Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : মঙ্গলবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২২:৪২
তৃণমূল পুনর্গঠনে তত্পর বিএনপি
মাহমুদ আজহার
তৃণমূল পুনর্গঠনে তত্পর বিএনপি

বিএনপির সাংগঠনিক জেলা ৭৫টি। গত ছয়মাসে বিভিন্ন সময়ে ঢাকাসহ ১০ জেলায় কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।

ঈদের পর পুরোদমে বাকি ৬৫টি জেলায় পুনর্গঠনে মনযোগ দেবেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। দলের ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাহজাহানকে সাংগঠনিক পুনর্গঠনে সমন্বয়ক করে এ সম্পর্কে দিক-নির্দেশনাও দিয়েছেন তিনি। এ নিয়ে কাজও শুরু করেছেন বিএনপির এই নেতা। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ   তথ্য জানা গেছে। এরই মধ্যে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান, দলের যুগ্ম মহাসচিব ও সাংগঠনিক সম্পাদকদের নিয়ে দুইদফা বৈঠক করেছেন। বিভিন্ন জেলা থেকে সাংগঠনিক রিপোর্টও জমা নেওয়া হয়েছে। ঈদের আগেই কয়েকটি বিভাগের সাংগঠনিক রিপোর্ট জমা দেওয়ার কথা রয়েছে। ওই রিপোর্টের আলোকেই জেলা কমিটি পুনর্গঠন প্রক্রিয়া শুরু হবে।

কাউন্সিলের সাড়ে ৪ মাস পর কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি ঘোষণা করা হয়। সর্বশেষ দেওয়া হয়েছে ঢাকা জেলা কমিটি। ঈদের পরপরই বিএনপির কয়েকটি অঙ্গ সংগঠন ও ঢাকা জেলার কমিটি দেওয়া হবে। সেই সঙ্গে কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটিতেও ত্রুটি-বিচ্যুতিগুলো সংশোধন করা হবে।

বিএনপির গুলশান কার্যালয় সূত্র জানায়, আগামীকাল পবিত্র হজ পালনে সৌদি আরব যাবেন বেগম খালেদা জিয়া। ঈদের পর দেশে ফিরবেন তিনি। সেখানে যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানেরও আসার কথা রয়েছে। হজ থেকে ফিরেই দল গোছানোয় মনযোগ দেবেন তিনি। আজ-কালের মধ্যে কোনো কিছু না হলে ঈদের আগে দলের অঙ্গ-সংগঠনের কোনো কমিটি না হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় কমিটি চূড়ান্ত পর্যায়ে ছিল। এ নিয়ে নতুন করে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা যায়।

কমিটি গঠন প্রসঙ্গে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান বাংলাদেশ প্রতিদিনকে জানান, ‘দল আমাকে জেলা পুনর্গঠনে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব দিয়েছে। এরই মধ্যে আমরা কাজও শুরু করেছি। দলের মহাসচিব পুনর্গঠন প্রক্রিয়া সুপারভাইস করছেন। যুগ্ম-মহাসচিব, সাংগঠনিক ও সহ-সাংগঠনিক সম্পাদকসহ সংশ্লিষ্ট এলাকার সাবেক মন্ত্রী-এমপি সবাই এ প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করবেন বলে আমরা আশা করছি। ঈদের পর পুরোদমে সাংগঠনিক পুনর্গঠন প্রক্রিয়া শুরু হবে। ’

গত বছরের ৯ আগস্ট তৃণমূলে চিঠি পাঠিয়ে একমাসের মধ্যে জেলা কাউন্সিলের মাধ্যমে কমিটি পুনর্গঠনের নির্দেশ দিয়েছিল কেন্দ্র। এরপর রাঙামাটি, সিলেট জেলা ও মহানগর, কুড়িগ্রাম, ঝিনাইদহ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নীলফামারী এবং সৈয়দপুরে কাউন্সিলের মাধ্যমে কমিটি গঠন করা হয়। এর আগেই অবশ্য নেত্রকোনা জেলায় কাউন্সিলের মাধ্যমে কমিটি গঠন করা হয়। সর্বশেষ কমিটি হয় ঢাকা জেলার।

জানা যায়, বিএনপির সাংগঠনিক জেলা খাগড়াছড়ি, বান্দরবান, নোয়াখালী, খুলনা জেলা ও মহানগর, চূয়াডাঙ্গা, লালমনিরহাট, গাইবান্ধা, নওগাঁসহ অন্তত ১৪টি কাউন্সিল উপযোগী। পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় বিএনপি এখন সেই জেলাগুলোকেই প্রাধান্য দিচ্ছে। ঈদের পরপরই কয়েকটি জেলায় কাউন্সিলের মাধ্যমে কমিটি করার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দিয়েছেন বেগম জিয়া। বাকি জেলাগুলোতেও কাউন্সিলের মাধ্যমে কমিটি দেওয়া হবে। এ প্রক্রিয়া শেষ করতে আরো তিন থেকে চার মাস সময় লাগতে পারে বলে দলীয় সূত্র জানায়। সম্প্রতি দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে জেলা ও মহানগরে সাংগঠনিক কমিটির আকার নির্ধারণ করা হয়। প্রতিটি ওয়ার্ডে ন্যূনতম ১০০ জন করে সদস্য করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। সিদ্ধান্ত হয়, ওয়ার্ড বা ইউনিয়ন কমিটি হবে ৫১ সদস্যের। থানা বা উপজেলা পর্যায়ের কমিটি হবে ৭১ সদস্যের। জেলা বা মহানগর কমিটি হবে ১৫১ সদস্যের। এর মধ্যে ৭৪টি হবে কর্মকর্তা পর্যায়ের পদ, বাকি ৭৬টি সদস্য পদ। অবশ্য জেলা-মহানগর ১৭১ সদস্যের কমিটি করার ব্যাপারেও স্থায়ী কমিটিতে আলোচনা হয়েছে। স্থায়ী কমিটির নেওয়া সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তৃণমূলে কমিটি গঠন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সব কমিটিই কাউন্সিলের মাধ্যমে করতেও বলা হয়।

জানা যায়, ঈদের পরপরই সাংগঠনিক বিভাগভিত্তিক দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক ও সহ সাংগঠনিক সম্পাদকরা জেলা সফর করবেন। ওই বিভাগে অবস্থান নেওয়া যুগ্ম মহাসচিবরাও তাদের এ কাজে তদারকি করবেন। দল সমর্থিত সাবেক এমপি-মন্ত্রী, উপজেলা-পৌরসভার নির্বাচিত প্রতিনিধিরাও পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত থাকবেন। জেলার সাংগঠনিক ত্রুটি-বিচ্যুতি নির্ধারণের পাশাপাশি পরিস্থিতি উত্তরণে করণীয় নিয়ে তারা সুপারিশ করবেন কেন্দ্রে। ওই রিপোর্ট ধরেই সাংগঠনিক পুনর্গঠন প্রক্রিয়া চালাবে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। একইভাবে জেলা পর্যায়ে বিএনপির অঙ্গ সহযোগী সংগঠনগুলোর রিপোর্ট দিতেও সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য জানান, বছরজুড়েই বিএনপি সাংগঠনিক কার্যক্রম নিয়ে ব্যস্ত থাকবে। বিএনপির পাশাপাশি অঙ্গ-সংগঠনগুলোও ঢেলে সাজানো হবে। বিষয়ভিত্তিক কমিটিও হবে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী বছরের মাঝামাঝিতে সর্বশক্তি দিয়ে আন্দোলনের মাঠে নামবে বিএনপি।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow