Bangladesh Pratidin

ঢাকা, সোমবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২৩:০৯
যুদ্ধাপরাধীর সম্পত্তির সুরাহা নতুন আইনে
নিজস্ব প্রতিবেদক
যুদ্ধাপরাধীর সম্পত্তির সুরাহা নতুন আইনে
আনিসুল হক

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে যাদের ফাঁসি কার্যকর হয়েছে, যারা দণ্ডপ্রাপ্ত হয়েছেন তাদের সম্পত্তির বিষয়ে জনগণের একটা দাবি উঠেছে। সেই দাবিটা পূরণে সরকার আইনি প্রক্রিয়া গ্রহণে চিন্তাভাবনা করছে। এর জন্য হয়তো বর্তমান আইন সংশোধন করা যেতে পারে অথবা নতুন আইন করতে হবে। তবে নতুন আইন করাই শ্রেয়।

গতকাল সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সংবাদ সম্মেলনে দুই মন্ত্রীর বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আদালতের শপথ ভঙ্গের রায়ের পরও তাদের মন্ত্রিত্ব হারানোর কোনো প্রয়োজন নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি। আইনমন্ত্রী বলেন, একটি (ফেইজে) ধাপে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শেষ হয়েছে। যাদের ফাঁসি কার্যকর হয়েছে তাদের সম্পত্তির বিষয়ে আদালত নতুন করে সিদ্ধান্ত দিতে পারবে না। আইনিভাবে তার সুযোগও নেই। তা ছাড়া মুসলিম আইন অনুযায়ী তাদের সম্পত্তির মালিক উত্তরাধিকারীরা হয়েছেন। নতুন আইন হলে তাদের কাছ থেকে সম্পত্তি ফিরিয়ে নেওয়া যাবে। মুক্তিযুদ্ধকালের মানবতাবিরোধী অপরাধে সংগঠনের বিচারের লক্ষ্যে আইন সংশোধনের প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনের অপেক্ষায় আছে। জামায়াতের বিচারের জন্য উপযুক্ত আইন করা হচ্ছে বলেও ইঙ্গিত দেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, আমরা জনগণের সরকার, এ সরকার আসনে বসেছে যেন জনগণের মুখে হাসি ফোটে। জনগণের দাবি পূরণে যে পদক্ষেপই নেওয়া হোক, তা আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হবে। আইসিটি (আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল) আইনের মধ্যে একটি সুযোগ করা যেতে পারে বা নতুন আইন করা যেতে পারে। আইনটি সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার জন্যই করা হচ্ছে কিনা— এমন প্রশ্নের জবাবে আনিসুল হক বলেন, আমি বাজেয়াপ্ত করার কথা বলিনি, বাজেয়াপ্ত করা হবে কিনা, তা কোর্ট নির্ধারণ করবে।

মন্ত্রিত্ব হারানোর প্রয়োজন নেই : খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হকের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আদালতের শপথ ভঙ্গের রায়ের পরও তাদের মন্ত্রিত্ব হারানোর কোনো প্রয়োজন নেই। আমি মনে করি, এমপিদের ডিসকোয়ালিফিকেশন সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদে স্পষ্ট বলা আছে। সেখানে কিন্তু সেই ডিসকোয়ালিফিকেশনের মধ্যে মন্ত্রীরা পড়েন না, এই সাজার পরও। সেহেতু আমার মনে হয়, কনটেমপ্ট না হয়, সেই আবেদনেই বলছি, তাদের মন্ত্রিত্ব থেকে পদত্যাগ বা পদ হারানোর কোনো প্রয়োজন নেই, কারণ নেই। তিনি বলেন, এ দেশে গণতন্ত্রের বয়স খুব কম। এখানে শপথ ভঙ্গের জন্য কোনো দণ্ড নেই যে, এটা করতে হবে, ওটা করতে হবে। এ রকম কোনো আইনও নেই, বিধানও নেই। কোনো কনভেনশনও নেই। বিচারপতিরা রায় দিয়েছেন। পাঁচজন বিচারপতি বলে দেননি যে, শপথ ভঙ্গ হয়েছে। তারা বলে দেননি যে, শপথ ভঙ্গের কারণে মন্ত্রিত্ব নেই। বরং তারা যেটা বলেছেন, এই শপথ ভঙ্গের কারণে তারা যে ক্ষমা চেয়েছিলেন, তা না করে শাস্তি দিচ্ছি। তিনজন বিচারপতি শপথ ভঙ্গের ব্যাপারে ঐকমত্য প্রকাশ করেননি। তারা পরিষ্কার বলেছেন, যখন তাদের বিচার করা হচ্ছে, তখন এ ইস্যুটা সামনে আসেনি। এ ইস্যু নিয়ে কোনো রুল জারি করা হয়নি। যেহেতু রুল জারি করা হয়নি, সেহেতু বিবেচনায় আনাই আইনসম্মত না। তাদের জবাব দেওয়ার অধিকার আমরা দিইনি। যদি রুল জারি করা হতো, তাহলে তারা জবাব দিতে পারতেন। এই বিচারকরা অনেক উদাহরণ দেখিয়েছেন। জাজমেন্টের মধ্যেই এ উদাহরণ আছে। তারা বলেছেন, শপথ ভঙ্গের ব্যাপারে আমরা কনসিডার করতে পারি না।

শিবিরের কার্যক্রম বন্ধে ব্যবস্থা হচ্ছে : ছাত্রশিবিরের কার্যক্রম বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, সংগঠন হিসেবে জামায়াতের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারও হবে। ছাত্রশিবিরের কার্যক্রম বন্ধের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপ-আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি, কীভাবে তাদের কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করা যায়। দল বা সংগঠন হিসেবে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার করে জামায়াত নিষিদ্ধ করার বিষয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৩ সালের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালস আইনটি সংশোধন করা উচিত। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল দুটি রায়ের পর্যবেক্ষণে সংগঠন হিসেবে জামায়াতের যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের তদন্ত করে খতিয়ে দেখতে বলেছে।

বিচার বিভাগের সচিবালয় করতে সংসদে আইন পাস করতে হবে : বিচার বিভাগ সম্পর্কে বলতে গিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে একটি কেন্দ্রীয় সচিবালয় রয়েছে। এ ছাড়া আর কোনো সচিবালয় নেই। তবে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর জন্য পৃথক কার্যালয় আছে। বিচার বিভাগের জন্য পৃথক সচিবালয় করতে হলে, তার জন্য একটি প্রস্তাব করতে হবে। মন্ত্রিসভায় অনুমোদন হতে হবে এবং তা সংসদে তুলে আইন পাস করতে হবে। আনিসুল হক বলেন, বিচার বিভাগের জন্য পৃথক সচিবালয় স্থাপনের বিষয়টি আইন মন্ত্রণালয়ের কর্মপরিধির বাইরে। এ বিষয়ে একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি সম্প্রতি অভিযোগ করেছেন, পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠায় মন্ত্রণালয় সহযোগিতা করছে না। এখানে আমি কাউকে দোষারোপ করছি না। তবে এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে জাতি যাতে বিভ্রান্ত না হয়, সেজন্য আমি এ বিষয়ে আমার অবস্থান পরিষ্কার করলাম। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা রক্ষার্থে আইন মন্ত্রণালয়ের যা করা দরকার তা করছি। যে দেশে বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার বিচার থামাতে ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ পাস হয়, সে দেশে আইনের শাসন আছে, এটা কীভাবে বলা হয়? ওই দিন থেকেই দেশে আইনের শাসন ছিল না। তবে বর্তমান সরকার যেদিন থেকে বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার বিচারের পথ খুলেছে, সেদিন দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা শুরু হয়েছে। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা রক্ষায় আমাদের যে অঙ্গীকার, তা থেকে আমরা একচুলও নড়ব না। আমাদের সংবিধানে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা সম্পর্কে যা বলা হয়েছে, তাই থাকবে। এটা কমবে না বরং আরও বাড়বে। এজন্য সরকারের পক্ষ থেকে যা করার দরকার তা করা হবে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow