আলীর মৃত্যুদণ্ড নিয়ে পাকিস্তান যে মতামত দিয়েছে, সেটি আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের শামিল। এ বিচার স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় হয়েছে। তার আপিল করার সুযোগ ছিল। আপিলের সুযোগ তিনি নিয়েছেন। সর্বোচ্চ আদালত মনে করেছেন, তিনি ১৯৭১ সালে মানবতাবিরোধী যে অপরাধ করেছেন, এটাই তার উপযুক্ত শাস্তি। মানবতা?বিরোধী অপরাধের বিচার বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়। কাজেই এ নিয়ে পাকিস্তানের মতামত দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। ’ শনিবার রাতে গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধী জামায়াত নেতা মীর কাসেমের ফাঁসি কার্যকর করা হয়। এরপরই বিবৃতি দিয়ে প্রতিক্রিয়া জানায় পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তাদের বিবৃতিতে বলা হয়, ১৯৭১-এর ডিসেম্বরের আগে সংঘটিত ‘কথিত’ অপরাধের অভিযোগে ‘ত্রুটিপূর্ণ বিচার’ প্রক্রিয়ায় মীর কাসেমের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করায় পাকিস্তান গভীরভাবে মর্মাহত। বিবৃতিতে মীর কাসেমের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনাও জানানো হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০০৯-এ আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানের সঙ্গে টানাপড়েন শুরু হয়। এই বিচারের রায় কার্যকরকে ঘিরে দুই দেশের সম্পর্ক আরও খারাপের দিকে যায়। জামায়াত নেতা কাদের মোল্লা থেকে শুরু করে প্রত্যেক মানবতাবিরোধী অপরাধীর ফাঁসি কার্যকরের পর পাকিস্তানের কাছ থেকে অযাচিত বিরূপ প্রতিক্রিয়া এসেছে। এ নিয়ে পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের তিক্ততা বাড়ে। দুই দেশের কূটনীতিকদের পাল্টাপাল্টি তলব ও প্রত্যাহারের ঘটনাও ঘটে। বাংলাদেশ সরকার প্রতিবারই পাকিস্তানের প্রতিক্রিয়ার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে আসছে। মুক্তিযুদ্ধকালের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার নিয়ে ইসলামাবাদের আচরণকে অযাচিতভাবে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করে আসছে ঢাকা। পাকিস্তানের আচরণকে ধৃষ্টতামূলক হিসেবে আখ্যায়িত করে তা থেকে তাদের বিরত থাকতে বারবার আহ্বান জানিয়ে আসছে বাংলাদেশ। তারপরও পাকিস্তান অযাচিতভাবে নাক গলিয়ে যাচ্ছে।

পাকিস্তানের পর মর্মাহত তুরস্ক : মীর কাসেম আলীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ায় পাকিস্তানের পর এবার মর্মাহত হয়েছে তুরস্ক। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে দেওয়া এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা বলা হয়েছে। তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মীর কাসেম আলীকে জামায়াতের ইসলামীর প্রধান অর্থ জোগানদাতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়, আমরা (তুরস্ক) দুঃখের সঙ্গে জানতে পেরেছি জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য মীর কাসেম আলীর বিরুদ্ধে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের জারি করা মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। আমরা আবারও জোর দিয়ে বলছি, এ পদ্ধতিতে অতীতের ক্ষত সারানো যাবে না এবং আমরা আশা করি এই ভুল চর্চা বাংলাদেশের ভ্রাতৃপ্রতীম জনগণের মধ্যে বিভেদ বাড়াবে না।

up-arrow