Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : মঙ্গলবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২২:৫০
টাকায় মেলে ভাড়াটিয়া বিশেষজ্ঞ
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
টাকায় মেলে ভাড়াটিয়া বিশেষজ্ঞ

টাকা দিলেই ‘ভাড়াটিয়া বিশেষজ্ঞ’ পাওয়া যায় বলে রামপাল কয়লাবিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্পের সমর্থনকারী বিশেষজ্ঞদের সমালোচনা করেছেন তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্যসচিব অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ। রবিবার রাতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সেলিম আল দীন মুক্তমঞ্চে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ আহ্বান জানান। রামপাল সমর্থনকারী বিশেষজ্ঞদের ব্যাপারে বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘একজন বিশেষজ্ঞের যত বড় ডিগ্রিই থাকুক না কেন, তিনি যদি কোনো কোম্পানির চাকুরে হন তবে বিশেষজ্ঞ জ্ঞানের বদলে বিজ্ঞাপনের প্রচারক হয়ে যান। কাণ্ডজ্ঞান না থাকলে বিশেষজ্ঞ জ্ঞান কোনো কাজে আসে না। টাকা দিয়ে “ভাড়াটিয়া বিশেষজ্ঞ’ পাওয়া যায়, কিন্তু যারা সুন্দরবন রক্ষার জন্য আন্দোলন করছেন তাদের কেনা যাবে না।’ সুন্দরবন ও পরিবেশ সম্পর্কে দেওয়া সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রী ও আমলার বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘সুন্দরবন নিয়ে তারা যখন বিভিন্ন অযৌক্তিক ও হাস্যকর কথা বলছেন তখন বোঝা যায় সুন্দরবনের ব্যাপারে তাদের আসলে কোনো আন্তরিকতাই নেই।’ এ ছাড়া আন্দোলনরত জাতীয় কমিটিকে যারা সমর্থন করেন তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যে যেভাবে পারেন সেভাবেই আন্দোলনে অংশগ্রহণ করুন। সবাইকে যে একই পদ্ধতিতে আন্দোলনে আসতে হবে তা নয়, যার ভিতরে যে ক্ষমতা আছে তার সে ক্ষমতাকেই কাজে লাগাতে হবে। আমাদের আন্দোলনকারীদের অনেকে সুন্দরবনের পক্ষে লেখালেখি করছেন, অনেকে গান বানাচ্ছেন, অনেকে নাটক লিখছেন, মোট কথা নিজের ভিতরের ক্ষমতাটাকে কাজে লাগাতে হবে।’ আনু মুহাম্মদ আরও বলেন, ‘এটা নিশ্চিত রামপালে বিদ্যুৎ কেন্দ্র বাতিল হবেই। যত দ্রুত আমরা এ আন্দোলন বেগবান করতে পারব তত তাড়াতাড়ি এ প্রকল্প বাতিল হবে। এখন প্রয়োজন আন্দোলন শক্তিশালী করা।’ জাতীয় কমিটির আন্দোলনের অর্থের জোগান নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর তোলা প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তার প্রেস কনফারেন্সে আন্দোলনের অর্থের জোগান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। বিএনপি-জামায়াতের সময় আমরা যখন ফুলবাড়ী আন্দোলন করেছিলাম তখন আপনি সে আন্দোলনে সমর্থন জানিয়েছিলেন, তখন অর্থের জোগান যেভাবে হতো এখনো সেভাবেই হয়। আর আমাদের তো অর্থের তেমন একটা দরকারও হয় না। আন্দোলনকারী বিশেষজ্ঞরা, ছাত্ররা, তরুণরা নিজেদের গায়েগতরে খেটে আন্দোলন করছেন। আপনারা রামপালের পক্ষে যে কাজ করতে লাখ লাখ কোটি কোটি টাকা ব্যয় করছেন আমাদের আন্দোলনকারীরা সে কাজ করছেন বিনা টাকায়।’ সরকারের উন্নয়ন ধারণার সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘বলা হয় উন্নয়ন করতে গেলে পরিবেশের একটু-আধটু ক্ষতি হবেই। সরকারের উন্নয়নের ধারণাটা বদলাতে হবে। যে উন্নয়নে পরিবেশের বিপজ্জনক মাত্রায় ক্ষতি হয় তা তো কোনো উন্নয়নই নয়। অস্তিত্ব টিকিয়ে রেখে যদি সমৃদ্ধি অর্জন করা যায় সেটাই উন্নয়ন। অর্থনৈতিক বিবেচনায়ও এটা একটা ব্যাড প্রজেক্ট।’ সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট জাবি শাখার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাসুক হেলাল অনীকের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য দেন বাসদের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রাজেকুজ্জামান রতন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সামিনা লুত্ফা ও তানজিম উদ্দিন খান, ছাত্র ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন প্রিন্স। রবিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চে শুরু হয় আলোচনা সভাটি। আলোচনা সভার শেষে বটতলা থিয়েটারের পরিবেশনায় মঞ্চস্থ হয় নাটক ‘সুন্দরবনগাথা’। রাত পৌনে ১১টায় অনুষ্ঠান শেষ হয়।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow