Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : শুক্রবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২২:৪২
মাঠে নামার ইস্যু খুঁজছে বিএনপি
সৌদিতে খালেদা-তারেক সাক্ষাৎ, ভবিষ্যৎ নিয়ে পরিকল্পনা
শফিউল আলম দোলন
মাঠে নামার ইস্যু খুঁজছে বিএনপি

আন্দোলনে মাঠে নামার ইস্যু খুঁজছে বিএনপি। ইতিমধ্যে দলটি ঈদের পর রামপাল কয়লা বিদ্যুেকন্দ্র নির্মাণ বন্ধের দাবিতে মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

এ জন্য তারা সমমনা দলগুলোকে কাছে টানার চেষ্টা করছে। রামপালের পাশাপাশি জনমুখী নানা ইস্যুতে আরও বড় পরিসরে মাঠে নামারও পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। এ জন্য আওয়ামী লীগ জোটের  বাইরের রাজনৈতিক দলগুলোকেও সম্পৃক্ত করার সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলামের মতে, এটি হবে দেশ ও জনগণের স্বার্থে বৃহত্তর একটি ‘রাজনৈতিক প্লাটফরম’। জাতীয় স্বার্থ রক্ষার আন্দোলনে সব রাজনৈতিক দল ও সংগঠনসহ শ্রেণি পেশা নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষের জন্য তাদের দরজা সদা উন্মুক্ত বলে জানান মির্জা ফখরুল।

এদিকে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান ইতিমধ্যে সৌদি আরবে হজ উপলক্ষে একত্র হয়েছেন। সেখানেই তারা দল ও জোটের পরবর্তী করণীয় নির্ধারণসহ কর্মসূচি চূড়ান্ত করবেন বলে মনে করছে দলীয় নীতিনির্ধারক মহল। খালেদা জিয়া হজ পালন শেষে দেশে ফেরার পরই রামপাল ইস্যুতে কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। এমনটিই জানালেন দলের স্থায়ী কমটির একাধিক সদস্য।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, রামপালসহ এ ধরনের বিভিন্ন জনমুখী ইস্যুতে ডান-বাম-মধ্য ও ইসলামপন্থি সব দলের নেতৃবৃন্দসহ ব্যাপক জনসম্পৃক্ততার একটি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, এক্ষেত্রে যোগাযোগের মূল দায়িত্বে আছেন জেএসডি সভাপতি আ স ম রব ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। প্রক্রিয়াটি ইতিমধ্যে অনেক দূর এগিয়েছে বলেও জানা গেছে। ড. কামাল হোসেনের গণফোরাম আর সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ড. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর বিকল্পধারাও নতুন এই রাজনৈতিক প্লাটফর্মে যুক্ত হচ্ছে। বিকল্পধারা বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ড. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, দেশ ও জনগণের বৃহত্তর স্বার্থে যে কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের সঙ্গে আমরা কাজ করতে রাজি। দেশে এখন যে দুঃসহ অবস্থা চলছে, তা থেকে মানুষকে রক্ষা করার জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার কোনো বিকল্প নেই। মানুষের জানমালের কোনো নিরাপত্তা নেই এখন দেশে। সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদের পাশাপাশি দেশের স্বার্থ জলাঞ্জলি দেওয়ারও উপক্রম হয়েছে। সংশ্লিষ্ট অপর একটি সূত্রে জানা গেছে, ঈদের পর বিএনপি রামপাল ইস্যুতে লংমার্চ, রোডমার্চের মতো কর্মসূচি ঘোষণা করতে পারে। নতুন রাজনৈতিক প্লাটফর্মের দলগুলোকে এতে সম্পৃক্ত করার পাশাপাশি থাকবে ২০-দলীয় জোট। রামপালের পাশাপাশি জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ইস্যুতেও কীভাবে আরও কর্মসূচি নেওয়া যায় সে ব্যাপারেও চিন্তাভাবনা চলছে। বিশেষ করে আগামী নভেম্বর মাসকে তারা পূর্ণমাত্রায় আন্দোলনের মাস হিসেবে নানা কর্মসূচি দিয়ে রাজনীতির মাঠকে চাঙ্গা করবে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন সম্প্রতি প্রকাশ্যেই বলেছেন, সরকারের পায়ের নিচের মাটি সরে গেছে। সামান্য ধাক্কা দিলেই সরকার পড়ে যাবে। কাজেই আর বসে থাকার সময় নেই। সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

আন্দোলন ইস্যুতে নতুন চলমান ঐক্য প্রক্রিয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, আমার নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাভিত্তিক রাষ্ট্র নির্মাণের জন্য অনেক দিন যাবৎ একটি ঐক্য প্রক্রিয়া চলছে। সুস্থ ধারার বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং সংগঠনের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা অব্যাহত আছে। প্রক্রিয়াটি সময়সাপেক্ষ, সময় হলেই আপনাদের বিস্তারিত জানানো হবে। যেহেতু প্রক্রিয়াধীন, সেহেতু কারা কারা থাকবে তা প্রকাশ করার সময় এখনো হয়নি। জনগণের অংশগ্রহণের মাধ্যমে কিছু সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়েই একটি প্লাটফর্ম তৈরি করা হবে। যা জনগণের এবং দেশের স্বার্থে কাজ করবে। সর্বোপরি প্রতিহিংসার রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে পরিবেশ রক্ষার আন্দোলনের মাধ্যমে কিছু যুগোপযোগী নির্দেশনার প্রস্তাবের মাধ্যমে এই ঐক্য সুফল বয়ে আনবে। গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেন, নতুন করে আন্দোলনের ইস্যু খোঁজার তো কোনো দরকার নেই। দেশ যে অবস্থায় গিয়ে ঠেকেছে, কোনো সুস্থ মানুষ এই জঙ্গিবাদ বা সন্ত্রাসবাদকে সমর্থন করতে পারে না। ’৭১ সাল ছাড়া বাংলাদেশের ইতিহাসে এ রকম অস্বস্তিকর পরিবেশ আর কখনো আসেনি। মানুষকে যারা জবাই করে হত্যা করছে এরা মানুষ নয়। এদের রুখতে দল-মত নির্বিশেষ সবাইকে অবশ্যই ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। সেটি যার নেতৃত্বে বা যে আঙ্গিকেই হোক না কেন। আমি বার বার এই আহ্বানই জানিয়ে আসছি।

সৌদি আরবে খালেদা-তারেক : সৌদি বাদশা সালমান বিন আবদুল আজিজ আল-সৌদের আমন্ত্রণে পবিত্র হজ পালনের উদ্দেশে সৌদি আরবে পৌঁছেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সে দেশের স্থানীয় সময় রাত ১০টা ২০ মিনিটে সৌদি এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে জেদ্দা কিং আবদুল আজিজ বিমানবন্দরে পৌঁছেন খালেদা জিয়া। অন্যদিকে গতকাল স্থানীয় সময় ভোর ৫টায় এমিরেটস এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে সপরিবারে জেদ্দা পৌঁছেন বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সৌদি আরব বিএনপির সভাপতি আহমদ আলী মুকিবের নেতৃত্বে কয়েক হাজার নেতা-কর্মী বিমানবন্দরে বেগম খালেদা জিয়াকে স্বাগত জানান। এ সময় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে স্থানীয় প্রশাসন। এদিকে তারেক রহমানের সঙ্গে আছেন তার স্ত্রী ডা. জোবায়দা রহমান, মেয়ে জায়মা রহমান ও ছোট ভাই মরহুম আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী ও দুই কন্যা। খালেদা জিয়ার সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন তার মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক উপদেষ্টা এনামুল হক চৌধুরী, একান্ত সচিব এবিএম আবদুস সাত্তার, ফটোগ্রাফার নুরুদ্দিন আহমেদসহ একজন গৃহপরিচারিকা। বিমানবন্দরে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সৌদি আরব বিএনপির সভাপতি আহমদ আলী মুকিবের সঙ্গে সৌদি বিএনপির উপদেষ্টা আবদুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম, জেদ্দা মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক আজাদ চয়ন, সদস্য সচিব মনিরুজ্জামান তপন, কেফায়তউল্লাহ কিসমতসহ বিএনপি অঙ্গ সংগঠনের কয়েক হাজার নেতা-কর্মী তাদের প্রিয় নেত্রীকে অভ্যর্থনা জানান। পবিত্র হজ পালন শেষে আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর খালেদা জিয়া দেশে ফিরবেন। একই দিন তারেক রহমানও যুক্তরাজ্যের উদ্দেশে রওনা দেবেন।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow