Bangladesh Pratidin

ঢাকা, রবিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২৩:০৪
বাবুলের এখন কী হবে
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা ও চট্টগ্রাম
বাবুলের এখন কী হবে

সাবেক এসপি বাবুল আক্তারের এখন কী হবে? পুলিশ বাহিনীর চাকরি থেকে অব্যাহতির পর এখন স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু হত্যা মামলায় সন্দেহজনক হিসেবে তিনি কি গ্রেফতার হচ্ছেন? এ নিয়ে আলোচনা এখন পুলিশ বাহিনীসহ সর্বত্র। গুজব রয়েছে এরই মধ্যে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) একাধিক টিম এ জন্য ঢাকায় এসেছেন। যদিও সিএমপির কেউ এ বিষয়টি স্বীকার করেননি। অন্যদিকে মিতুর বাবার আচরণে ‘অস্বাভাবিকতা’ দেখছে পুলিশ। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মিতু হত্যার পর মামলার অগ্রগতি ও সার্বিক পরিস্থিতি জানতে বাবুল আক্তার কিংবা তার শ্বশুর সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা মোশাররফ হোসেন কোনো ধরনের যোগাযোগ করেননি। তবে মিতুর পরিবার থেকেও উল্টো দাবি করা হচ্ছে মামলার অগ্রগতি বিষয়ে জানাতে তদন্ত সংশ্লিষ্ট কেউ তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেননি। সিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (অপারেশন ও ক্রাইম) দেবদাস ভট্টাচার্য্য বলেন, এ ঘটনার পর থেকে আজ (গতকাল বুধবার) পর্যন্ত মামলার সার্বিক পরিস্থিতি জানতে বাবুল আক্তার নিজে থেকে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কিংবা তদারকি কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেনি। এমনকি মিতুর বাবা (মোশাররফ হোসেন) গণমাধ্যমে বাবুল আক্তারের চাকরির বিষয়ে কথা বলছেন। কিন্তু মিতু হত্যাকাণ্ড নিয়ে গণমাধ্যম যতটুকু আগ্রহী তারা ততটুকু নয়। মিতুর বাবা একজন পুলিশ অফিসার হয়েও মেয়ের খুনের মামলার সার্বিক অগ্রগতির বিষয়ে জানতে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেনি। বাবুল আক্তার ও তার শ্বশুরের আচরণ আমাদের কাছে স্বাভাবিক মনে হয়নি। ঘটনার সঙ্গে বাবুল আক্তারের সম্পৃক্ততার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে দেবদাস ভট্টাচার্য্য বলেন, ‘মামলার তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বলা যাচ্ছে না কে জড়িত, আর কে জড়িত নয়। তদন্তে যার সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যাবে, তাকে গ্রেফতার করা হবে।’ মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত ৫ জুন মাহমুদা খানম মিতু খুনের পর এ মামলার তদন্ত করছে চট্টগ্রাম মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে এ পর্যন্ত সাতজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ ছাড়া কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশগ্রহণকারী রাশেদ ও নবী। আলোচিত এ মামলার বেশ কিছু অগ্রগতি হলেও মামলা দায়েরের পর থেকে একবারের জন্যও তদন্ত কর্মকর্তা ও তদারকি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেননি মামলার বাদী বাবুল আক্তার কিংবা তার শ্বশুর সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা মোশাররফ হোসেন। এমনকি তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও তারা এ বিষয়ে খুব একটা আগ্রহ দেখায়নি। বাবুল আক্তারের শাশুড়ি সাহেদা মোশাররফ মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের এ দাবি অস্বীকার করেন। তিনি উল্টো দাবি করে বলেন, ‘এ পর্যন্ত মিতু হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেননি। এমনকি সিএমপির কেউ আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেনি।’ মিতু হত্যার ১৯ দিন পর ২৪ জুন বাবুল আক্তারকে ঢাকার বনশ্রী এলাকায় শ্বশুরের বাসা থেকে তুলে নিয়ে যায় পুলিশ। প্রায় ১৫ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান ওই সময় বলেছিলেন কয়েকজন আসামির মুখোমুখি করার জন্য বাবুল আক্তারকে বাসা থেকে আনা হয়েছিল। একইদিন বাবুল আক্তার পদত্যাগপত্র জমা দেন বলে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল। তবে তিনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেননি বলে বাবুলের শ্বশুর পরে দাবি করেন। অন্যদিকে, মুছার স্ত্রী পান্না আক্তার এক সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন তার স্বামীকে ২২ জুন নগরীর বন্দর এলাকার একটি বাসা থেকে পুলিশ আটক করে। এরপর তাকে ঢাকায় নিয়ে বাবুলের মুখোমুখি করানো হয়। কিন্তু তার স্বামীর সঙ্গে তাদের আর কোনো যোগাযোগ নেই। গত ২৪ জুন বাবুল আক্তারকে শ্বশুরবাড়ি থেকে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়ার পর এ ঘটনার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে ধূম্রজাল। তখন থেকে গুজব উঠে মিতু হত্যাকাণ্ডের পেছনে জড়িত রয়েছেন তার স্বামী সাবেক এসপি বাবুল আক্তার। তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কয়েকটি সূত্রের দাবি, মিতু হত্যাকাণ্ডে বাবুল আক্তারের সম্পৃক্ততা রয়েছে। তাই তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তবে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী কমিশনার মো. কামরুজ্জামান বলেন, ‘মামলার তদন্তে এখনো পর্যন্ত বাবুল আক্তারের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি। যদি তার সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়, তাহলে তাকে অবশ্যই গ্রেফতার করা হবে।’ প্রসঙ্গত, গত ৫ জুন নগরীর জিইসি’র মোড় এলাকায় ছেলেকে স্কুল বাসে তুলে দিতে যাওয়ার পথে দুর্বৃত্তদের হাতে খুন হন এসপি বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু। এ ঘটনার পর বাবুল আক্তার বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে মামলা দায়ের করেন।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow