Bangladesh Pratidin

ঢাকা, সোমবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : মঙ্গলবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২২:৪৩
বিদেশিদের বিশেষ নিরাপত্তার সিদ্ধান্ত
পাঁচ মন্ত্রীর বৈঠক
মানিক মুনতাসির

ঢাকায় অবস্থানরত বিদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তার উদ্বেগ কাটেনি। বিশেষ করে জাপানি আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) অনেক পরামর্শক, বিশেষজ্ঞ ও কর্মকর্তা এখনো কাজে যাচ্ছেন না। মেট্রোরেল প্রকল্পে কর্মরত যে সাত জাপানি নাগরিক গুলশানের হলি আর্টিজান হামলায় নিহত হয়েছেন সে পদগুলো এখনো শূন্য রয়েছে। জাপান দূতাবাস থেকে বারবার চিঠি দিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ব্যাপারে তাগাদা দেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে একাধিকবার আশ্বস্ত করা হয়েছে। কিন্তু বিভিন্ন স্থানে জঙ্গিগোষ্ঠীর সন্ধান, জঙ্গি ঘাঁটির নির্মূলের খবরও তাদেরকে স্বস্তি দিতে পারছে না। এ জন্য এ বিষয়ে করণীয় নির্ধারণে গতকাল সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের নেতৃত্বে দীর্ঘ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সে বৈঠকে স্বরাষ্ট্র, পরিকল্পনামন্ত্রী, পররাষ্ট্র সচিব, সড়ক বিভাগের সচিবসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

সূত্র জানায়, গতকালের বৈঠকে বিদেশি নাগরিকদের ‘ক্লোজড প্রটেকশনের’ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া প্রকল্প এলাকায় সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা বাহিনীর টহল রাখার ব্যাপারে সুপারিশ করা হয়েছে। এ ব্যাপারে পুলিশ বিভাগকে আরও শক্তিশালী ভূমিকা রাখতে বলা হয়েছে। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে— একজন বিদেশি নাগরিক এয়াপোর্টে নামার সঙ্গে সঙ্গে তাকে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার আওতায় আনার ব্যবস্থা করতে হবে। গুরুত্ব বুঝে ওই নাগরিক বা বিশেষজ্ঞকে পুলিশি প্রটেকশন দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। সংশ্লিষ্ট বিদেশি নাগরিক যেসব স্থানে কাজ করবেন। যেসব এলাকায় থাকবেন। সম্ভাব্য বিনোদনকেন্দ্র ও কেনাকাটার জন্য সেসব মার্কেট, রেস্টুরেন্টে শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে বলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। বিশেষ করে মেট্রোরেল ও পদ্মা সেতু প্রকল্প এলাকায় যেসব বিদেশি, শ্রমিক, পরামর্শক বা প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত রয়েছেন এবং থাকবেন তাদেরকে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা দেওয়া হবে। যেন কোনোভাবেই নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি না হয় এবং প্রকল্পের কাজে যেন ব্যাঘাত না ঘটে সেজন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে সজাগ থাকার পরামর্শ দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী।

জানা গেছে, গুলশান হামলার পর জঙ্গি উত্থানের বিষয়কে কেন্দ্র করে জাইকা, বিশ্বব্যাংক, বিশ্বব্যাংকের সহযোগী সংস্থা আইএফসি, আইএমএফ, এডিবি, আইডিবিসহ, ইউএসএইড, ইউনিসেফসহ ৩২টি উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা ও দেশ ঢাকার অবস্থানরত তাদের নাগরিকদের নিরাপত্তার ব্যাপারে চিঠি দিয়েছে সরকারকে। সে বিষয়টি নিয়েও গতকালের বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, বিদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রকল্প এলাকাগুলোতে সব ধরনের নিরাপত্তা বাড়ানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে।

জানা গেছে, গত ২১ আগস্ট বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত মাসাতো ওতানবি অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে এ বিষয় নিয়ে দীর্ঘ বৈঠক করেন। বৈঠকে তিনি জাপানের অর্থায়নে চলমান প্রকল্পগুলোতে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করেছেন। সম্প্রতি নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে জাইকার প্রধান কার্যালয়ের সিনিয়র স্পেশাল অ্যাডভাইজার মাসাকি কাতো বাংলাদেশ সফর করে গেছেন। সে সময় তিনি বৈঠক করেছেন সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে। তাই জাপান সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত প্রকল্পে নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিষয়ে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। শুধু মেট্রোরেল বা এমআরটি-৬ প্রকল্পে চার দেশের ১৮ জন বিদেশি কর্মরত রয়েছেন। তাদের সবার নিরাপত্তার ব্যাপারে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে গতকালের বৈঠকে। সূত্র জানায়, পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, কর্ণফুলী টানেল, মাতারবাড়ী কয়লাভিত্তিক বিদ্যুেকন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পসহ যেসব গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় কত সংখ্যক বিদেশি নাগরিক কর্মরত রয়েছেন তার একটা পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয় সভায়। ওই পরিসংখ্যানের সঙ্গে পর্যটকদেরকে যুক্ত করে নতুন একটি তালিকা প্রস্তুত করতে বলা হয়েছে পরিকল্পনা কমিশন ও বিনিয়োগ বোর্ডকে। তাদের হালনাগাদ পরিসংখ্যান আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছেও সরবরাহ করতে বলা হয়েছে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow